সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা (Farakka) বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে কংগ্রেস প্রার্থী মহতাব শেখ (Mehtab Sheikh) -এর নামসংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালত জানায়, প্রার্থী চাইলে কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta High Court) প্রাক্তন বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত যে কোনও ট্রাইবুনালে আবেদন করতে পারবেন এবং সেই আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ঘটনার সূত্রপাত মনোনয়ন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া ঘিরে। কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে ফরাক্কা থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গিয়ে নাম তালিকাভুক্ত না হওয়ায় সমস্যায় পড়েন মহতাব শেখ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মনোনয়ন জমা দিতে না পারার আশঙ্কায় তিনি সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। তাঁর অভিযোগ, পূর্ববর্তী ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও বর্তমান তালিকায় তা বাদ পড়েছে, ফলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণে বাধা তৈরি হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় কংগ্রেস প্রার্থীর আইনজীবী ফিরদৌস শামিম (Firdous Shamim) বলেন, ‘২০০২ সালের তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও সেটি বাদ দেওয়া হয়েছে। আগামী সোমবার মনোনয়ন জমার শেষ দিন, অথচ এখনও ট্রাইবুনালে আবেদন জানানো যাচ্ছে না। সকাল থেকে আমরা ট্রাইবুনালের বাইরে অপেক্ষা করছি, বহু মানুষ সেখানে রয়েছেন, কিন্তু মূল দরজা বন্ধ থাকায় কাউকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।’ এই বক্তব্যে পরিস্থিতির জটিলতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মামলার শুনানি হয় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত (Surya Kant)-এর বেঞ্চে। আদালত জানায়, সংশ্লিষ্ট ট্রাইবুনালে কিছু প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলছিল, তবে বৃহস্পতিবার থেকেই কাজ শুরু হওয়ার কথা। ফলে আবেদন জানানোর ক্ষেত্রে আর বাধা থাকার কথা নয়। একই সঙ্গে আদালত নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার দিকেও নজর দেয় এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার উপর জোর দেয়। এদিন নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী আদালতে জানান, প্রার্থী ট্রাইবুনালে আবেদন করলে কমিশন সমস্ত ধরনের সহযোগিতা করবে। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত। যদি প্রার্থীর বক্তব্য যথাযথ হয়, তা হলে বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে।’ আদালতও কমিশনের এই অবস্থানকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দেয়।
শুনানির সময় বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী (Joymalya Bagchi) কমিশনের আইনজীবীকে নির্দেশ দেন, আগামী ৬ এপ্রিলের মধ্যে যেন আবেদনকারীর আপিলের নিষ্পত্তি হয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, প্রার্থীর কাছে থাকা পাসপোর্টসহ অন্যান্য নথিও খতিয়ে দেখতে হবে, যাতে তথ্যগত অমিল থাকলে তা নিরসন করা যায়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, মহতাব শেখের এই আইনি লড়াইয়ের পটভূমিতে রয়েছে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া। চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় তিনি প্রথমে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। তবে উচ্চ আদালত জানায়, এসআইআর সংক্রান্ত সমস্ত মামলার শুনানি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আওতায় রয়েছে। ফলে এই বিষয়ে তারা সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারে না। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, প্রশাসনিক বিষয়গুলির তদারকি করা হলেও মূল আইনি প্রশ্নের নিষ্পত্তির দায়িত্ব শীর্ষ আদালতের। এই পরিস্থিতিতে আবেদনকারীকে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়, যার ভিত্তিতেই বর্তমান মামলার সূত্রপাত। নির্বাচন প্রক্রিয়ার নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বিষয়টির সমাধান হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ঘনিয়ে আসছে।
ফরাক্কা কেন্দ্রটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এই মামলার প্রভাব রাজ্যের রাজনীতিতেও পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কংগ্রেসের পক্ষে এই কেন্দ্রটি ধরে রাখা এবং শক্ত অবস্থান তৈরি করা জরুরি, সেই প্রেক্ষাপটে প্রার্থীর নাম নিয়ে অনিশ্চয়তা দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি করেছে। এখন নজর ট্রাইবুনালের দিকে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী দ্রুত শুনানি ও নিষ্পত্তি হলে মহতাব শেখ মনোনয়ন জমা দেওয়ার সুযোগ পাবেন কি না, সেটাই দেখার। নির্বাচন কমিশনের সহযোগিতা এবং আদালতের তদারকির ফলে প্রক্রিয়াটি দ্রুত এগোবে বলেই আশা করা হচ্ছে। পুরো ঘটনাপ্রবাহে বিচারব্যবস্থা ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার পারস্পরিক সমন্বয়ের একটি দৃষ্টান্ত সামনে এসেছে। ভোটের আগে এই ধরনের আইনি জটিলতা কীভাবে মোকাবিলা করা হচ্ছে, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Farakka Assembly | ২০২৬ নির্বাচন ঘিরে ফারাক্কায় চর্চায় রেহেনা ইয়াসমিন




