সাশ্রয় নিউজ, কলকাতা: ভোট গণনার গতি ও সিসিটিভি (CCTV Controversy) সংক্রান্ত বিতর্ককে ঘিরে তৈরি হওয়া জল্পনা সম্পূর্ণভাবে খারিজ করে দিলেন Election Commission of India – র বিশেষ পর্যবেক্ষক Subrata Gupta। সোমবার সকাল থেকে গণনা শুরু হওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, গণনার ট্রেন্ড ধীরগতিতে আসার কোনও নির্দিষ্ট কারণ নেই এবং এ নিয়ে অযথা বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ‘রিটার্নিং অফিসাররা (Returning Officers) যতগুলি কাউন্টিং টেবিল (Counting Tables) চেয়েছিলেন, কমিশন তার সবকটিই বরাদ্দ করেছে। ফলে গণনায় গতি কমার প্রশ্নই ওঠে না।’ কিছু কেন্দ্রে গণনা শুরুতে সামান্য বিলম্ব প্রসঙ্গে তিনি জানান, কড়া নিরাপত্তা বলয় (Multi-layer Security) অতিক্রম করে কাউন্টিং এজেন্টদের ঢুকতে সময় লাগার কারণেই এই বিলম্ব হয়েছে। তবে সব জায়গাতেই ধীরে ধীরে গণনা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হয়েছে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।
এই আবহেই হাইভোল্টেজ Bhabanipur কেন্দ্রে নাটকীয় মোড় দেখা গেছে। প্রাথমিকভাবে পিছিয়ে থাকলেও পরে ঘুরে দাঁড়িয়ে প্রায় ১৯০০-র বেশি ভোটে লিড নিয়েছেন Mamata Banerjee। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী Suvendu Adhikari – কে পেছনে ফেলে এই লিড রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, পোস্টাল ব্যালট (Postal Ballot) থেকে ইভিএম (EVM – Electronic Voting Machine) গণনায় আসার সঙ্গে সঙ্গে ট্রেন্ডের পরিবর্তন হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। গণনার আগের রাতে স্ট্রংরুমের সিসিটিভি বন্ধ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ নিয়েও মুখ খুলেছেন পর্যবেক্ষক। তিনি জানিয়েছেন, “কিছু ক্ষেত্রে যান্ত্রিক ত্রুটি (Technical Glitch) বা ‘স্লিপ মোড’ (Sleep Mode) – এ চলে যাওয়ার কারণে ৫-১০ মিনিটের জন্য ক্যামেরা বন্ধ ছিল। তবে রিটার্নিং অফিসাররা দ্রুত তা ঠিক করে পুনরায় চালু করেন।” তাঁর দাবি, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে বড়সড় কারচুপির অভিযোগ উঠছে, তার কোনও ভিত্তি নেই।
আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও কমিশনের কড়া অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে। সুব্রত গুপ্ত জানিয়েছেন, ‘ফলাফল যাই হোক, সোমবার রাজ্যের কোথাও কোনও বিজয় মিছিল (Victory Rally Ban) করা যাবে না।’ এই নির্দেশের মাধ্যমে গণনার দিন উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে রাখাই মূল লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলির তরফে অবশ্য এই ইস্যু নিয়ে ভিন্নমতও উঠে এসেছে। যদিও কমিশন বারবার স্বচ্ছতা (Transparency in Counting Process) বজায় রাখার কথা বলেছে, তবুও কিছু দল নজরদারি আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছে।সিসিটিভি বিতর্ক, গণনার গতি এবং কেন্দ্রভিত্তিক ওঠানামার মধ্যে দিয়ে বাংলার ভোটগণনা এক উত্তেজনাপূর্ণ মোড়ে পৌঁছেছে। এখন নজর চূড়ান্ত ফলাফলের দিকে, যা নির্ধারণ করবে রাজ্যের আগামী রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।



