পাট-চাষীরা এমন বিপর্যয়ের কথা কল্পনাও করতে পারেননি
সাশ্রয় নিউজ ★ কলকাতা : রাজ্যের পাট-চাষীরা কল্পনাও করতে পারেননি এদিন দেখতে হবে! রাজ্যের বড় অংশের কৃষকরা পাটের উৎপাদনের দিকে আশায় বুক বাঁধেন। সাংসারিক একাধিক পরিকল্পনাও করে ফেলেন পাটকে ঘিরে। বাঙালি চাষীদের অন্যতম এই ফসল চাষীদের ঘরে অর্থনৈতিক ভারসাম্য তৈরি করে। সেই ফসলের দিকে তাকিয়ে থাকেন কৃষকদের একটি বড় অংশ। শ্রমিকরাও এই ফসলের বোনা থেকে ঘরে তোলা পর্যন্ত কাজ পান।
চলতি বছরে কী এমন হল পাট চাষীদের! কেন মাথায় হাত? পাটের দাম নিয়ে এমন টাল-বাহানা তৈরি হবে কেউ কল্পনাও করতে পারেননি। কৃষকদের কথায়, ‘পাটচাষ করতে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রচুর খরচ। এবার পাটের দাম এভাবে পড়ে যাবে কেউ ভাবতেই পারেনি। কিছুই হল এবার। ঘর থেকে পয়সা গেল।’ আরেক চাষীর কথায়, ‘পাট ঘরে তুলে রাখতেই পারলাম না। পাটের দাম নেই। মুনিষের খরচেই সব চলে গেল!’
প্রসঙ্গত, পাট-চাষীরা ভবেননি এবার পাটের দাম ৩৪০০-৩৫০০ টাকা কুইন্টাল হবে! এভাবে পাটের দাম পড়ে যাওয়ায় তাঁদের দিশেহারা অবস্থা। পরের ফসল ফলানোর জন্য কী করবেন ভেবে পাচ্ছেন না! তাঁদের কথায়, পাট ধোয়া, ছাড়ানোর শ্রমিকদের খরচ অনেক! পাটের যা দাম শ্রমিকদের মজুরি দিতে গিয়েই নাভিশ্বাস উঠে গিয়েছে! এছাড়াও পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ার জন্য পাট পচানোর জন্যও আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি কৃষকরা। বিগত ক’য়েক বছর থেকেই বৃষ্টির পরিমাণ কমে গিয়েছে। বর্ষাকালে বৃষ্টির দেখা মেলেনি তেমন। পাট পচানোর খাদ গর্ত শুকনো। স্যালো-মেশিন দিয়ে খাদ-গর্তে জল পুরে বহু কৃষক পাট পচিয়েছেন। তাঁদের কথায়, জমি তো পরিষ্কার করতে হবে! এখন দামও নেই।
কেন এমন হল? এক বাম রাজনৈতিক নেতার কথায়, এই রাজ্যের ও কেন্দ্রের নেতারা কৃষি ও কৃষকদের দিকে নজর দেন না। কৃষি আমাদের ভিত্তি, তা রাজ্য ও কেন্দ্র ভুলে গিয়েছেন। চোখে পড়ার মতন সরকারি উদ্যোগ নেই পাট-চাষীদের থেকে কেনার। রাজ্যের চটকগুলো প্রায় বন্ধ। বন্ধ চটকল খোলার কোনও খবর নেই এঁদের! উৎসবের মরশুম দোরগোড়ায়। পাটের দাম বৃদ্ধির দাবীতে বাম-কৃষক সংগঠনগুলি আন্দোলনে নেমেছে।




