Suvendu Adhikari CM face Bengal | বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী মুখ কি শুভেন্দু? ভবানীপুরে শাহর উপস্থিতিতে বাড়ছে জল্পনা

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ সামনে আসছে। বিশেষ করে বিজেপি (BJP) -এর মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী নিয়ে জল্পনা আরও ঘনীভূত হয়েছে। এই আবহে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে (Suvendu Adhikari) ঘিরে আলোচনার পারদ চড়ছে। ভবানীপুরে (Bhabanipur) তাঁর প্রার্থীপদ এবং সেই উপলক্ষে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) -এর সরাসরি উপস্থিতি এই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে মুখ্যমন্ত্রী মুখ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) যেখানে শুরু থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) সামনে রেখে নির্বাচনী লড়াই চালাচ্ছে, সেখানে বিজেপি ঐতিহ্যগতভাবে কোনও নির্দিষ্ট মুখ ঘোষণা না করেই ভোটে নামে। জাতীয় স্তরে নরেন্দ্র মোদীকেই (Narendra Modi) সামনে রেখে প্রচার চালানো বিজেপির কৌশল হলেও, বাংলার মতো রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী নিয়ে কৌতূহল থেকেই যায়।

আরও পড়ুন : Prashant Kishor, Election Commission | দুই রাজ্যের ভোটার তালিকায় নাম! নির্বাচন কমিশনের নোটিসে প্রশান্ত কিশোর বিপাকে

এই প্রেক্ষাপটে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের একাধিক নাম উঠে আসছে, প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়, সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar), শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya), দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) এবং শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে শুভেন্দুকে ঘিরে আলাদা মাত্রা তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। নন্দীগ্রামে (Nandigram) মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় শুভেন্দুর পাশে ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan)। আবার ভবানীপুরে মনোনয়নের সময় তাঁর সঙ্গে থাকার কথা অমিত শাহ (Amit Shah) -এর। এই উপস্থিতি নিছক রাজনৈতিক সৌজন্য, নাকি তার পিছনে বড় কোনও বার্তা রয়েছে, তা নিয়েই আলোচনা চলছে রাজনৈতিক মহলে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, অমিত শাহ (Amit Shah) -এর এই পদক্ষেপ শুভেন্দু অধিকারীর গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। কারণ অতীতে খুব কম ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোনও প্রার্থীর মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় সরাসরি উপস্থিত হয়েছেন। ২০২২ সালে গুজরাটে কানু পটেল (Kanu Patel) -এর ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটেছিল, তবে তিনি মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী ছিলেন না। সেই তুলনায় বাংলার প্রেক্ষাপটে এই ঘটনাকে অনেকেই আলাদা গুরুত্ব দিচ্ছেন।

কিন্তু অন্য একটি মতও রয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, ভবানীপুরে অমিত শাহ (Amit Shah) -এর উপস্থিতির মূল লক্ষ্য আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) -এর বিরুদ্ধে সরাসরি রাজনৈতিক চাপ তৈরি করা। অর্থাৎ, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বই যে তৃণমূল নেত্রীর প্রধান প্রতিপক্ষ, সেই বার্তা পৌঁছে দেওয়া। শুধু উপস্থিতি নয়, সাম্প্রতিক সময়েও অমিত শাহ (Amit Shah) -এর বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে শুভেন্দু অধিকারীর নাম। তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র প্রকাশের সময় তিনি একাধিকবার শুভেন্দুর প্রসঙ্গ টেনেছেন। ‘গণতন্ত্রের উপর আঘাত’ প্রসঙ্গে শুভেন্দুর উপর হামলার অভিযোগও উল্লেখ করেন তিনি। পশ্চিম মেদিনীপুরে (Paschim Medinipur) শুভেন্দুর উপর হামলার প্রসঙ্গ তুলে ধরে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শাহ। এছাড়াও বিধানসভায় বিজেপির ৭৭ জন বিধায়ককে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে শুভেন্দুর ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। অনুপ্রবেশ ইস্যুতে রাজ্যজুড়ে যে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তাতেও শুভেন্দুর সক্রিয় ভূমিকার কথা তুলে ধরেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এইসব ঘটনাকে ঘিরেই বিজেপির অন্দরে শুভেন্দু অধিকারীর গুরুত্ব বাড়ছে বলে ধারণা তৈরি হয়েছে। তবে দলীয় অবস্থান এখনও অপরিবর্তিত। বিজেপি নেতৃত্বের তরফে পরিষ্কার করে জানানো হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী নিয়ে কোনও আগাম ঘোষণা করা হবে না। এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) নিজেই বলেন, ‘কর্মীরা আবেগে অনেক কিছু বলেন। আমাদের মুখ মোদীজি। কর্মীদের আবেগকে সম্মান জানিয়ে শেষ পর্যন্ত দলই সিদ্ধান্ত নেবে।’ তাঁর এই মন্তব্যে দলীয় অবস্থানই প্রতিফলিত হয়েছে। বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার (Debjit Sarkar) বলেন, ‘শুভেন্দু অধিকারী আমাদের দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং বিরোধী দলনেতা। মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে কোনও জল্পনা আমাদের মধ্যে নেই। দলের একটি বোর্ড রয়েছে, তারাই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।’ ইতিহাস বলছে, বিজেপি সাধারণত নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরই মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী ঘোষণা করে। উত্তরপ্রদেশে যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath), ত্রিপুরায় বিপ্লব দেব (Biplab Deb) কিংবা অসমে হিমন্ত বিশ্বশর্মা (Himanta Biswa Sarma) এই সব ক্ষেত্রেই ফল ঘোষণার পরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ফলে বাংলাতেও সেই ধারা বজায় থাকতে পারে। আবার রাজনৈতিক বাস্তবতা বলছে, বাংলার ভোটে মুখ একটি বড় ফ্যাক্টর। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারীকে ঘিরে যে জল্পনা তৈরি হয়েছে, তা আগামী দিনে আরও জোরালো হতে পারে। বিশেষ করে যদি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সমর্থন তাঁর দিকে আরও বেশি করে দেখা যায়। ভোটের আগে এই প্রশ্নের উত্তর না মিললেও, নির্বাচনের ফলাফলই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে বাংলার ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব। তত দিন পর্যন্ত ‘মুখ্যমন্ত্রী মুখ’ নিয়ে জল্পনা চলতেই থাকবে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Suvendu Adhikari nomination | নন্দীগ্রামে মনোনয়ন জমা দিয়ে জয়ের বার্তা শুভেন্দুর, পাশে ধর্মেন্দ্র-দিলীপ

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন