সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ হলদিয়া : পূর্ব মেদিনীপুরে ভোটের আবহে জোরাল শক্তিপ্রদর্শন করল ভারতীয় জনতা পার্টি। নন্দীগ্রাম কেন্দ্রকে সামনে রেখে মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিনকে ঘিরে বড় রাজনৈতিক বার্তা দিলেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan) এবং খড়্গপুর সদরের প্রার্থী দিলীপ ঘোষকে (Dilip Ghosh) সঙ্গে নিয়ে শোভাযাত্রা করে তিনি হলদিয়া (Haldia) মহকুমাশাসকের দফতরে পৌঁছন। সেই কর্মসূচীকে ঘিরে জনসমাগম ও উচ্ছ্বাসের ছবি তুলে ধরে শুভেন্দুর দাবি, ‘মানুষ এখনই ভোট দিতে চাইছেন, আবেগে ভরপুর সমর্থন দেখা যাচ্ছে।’ সোমবার দুপুরে নন্দীগ্রাম, মহিষাদল (Mahishadal) এবং হলদিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থীরা একসঙ্গে মনোনয়ন জমা দেন। তার আগে সকালেই নন্দীগ্রামের রেয়াপাড়ায় (Reyapara) পুজো দেন শুভেন্দু। এরপর শুরু হয় বিশাল রোড শো, যেখানে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপস্থিতি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ধর্মেন্দ্র প্রধান ও দিলীপ ঘোষের উপস্থিতি বিজেপির নির্বাচনী কৌশলের একটি বড় দিক বলেই ধরা হচ্ছে।
মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘রোড শো’য়ের ভিড় দেখে মনে হচ্ছে মানুষ আর অপেক্ষা করতে চাইছেন না। যেন আগামীকালই ভোট হলে তারা বোতাম টিপে দিতেন।’ তিনি আরও জানান, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানও শোভাযাত্রার জনসমাগম দেখে মন্তব্য করেছেন, ‘ইস বার তিন গুণ হোগা’, যা বিজেপি শিবিরে আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়েছে। নন্দীগ্রামকে ঘিরে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘২০২১ সালে ভোটের হিসেব অনুযায়ী নন্দীগ্রাম কঠিন ছিল। তখন প্রায় ৬৪ হাজার মুসলিম ভোটার ছিলেন, যাঁদের বিভ্রান্ত করা হয়েছিল। সিএএ (CAA) নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছিল।’ তাঁর দাবি, বর্তমানে সেই পরিস্থিতি বদলেছে এবং ভোটারদের একাংশ নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ‘হিন্দু ভোটাররা আরও একজোট হয়েছেন’, যার ফলে এই কেন্দ্র এখন তাঁর কাছে তুলনামূলক সহজ। এই প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) সরাসরি আক্রমণ করেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, ‘মানুষ আর অপশাসন চান না।’ তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে রাজ্যের শাসনব্যবস্থা নিয়ে অসন্তোষের ইঙ্গিত, যা নির্বাচনী প্রচারে বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। শুধু নন্দীগ্রাম নয়, ভবানীপুর (Bhabanipur) কেন্দ্র নিয়েও আত্মবিশ্বাসী সুর শোনা যায় শুভেন্দুর গলায়। তিনি বলেন, ‘এসআইআর (SIR) হওয়ার পর ভবানীপুর এখন বিজেপির দখলে চলে এসেছে।’ অতীতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, ‘২০১৪ সালে দক্ষিণ কলকাতায় বিজেপির প্রার্থী তথাগত রায় (Tathagata Roy) লড়াই করার সময় ভবানীপুরে দল এগিয়ে ছিল।’ তাঁর অভিযোগ, ‘অনুপ্রবেশকারী এবং ভুয়ো ভোটারের সাহায্যে এতদিন ফলাফল প্রভাবিত হয়েছে’, যদিও এ বার সেই সুযোগ আর থাকবে না বলে তাঁর দাবি।
মনোনয়ন জমা দিয়ে বেরিয়ে ভবিষ্যৎ কর্মসূচীর কথাও জানান শুভেন্দু। তিনি বলেন, ‘২৩ এপ্রিল পর্যন্ত নন্দীগ্রাম ও রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় প্রচারে থাকব। প্রথম দফার ভোট শেষ হলে ২৪ তারিখ সকাল থেকে কলকাতায় যাব।’ এরপর ভবানীপুরে জোরদার প্রচারের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, ‘২৯ তারিখে মমতাকে হারানোর কাজ শেষ করে স্ট্রং রুম সিল করে ফিরব।’ উল্লেখ্য, এই মনোনয়ন পর্ব ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে পূর্ব মেদিনীপুরে। বিজেপির তরফে যে ধরনের শক্তিপ্রদর্শন দেখা গেল, তা নির্বাচনের আগে কর্মীদের উজ্জীবিত করার পাশাপাশি ভোটারদের কাছেও বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, শাসক দলও এই চ্যালেঞ্জের জবাব দিতে নিজেদের প্রচার কৌশল আরও জোরদার করবে বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা। অন্যদিকে, নন্দীগ্রাম বরাবরই বাংলার রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত। অতীতের জমি আন্দোলন থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক নির্বাচনী লড়াই, এই কেন্দ্র নজর কেড়েছে। ফলে, এবারের নির্বাচনেও নন্দীগ্রামকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। ফলত, ভোট যত এগোচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে যে, এই কেন্দ্রের লড়াই শুধু স্থানীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়, বরং বৃহত্তর রাজনৈতিক সমীকরণেরও প্রতিফলন। মনোনয়ন জমা দেওয়ার এই দিনটি সেই লড়াইয়ের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকল।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Suvendu Adhikari 177 seats | ভোটের আগেই অঙ্ক কষে বিজেপির আসন ভবিষ্যদ্বাণী করলেন শুভেন্দু অধিকারী




