সাশ্রয় নিউজ, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার দিন উপস্থিত হতেই রাজ্যের প্রতিটি গণনাকেন্দ্রকে ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা (West Bengal Election Counting Security) জারি করা হয়েছে। সোমবার সকাল থেকেই কড়া পুলিশি নজরদারি, কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন এবং প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে গণনা প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ (Transparent Counting Process) রাখার উপর জোর দেওয়া হয়েছে Election Commission of India – র পক্ষ থেকে।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক Manoj Kumar Agarwal জানিয়েছেন, ‘প্রতিটি গণনাকেন্দ্রে প্রস্তুতি সম্পূর্ণ এবং নিরাপত্তায় কোনো আপস করা হয়নি।’ একইসঙ্গে নির্বাচনী পর্যবেক্ষক Subrata Gupta স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে রাজ্যের কোথাও কোনো রাজনৈতিক দলকে বিজয়মিছিল (Victory Rally Ban) করার অনুমতি দেওয়া হবে না। তাঁর কথায়, “ফলাফল ঘোষণার দিন যাতে কোনও উত্তেজনা না ছড়ায়, সে কারণেই এই সিদ্ধান্ত। ‘কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতিটি গণনাকেন্দ্রে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় (Three-tier Security System) গড়ে তোলা হয়েছে। প্রথম স্তরে রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী (Central Armed Police Forces), দ্বিতীয় স্তরে রাজ্য পুলিশ এবং তৃতীয় স্তরে রয়েছে বিশেষ নজরদারি দল। কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, কোনো স্তরে গাফিলতি হলে তার দায় অন্য স্তরের ওপর বর্তাবে না – প্রত্যেককেই নিজ নিজ দায়িত্ব কঠোরভাবে পালন করতে হবে।
গণনা প্রক্রিয়াকে আরও নির্ভুল ও স্বচ্ছ রাখতে মোট ২৪২ জন অতিরিক্ত গণনা পর্যবেক্ষক (Counting Observers) নিয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৭৭ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক (Police Observers) মোতায়েন করা হয়েছে, যাঁদের প্রধান কাজ গণনাকেন্দ্রের বাইরের নিরাপত্তা এবং জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ করা। প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি নজরদারি (CCTV Surveillance), লাইভ ওয়েবকাস্টিং (Live Webcasting) এবং ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা চালু রাখা হয়েছে। গণনার আগে থেকেই রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে থাকায় Mamata Banerjee দলীয় কর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে তিনি জানিয়েছেন, “ইভিএম (EVM – Electronic Voting Machine) এবং পোস্টাল ব্যালটে কারচুপির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না, তাই কর্মীদের রাত জেগে স্ট্রংরুম পাহারা দিতে হবে। ‘সন্দেহজনক কিছু নজরে এলে সঙ্গে সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজ দাবি করে অভিযোগ জানানোর কথাও বলা হয়েছে তাঁর পক্ষ থেকে। উল্লেখযোগ্যভাবে, তিনি নিজে ভবানীপুরের Sakhawat Memorial School – এ দীর্ঘ সময় উপস্থিত থেকে নজরদারি চালিয়েছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে Bharatiya Janata Party এই অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে এবং নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, ‘গণনা সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে হবে এবং ফলাফল জনগণের রায়ই প্রতিফলিত করবে।’ সাধারণ ভাবেই উল্লেখ যে, কড়া নিরাপত্তা, প্রযুক্তিগত নজরদারি এবং প্রশাসনিক তৎপরতার মধ্যে দিয়ে শুরু হয়েছে বাংলার ভোট গণনা। এখন নজর ফলাফলের দিকে, যা নির্ধারণ করবে রাজ্যের আগামী রাজনৈতিক দিকনির্দেশ।



