US visa health conditions | ডায়াবেটিস, স্থূলতা থাকলে মিলবে না ভিসা? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নির্দেশ ঘিরে চাঞ্চল্য

SHARE:

ট্রাম্প প্রশাসন পূর্বেও ‘Public Charge Rule’ নামে একটি নীতি চালু করেছিল, যেখানে বলা হয়েছিল, যারা সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভর করেন, তাঁদের ভিসা বা গ্রিন কার্ড দেওয়া হবে না। ২০২১ সালে বাইডেন (Joe Biden) প্রশাসন সেটি বাতিল করলেও, নতুন এই পদক্ষেপে সেই নীতির পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি মার্কিন অভিবাসন নীতিকে আরও সীমাবদ্ধ ও বৈষম্যমূলক করে তুলবে।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ ওয়াশিংটন : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে (United States) স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য বিদেশিদের ভিসা আবেদন নতুন করে বিপাকে ফেলতে পারে এক বিতর্কিত নির্দেশ। ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের জারি করা নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যেসব বিদেশি আবেদনকারীর ডায়াবেটিস (Diabetes), স্থূলতা (Obesity), ক্যান্সার (Cancer) বা হৃদরোগের মতো স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ভিসা “নাকচ” (Denied) করা হতে পারে। এই নির্দেশ প্রকাশ্যে আসার পরই বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। কেএফএফ হেলথ নিউজ (KFF Health News) -এর একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউসের মতে এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য হল, এমন বিদেশিদের রুখে দেওয়া, যারা আমেরিকায় এসে সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন। প্রশাসনের দাবি, এমন প্রবাসীরা মার্কিন অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করেন এবং স্বাস্থ্যখাতে বিপুল ব্যয় ঘটান।

রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, এই নির্দেশ একটি গোপন সরকারি নথির (কেবল বা State Department Cable) মাধ্যমে দূতাবাস ও কনস্যুলেট অফিসারদের কাছে পাঠানো হয়েছে। তাতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে: “You must consider an applicant’s health… Certain medical conditions, including cardiovascular diseases, cancers, diabetes, metabolic and neurological disorders, can require hundreds of thousands of dollars’ worth of care.”

অর্থাৎ, আবেদনকারীর স্বাস্থ্য পরিস্থিতি যাচাই করে দেখা হবে তিনি আমেরিকায় প্রবেশের পর সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর কতটা নির্ভরশীল হতে পারেন। কেবলটিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, স্থূলতাকেও (Obesity) এখন এক গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে ধরা হবে, কারণ এর ফলেই অনেক সময় অ্যাজমা (Asthma), স্লিপ অ্যাপনিয়া (Sleep Apnea) এবং উচ্চ রক্তচাপের (High Blood Pressure) মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগ দেখা দেয়। এই সব চিকিৎসা ব্যয়বহুল ও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায়, আবেদনকারীর আর্থিক সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। নির্দেশে বলা হয়েছে: “Does the applicant have adequate financial resources to cover the costs of such care over his entire expected lifespan without seeking public cash assistance or long-term institutionalization at government expense?”
অর্থাৎ আবেদনকারী তাঁর সারাজীবনের চিকিৎসা খরচ সরকারি ভরসা ছাড়াই বহন করতে পারবেন কিনা, সেটাই নির্ধারণ করবে ভিসা অনুমোদনের ভাগ্য।

শুধু আবেদনকারীই নয়, তাঁর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের (Dependents) স্বাস্থ্যও এ ক্ষেত্রে বিবেচনায় আসবে। যেমন বয়স্ক বাবা-মা বা বিশেষ প্রয়োজন সম্পন্ন সন্তান থাকলে, তাঁদের যত্ন নেওয়ার কারণে আবেদনকারী নিয়মিত কাজ করতে পারবেন কিনা, সেটিও ভিসা অফিসারদের মূল্যায়নের অংশ হবে। নথিতে সরাসরি বলা হয়েছে,
“Do any of the dependents have disabilities, chronic medical conditions, or other special needs and require care such that the applicant cannot maintain employment?”

উল্লেখ্য, বিগত কয়েক দশক ধরে মার্কিন ভিসা প্রক্রিয়ায় আবেদনকারীদের কিছু সংক্রামক রোগ, যেমন যক্ষ্মা (Tuberculosis) -এর জন্য পরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক ছিল। টিকাকরণের ইতিহাসও দেখা হয়। কিন্তু নতুন নির্দেশ সেই সীমারেখা অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন থেকে শুধু সংক্রামক নয়, অ-সংক্রামক বা ক্রনিক রোগও (Chronic Diseases) ভিসা প্রক্রিয়ায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে বহু দক্ষ প্রবাসী ও পেশাদার অভিবাসীর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দরজা আরও কঠিন হয়ে উঠবে। চার্লস হুইলার (Charles Wheeler), ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্কের (Catholic Legal Immigration Network) সিনিয়র অ্যাটর্নি, বলেন: “This directive potentially applies to almost all visa applicants, but in practice, it will mostly impact those seeking permanent residency.”
তিনি আরও বলেন, “এই নির্দেশনা আসলে এক প্রকার ‘স্বাস্থ্য বাছাই নীতি’ যেখানে ধনী ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ আবেদনকারীরাই সুবিধা পাবে।”

অন্যদিকে, মানবাধিকার সংস্থা ও স্বাস্থ্য অধিকার কর্মীদের মতে, এটি এক প্রকার বৈষম্যমূলক নীতি (Discriminatory Policy)। তাঁদের দাবি, এই পদক্ষেপ অসুস্থ বা চিকিৎসা-নির্ভর মানুষদের মানবাধিকারে আঘাত হানবে। এক অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞ মন্তব্য করেন, “যদি সরকার সত্যিই এই নির্দেশ কার্যকর করে, তাহলে ডায়াবেটিস বা স্থূলতা থাকা লক্ষ লক্ষ মানুষ আমেরিকায় বসবাসের স্বপ্ন চিরতরে হারাবেন।” এই নির্দেশ আপাতত বিদেশি দূতাবাসগুলোয় পাঠানো হয়েছে এবং এখনই কার্যকর হয়নি। তবে মার্কিন প্রশাসনের নীতিনির্ধারণী মহলে আলোচনার সূত্র ধরে বোঝা যাচ্ছে, ২০২৫ সালের শুরুতেই এটি প্রয়োগ করা হতে পারে।

উল্লেখ্য, ট্রাম্প প্রশাসন পূর্বেও ‘Public Charge Rule’ নামে একটি নীতি চালু করেছিল, যেখানে বলা হয়েছিল, যারা সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভর করেন, তাঁদের ভিসা বা গ্রিন কার্ড দেওয়া হবে না। ২০২১ সালে বাইডেন (Joe Biden) প্রশাসন সেটি বাতিল করলেও, নতুন এই পদক্ষেপে সেই নীতির পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি মার্কিন অভিবাসন নীতিকে আরও সীমাবদ্ধ ও বৈষম্যমূলক করে তুলবে। আর তার সরাসরি প্রভাব পড়বে দক্ষিণ এশীয় দেশগুলির, বিশেষত ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের আবেদনকারীদের ওপর, যেখানে ডায়াবেটিস ও স্থূলতার হার তুলনামূলক বেশি।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Gaza ceasefire warning, Donald Trump Hamas warning | ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি: ‘শুধরে না গেলে হামাসকে সমূলে নির্মূল করা হবে’ শান্তিচুক্তির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত!

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন