সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : দেশজুড়ে জ্বালানির চাহিদা সামাল দিতে কেরোসিন বণ্টনে নতুন পরিকল্পনা ঘোষণা করল কেন্দ্রীয় সরকার। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক -এর সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২১টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নির্দিষ্ট পেট্রোল পাম্পে কেরোসিন সরবরাহ চালু করা হবে। উদ্দেশ্য, ঘরোয়া ব্যবহারের জন্য বিকল্প জ্বালানি সহজলভ্য রাখা এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে রান্নার গ্যাসের উপর চাপ কমানো। গত রবিবার প্রকাশিত বিবৃতিতে মন্ত্রক জানিয়েছে, ‘দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জ্বালানির ধারাবাহিক জোগান বজায় রাখতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’ পাশাপাশি বলা হয়েছে, পূর্বে যেসব এলাকাকে কেরোসিন-মুক্ত বলে ঘোষণা করা হয়েছিল, সেখানেও পুনরায় সীমিত পরিসরে কেরোসিন বণ্টনের ব্যবস্থা চালু করা হতে পারে। ফলে, বহু অঞ্চলে এই জ্বালানি ফের নতুন করে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে।

সরকারি নির্দেশিকায় উল্লেখ, সংশ্লিষ্ট রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির প্রতিটি জেলায় রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা পরিচালিত দু’টি করে পাম্পে সর্বোচ্চ ৫০০০ লিটার পর্যন্ত কেরোসিন মজুত রাখা যাবে। সেখান থেকেই লাইসেন্সপ্রাপ্ত এজেন্ট ও ডিলারেরা কেরোসিন সংগ্রহ করতে পারবেন। মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, ‘যেসব গাড়ির কাছে প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে, তাদের কেরোসিন পরিবহণের জন্য আলাদা করে নতুন ছাড়পত্র নিতে হবে না।’ ফলে সরবরাহ প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক জটিলতা কিছুটা কমবে বলেই মনে করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, এই সিদ্ধান্তের পেছনে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবও রয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের কারণে এলপিজি (LPG) -এর সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ভারত যে পরিমাণ রান্নার গ্যাস ব্যবহার করে, তার প্রায় ৬০ শতাংশই আমদানিনির্ভর। তার মধ্যে ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ গ্যাস আসে উপসাগরীয় দেশগুলি (Gulf Countries) থেকে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে টানাপোড়েন তৈরি হলেই দেশের অভ্যন্তরে সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ পড়ে। এই পরিস্থিতিতে বিকল্প হিসেবে কেরোসিনকে সামনে এনে সরকার ঘরোয়া জ্বালানির প্রাপ্যতা বজায় রাখতে চাইছে। বিশেষত গ্রামীণ ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলির কাছে এখনও কেরোসিন একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলিতে এলপিজি ব্যবহারের হার বেড়েছে, তবুও সংকটের সময় পুরনো ব্যবস্থাকে ফের সক্রিয় করা হচ্ছে।
কিন্তু এই ঘোষণায় নজর কেড়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক, ২১টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের তালিকায় পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) -এর নাম নেই। চণ্ডীগড় (Chandigarh), হরিয়ানা (Haryana), পাঞ্জাব (Punjab), উত্তরপ্রদেশ (Uttar Pradesh), রাজস্থান (Rajasthan), গোয়া (Goa), গুজরাত (Gujarat), মধ্যপ্রদেশ (Madhya Pradesh) সহ একাধিক রাজ্য এই সুবিধার আওতায় এলেও পশ্চিমবঙ্গকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কেন এই সিদ্ধান্ত, তা নিয়ে এখনও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি মন্ত্রক। নীতিনির্ধারকদের একাংশের মতে, যেসব অঞ্চলে বিকল্প জ্বালানির উপর নির্ভরতা বেশি অথবা সরবরাহ ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল, সেগুলিকেই আপাতত এই তালিকায় রাখা হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির মধ্যে আলোচনা শুরু হতে পারে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে কিছুটা ভারসাম্য আসতে পারে। পাম্পভিত্তিক কেরোসিন বিতরণ ব্যবস্থা চালু হলে ডিলার ও এজেন্টদের মাধ্যমে দ্রুত চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে। একই সঙ্গে এলপিজি সরবরাহের উপর নির্ভরতা কিছুটা হলেও কমানো যাবে। কিন্তু, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিরাপত্তা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে কেন্দ্রের এই উদ্যোগ আগামী দিনে কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার।
ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : India Fuel Supply, LPG Availability India | পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার মাঝেও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক, গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান, কড়া নজর সরকারের




