Supaul Crime, Woman Forced Marriage | স্ত্রীর সঙ্গে ভাইপোর বিয়ে! কাকার অবিশ্বাসের জেরে বিহারে রাস্তায় তাণ্ডব

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ সুপল : বিহারের (Bihar) সুপল জেলার (Supaul District) জীবচ্ছাপুর (Jeevachhapur) গ্রামে সম্প্রতি এমন নৃশংস ও অবিশ্বাস্য ঘটনার সাক্ষী থাকল মানুষজন, যা সমাজের অন্ধকার দিককেই যেন আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখাল। স্ত্রী ও ভাইপোর (Nephew) মধ্যে ‘অবৈধ সম্পর্ক’-এর সন্দেহে নিজের হাতে আইন তুলে নিলেন এক ব্যক্তি। শিবচন্দ্র মুখিয়া (Shivchandra Mukhiya) নামে ওই ব্যক্তি ভাইপো মিথিলেশকুমার মুখিয়াকে (Mithilesh Kumar Mukhiya) গ্রামের লোকজনের সামনে বেধড়ক মারধর করে জোর করে বিয়ে দিলেন নিজের স্ত্রী রিতা দেবীকে (Rita Devi)। সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিয়োতে (Video) দেখা যাচ্ছে, রাস্তার উপরে কয়েকজন মিলে যুবককে একনাগাড়ে প্রহার করছে। তার পর রাস্তাতেই ধরে আনা হয় এক মহিলাকে। মারধরের মাঝেই একজন সিঁদুর (Sindoor) বের করে আনেন। যুবককে নির্দেশ দেওয়া হয় সেই সিঁদুর রিতার সিঁথিতে পরানোর জন্য। ভয়ার্ত, রক্তাক্ত অবস্থাতেই সিঁদুরদান সম্পূর্ণ করতে বাধ্য হন মিথিলেশ। (যদিও ভিডিয়োর সত্যতা সাশ্রয় নিউজ যাচাই করেনি)। এই চিত্র দেখে স্তম্ভিত নেটদুনিয়া।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দিন সাতেক আগে ২ জুলাই ঘটেছে এই ঘটনা। ভীমপুর থানায় (Bheempur Police Station) দায়ের হওয়া অভিযোগে মিথিলেশের বাবা রামচন্দ্র মুখিয়া (Ramchandra Mukhiya) জানিয়েছেন, তাঁর ছেলে অপহৃত হয়েছিল শিবচন্দ্রের নেতৃত্বে। বাড়ি থেকে টেনে নিয়ে গিয়ে লোহার রড ও লাঠি দিয়ে অমানবিকভাবে মারধর করা হয়। শুধু ছেলে নয়, তাকেও ও স্ত্রীকেও বাঁচাতে গেলে মারধর করা হয় বলে দাবি রামচন্দ্রের। তাঁর কথায়, “আমার ছেলেকে এমন নৃশংসভাবে মারা হয়েছে যে সে হাসপাতালে ভর্তি। এখনও সুস্থ হয়নি। আমরা চাই দোষীদের শাস্তি হোক।”

ছবি: সংগৃহীত

পুলিশ সূত্রে খবর, প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, শিবচন্দ্রের মনে হয়েছিল, তাঁর স্ত্রী রিতা দেবীর সঙ্গে ভাইপোর অবৈধ সম্পর্ক আছে। সেই সন্দেহেই ২ জুলাই গ্রামবাসীদের তিনি ডেকে নিয়ে আসেন। পরে ঘটে ভয়াবহ মারধর ও জোরপূর্বক বিয়ের ঘটনা। এ প্রসঙ্গে এক গ্রামবাসী সংবাদমাধ্যমকে জানান, “শিবচন্দ্রজী (Shivchandra ji) হঠাৎ লোক ডাকলেন। বললেন স্ত্রী-ভাইপোর সম্পর্ক আছে। আমাদের সঙ্গে নিয়ে গিয়ে ভাইপোকে মারধর করলেন। পরে জোর করে বিয়েও দিলেন।”

পুলিশ জানিয়েছে, গুরুতর জখম মিথিলেশ চিকিৎসাধীন। ঘটনার পর থেকে রিতার মানসিক অবস্থাও ভেঙে পড়েছে। তাঁদের চার বছরের সন্তান আছে বলেও স্থানীয় সূত্রে খবর। শিশুটির ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কায় পরিবার ও প্রতিবেশীরা। যদিও এখনও পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করেনি। তদন্ত শুরু হয়েছে ও দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন এক তদন্তকারী অফিসার। তাঁর কথায়, “ঘটনাটি গুরুতর। ভিডিও ও অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তদের খুব শীঘ্রই আইনের আওতায় আনা হবে।” এই ঘটনার পর বিহারের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠছে। সমাজকর্মী অনিতা যাদব (Anita Yadav) জানিয়েছেন, “এটি শুধু একটি পারিবারিক ঘটনা নয়, নারীর সম্মান, পিতৃত্ব, সম্পূর্ণ সামাজিক নৈতিকতার উপর আঘাত। এই ধরনের হিংসাত্মক ও অবমাননাকর আচরণ কখনও মেনে নেওয়া যায় না। প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতেই হবে।”

Read | Amir Khan : ১০ মাস আগলে রেখেছিলেন আমির খান, সন্তানের জন্মের পর কৃতজ্ঞতা জানালেন বিষ্ণু বিশাল

মনোবিদদের মতে, এই ধরনের ঘটনা সমাজে এক ভয়ঙ্কর বার্তা দেয়। সন্দেহ, অবিশ্বাস, হিংসা ও ক্ষমতার অপব্যবহার, সব মিলিয়ে নৃশংসতার এক জঘন্য উদাহরণ হয়ে রইল এই বিহারের ঘটনা। স্থানীয়রা বলছেন, “রাস্তায় এইভাবে কাউকে মারধর ও জোর করে বিয়ে দেওয়ার দৃশ্য জীবনে দেখিনি। পুরো গ্রাম আতঙ্কিত।” অন্যদিকে শিবচন্দ্রের পরিবারের অন্য সদস্যরা জানিয়েছেন, তাঁরা নিজেরাই লজ্জিত এমন কাণ্ডে। এক আত্মীয়ের কথায়, “এভাবে নিজের স্ত্রীকে জোর করে ভাইপোর সঙ্গে বিয়ে দেওয়া, এটা কি কখনও সম্ভব? শিবচন্দ্র জেদেই এমন করেছে।” শিবচন্দ্রের কোনও বক্তব্য সামনে আসেনি। পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে বলে জানিয়েছে। পাশাপাশি ওই ভাইরাল ভিডিওর সত্যতাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের একাংশ মনে করছে, এই ঘটনায় পকসো আইনে মামলা হতে পারে যদি প্রমাণিত হয় যে মহিলার সম্মতি ছাড়া তাঁকে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নারী নির্যাতন ও গুরুতর শারীরিক ক্ষতির ধারাতেও মামলা চলবে। অন্যদিকে নেটমাধ্যমে এই ভিডিও ঘিরে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। ব্যবহারকারীরা লিখেছেন, “এ কোন যুগে বাস করছি আমরা?”, “মানুষের মধ্যে মানবিকতা বাকি নেই”, “অপরাধীর শাস্তি চাই।” সমাজতাত্ত্বিকরা বলছেন, নারীকে পণ্য বা সম্মানের প্রতীক হিসেবে দেখা এবং সন্দেহের বশে এভাবে তার জীবন ধ্বংস করা, এক মধ্যযুগীয় বর্বর মানসিকতার প্রকাশ। প্রসঙ্গত, বিহারে (Bihar Crime) সম্প্রতি নারী নির্যাতন ও সামাজিক হিংসার ঘটনা ক্রমশই বেড়ে চলেছে। প্রশাসন কড়া পদক্ষেপের কথা বললেও বাস্তবে এখনও অপরাধীদের দাপট থামছে না বলেই অভিযোগ সমাজকর্মীদের। এই ঘটনার ন্যায়বিচার কত দ্রুত হয়, সে দিকেই তাকিয়ে এখন গোটা গ্রাম, মিথিলেশের পরিবার এবং সাধারণ মানুষ।

ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Virat Kohli Test Retirement | বিরাট কোহলির অবসর নিয়ে মন্তব্য

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন