India Fuel Supply, LPG Availability India | পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার মাঝেও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক, গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান, কড়া নজর সরকারের

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : পশ্চিম এশিয়ার চলমান অস্থির পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ভারতের জ্বালানি সরবরাহ, বন্দর কার্যক্রম ও পরিবহণ ব্যবস্থাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবাগুলি স্বাভাবিক রয়েছে এবং পরিস্থিতির উপর নিবিড় নজর রাখা হচ্ছে। নাগরিকদের উদ্দেশ্যে পরিষ্কার বার্তা, ‘গুজবে কান দেবেন না, আতঙ্কে কেনাকাটা থেকে বিরত থাকুন’। সরকারি সূত্রে খবর, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক স্তরে চাপ তৈরি হলেও দেশের ভিতরে পেট্রোল, ডিজেল (Fuel) ও রান্নার গ্যাসের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। সমস্ত রিফাইনারি উচ্চ ক্ষমতায় কাজ করছে এবং অপরিশোধিত তেলের যথেষ্ট ভাণ্ডার রয়েছে। ফলে জ্বালানি সরবরাহে বড় কোনও সমস্যা তৈরি হয়নি।

ছবি : সংগৃহীত ও প্রতীকী

আরও পড়ুন : Narendra Modi Mann Ki Baat, Indian origin cricketers T20 World Cup | মন কি বাত-এ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভারতীয় বংশোদ্ভূত তারকারা! মোনাঙ্ক, দিলপ্রীতদের প্রশংসায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

দেশজুড়ে পেট্রোল পাম্পগুলিও স্বাভাবিক ভাবে চালু রয়েছে। কিছু এলাকায় গুজবের জেরে অতিরিক্ত ভিড় ও অস্বাভাবিক বিক্রির খবর পাওয়া গিয়েছিল। সেই প্রসঙ্গে প্রশাসনের বক্তব্য, ‘দেশের সমস্ত পেট্রোল পাম্পে পর্যাপ্ত জ্বালানি রয়েছে, আতঙ্কে অতিরিক্ত কেনার প্রয়োজন নেই।’ সরকার আবারও নাগরিকদের অনুরোধ করেছে শুধুমাত্র নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য গ্রহণ করতে। এলপিজি (LPG) সরবরাহের ক্ষেত্রেও সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। গৃহস্থালি গ্যাস সরবরাহে কোনও ঘাটতির খবর নেই এবং ডেলিভারি প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রয়েছে। বাণিজ্যিক এলপিজি সরবরাহ কিছুটা প্রভাবিত হলেও তা ধাপে ধাপে পুনরুদ্ধার করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত গ্যাস বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। হোটেল, রেস্তরাঁ, ধাবা, শিল্প ক্যান্টিন এবং কমিউনিটি কিচেনের মতো ক্ষেত্রগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলিতে এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’ বিশেষ করে পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য ৫ কেজির ছোট সিলিন্ডার সরবরাহের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। গতকালই ৩৭ হাজারেরও বেশি ছোট সিলিন্ডার বিক্রি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

একই সঙ্গে বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে। পিএনজি (PNG) সংযোগ বাড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রেস্তরাঁ, হোটেল ও অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পাইপলাইন গ্যাস ব্যবহারের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সরকারি নির্দেশে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে দ্রুত নতুন সংযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহেও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সিএনজি পরিবহণ এবং ডোমেস্টিক পিএনজি গ্রাহকদের ১০০ শতাংশ সরবরাহ বজায় রাখা হয়েছে। শিল্প ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে গড় ব্যবহারের ৮০ শতাংশ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি কেরোসিনের অতিরিক্ত বরাদ্দও ঘোষণা করা হয়েছে। সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে অতিরিক্ত কেরোসিন সরবরাহ করা হচ্ছে, যাতে প্রয়োজনে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। প্রসঙ্গত, সরকার রাজ্যগুলিকে মজুতদারি ও কালোবাজারি রুখতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছে। ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে একাধিক অভিযানে ২৬০০ -এরও বেশি তল্লাশি চালানো হয়েছে এবং বহু গ্যাস সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। প্রায় ৬৮০টি এফআইআর দায়ের হয়েছে এবং ১৯৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য, ‘মজুতদারি বা কালোবাজারির বিরুদ্ধে কোনও রকম শিথিলতা দেখানো হবে না।’

রাজ্য প্রশাসনকে প্রতিদিন সংবাদ সম্মেলন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ নিয়মিত আপডেট পান। পাশাপাশি গুজব ছড়ানো রুখতে সোশ্যাল মিডিয়ায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন জেলায় কন্ট্রোল রুম ও হেল্পলাইন চালু করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। সমুদ্রপথে বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচলের উপরেও কড়া নজর রাখা হচ্ছে। ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ এবং নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একাধিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, ‘ভারতীয় নাবিকেরা নিরাপদ রয়েছেন এবং সাম্প্রতিক সময়ে কোনও অঘটনের খবর নেই।’ দেশের সমস্ত বন্দর স্বাভাবিক ভাবে কাজ করছে এবং কোথাও জটের পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। অন্যদিকে, বিদেশে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে থাকা ভারতীয়দের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। দূতাবাসগুলি ২৪ ঘণ্টা পরিষেবা দিচ্ছে। ইতিমধ্যেই প্রায় ৪.৫ লক্ষ মানুষ দেশে ফিরে এসেছেন বলে জানা গিয়েছে। বিমান চলাচলও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। বিভিন্ন দেশ থেকে বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিছু অঞ্চলে আকাশপথ আংশিক বন্ধ থাকলেও বিকল্প রুট ব্যবহার করে যাত্রীদের দেশে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।।সরকারের তরফে নাগরিকদের উদ্দেশ্যে শেষবারের মতো অনুরোধ করা হয়েছে, ‘জ্বালানি সংরক্ষণ করুন, অযথা মজুত করবেন না এবং শুধুমাত্র সরকারি তথ্যের উপর নির্ভর করুন।’ বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও পরিষেবা বজায় রাখতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : West Bengal Voting-politics2026: পশ্চিমবঙ্গের ভোট-রাজনীতি: এগিয়ে কে-বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম না কংগ্রেস? (আজ তৃতীয় কিস্তি)

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন