সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলল। কেন্দ্রীয় রেল মন্ত্রক একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রেল প্রকল্পে অনুমোদন দেওয়ায় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে নতুন করে আশার আলো দেখা দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে পাঠানো চিঠিতে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, উত্তরবঙ্গ থেকে জঙ্গলমহল হয়ে উপকূলীয় অঞ্চল, সব জায়গাতেই রেল অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ এগোবে দ্রুত গতিতে। সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে দীঘা (Digha) থেকে তাজপুর (Tajpur) পর্যন্ত নতুন রেলপথের সম্ভাবনা। দীর্ঘদিন ধরেই পর্যটন মানচিত্রে জায়গা করে নেওয়া তাজপুরে সরাসরি ট্রেন পরিষেবা চালুর দাবি উঠছিল। সেই প্রেক্ষিতেই প্রায় ৭.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রস্তাবিত রেললাইনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য সমীক্ষার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক মহলের মতে, এই রেলপথ চালু হলে দিঘা-তাজপুর উপকূলীয় পর্যটন আরও গতিশীল হয়ে উঠতে পারে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই বিষয়ে বলেন, ‘রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রেল যোগাযোগ উন্নত করা আমাদের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে। কেন্দ্রের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে এই প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের দিকে এগোনো হবে।’ তাঁর কথায়, এই উদ্যোগ শুধু যাতায়াত নয়, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। রেল মন্ত্রকের অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পগুলির মধ্যে অন্যতম হল নিউ জলপাইগুড়ি (New Jalpaiguri) থেকে শিলিগুড়ি (Siliguri) পর্যন্ত ডবল লাইন। উত্তরবঙ্গের এই ব্যস্ত রুটে ট্রেনের চাপ সামলাতে বহুদিন ধরেই ডবল লাইনের দাবি উঠছিল। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ট্রেন চলাচল আরও দ্রুত এবং নিরবচ্ছিন্ন হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এছাড়া সাঁতরাগাছি (Santragachi) থেকে জয়পুর, ঝাড়গ্রাম (Jhargram)-এর মধ্যে রেললাইন সম্প্রসারণের কাজেও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। জঙ্গলমহল অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলে রেল পরিষেবা সম্প্রসারণের দাবি ছিল, যা এবার বাস্তব রূপ পেতে চলেছে। আরও একটি বড় ঘোষণা হল শালবনি (Salboni) থেকে আড়া (Ara) পর্যন্ত প্রায় ১০৭ কিলোমিটার দীর্ঘ নতুন রেললাইন প্রকল্প। এই রুট চালু হলে পশ্চিমাঞ্চলের বহু এলাকা সরাসরি রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হবে। শিল্প এবং বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে কাঁথি (Contai) থেকে ঝাড়গ্রাম পর্যন্ত একটি নতুন রেলপথের সম্ভাব্যতা সমীক্ষার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই প্রস্তাবিত রুট চালু হলে ১৮০৬১/১৮০৬২ ঝাড়গ্রাম, কাঁথি এক্সপ্রেস পরিষেবা আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এই সংযোগের, যা বাস্তবায়িত হলে উপকূল ও জঙ্গলমহলের মধ্যে যাতায়াত অনেক সহজ হবে।
পর্যটন ও অর্থনীতির দিক থেকেও এই প্রকল্পগুলির গুরুত্ব রয়েছে। দিঘা ও তাজপুরের মতো সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় ট্রেন পরিষেবা বাড়লে পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে বলেই মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা, হোটেল শিল্প এবং ছোটখাটো উদ্যোগগুলিও লাভবান হতে পারে। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, তমলুক (Tamluk) থেকে দিঘা পর্যন্ত প্রায় ১০৭ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথের জন্য ডিটেইলড প্রজেক্ট রিপোর্ট (Detailed Project Report) তৈরির লক্ষ্যে চূড়ান্ত স্থান সমীক্ষার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই সমীক্ষা সম্পূর্ণ হলে প্রকল্পের খরচ, রুট এবং প্রযুক্তিগত দিকগুলি নির্ধারণ করা হবে।
রাজনৈতিক মহলেও এই ঘোষণাকে ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের পরিকাঠামো উন্নয়নে বড় ভূমিকা নেবে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন যে কোনও রাজ্যের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি। নতুন রেললাইন চালু হলে পণ্য পরিবহণের খরচ কমবে, সময় বাঁচবে এবং বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে সংযোগ আরও মজবুত হবে। ফলে শিল্প বিনিয়োগ বাড়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়। শুভেন্দু অধিকারী এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘এই প্রকল্পগুলি শুধু রেললাইন নয়, উন্নয়নের নতুন দিশা দেখাবে। রাজ্যের প্রত্যন্ত এলাকা পর্যন্ত উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।’ তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, কেন্দ্র-রাজ্যের সমন্বয়ে ভবিষ্যতে আরও প্রকল্প আসতে পারে।
এখন নজর বাস্তবায়নের দিকে। সমীক্ষা, রিপোর্ট এবং প্রশাসনিক অনুমোদনের পর প্রকল্পগুলি কবে মাটিতে নামবে, সেটাই দেখার বিষয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বলা যায়, বাংলার রেল মানচিত্রে বড় পরিবর্তনের পথে প্রথম ধাপ ইতিমধ্যেই পেরিয়ে গিয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Post Poll Violence West Bengal, Suvendu Adhikari Speech | ভোট-পরবর্তী হিংসা ঘিরে বিধানসভায় তপ্ত বাকযুদ্ধ, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বনাম শোভনদেব, তৃণমূলকে কটাক্ষ নওশাদের



