সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ লখনউ : উত্তরপ্রদেশের পথকুকুর নীতি ঘিরে বিতর্ক। উত্তরপ্রদেশ সরকারের সর্বশেষ নির্দেশে পথকুকুর সমস্যাকে নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্দেশ্যে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ। বিনা প্ররোচনায় যদি কোনও পথকুকুর কাউকে কামড়ায়, তাকে প্রথমবার ধরলে দশ দিনের জন্য পশু কেন্দ্র বা অ্যানিম্যাল বার্থ কন্ট্রোল (ABC) সেন্টারে রাখা হবে; একই কুকুর যদি আবারও ‘বিনা প্ররোচনায়’ কাউকে কামড়ায়, তবে তাকে সারা জীবন কেন্দ্রে রেখে দেওয়া হবে, অর্থাৎ ‘আজীবন কারাবাস’। এই নীতিমালা অত্যন্ত কড়া ভাষায় মানব নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে রাজ্য সরকার জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রথমবার কামড়ানো কুকুরকে ১০ দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হবে, এই সময়ে তার স্বাস্থ্যের পরিচর্যা, টিকাকরণ ও প্রয়োজন হলে স্থায়ীকরণ (sterilisation) করার ব্যবস্থা করা হবে। ছাড়ার আগে কুকুরটির দেহে মাইক্রোচিপ বসিয়ে তার আইডেন্টিটি রেকর্ড করা হবে, যাতে পরবর্তীতে প্রয়োজনে সেটিকে শনাক্ত করা যায়। দ্বিতীয়বার কামড়ানো কুকুরের ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে গঠিত একটি তিন সদস্যের কমিটি তদন্ত করে সিদ্ধান্ত নেবে যে হামলা কি ‘বিনা প্ররোচনায়’ হয়েছিল নাকি প্ররোচিত করা হয়েছিল, প্ররোচনাকে বিবেচনায় নিয়ে বিভিন্ন ঘটনার বিচার হবে।
উত্তরপ্রদেশ সরকারের এই নীতির কেন্দ্রীয় দিকটিও স্পষ্ট,মানুষের নিরাপত্তা প্রথমে। রাজ্য প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, যারা কুকুরকে গ্রহণ (adopt) করতে চান, তাদের শর্ত রক্ষা করে একভাবে কুকুরটির ‘জামিন’ পাওয়া যাবে: গ্রহণকারীকে তার ব্যক্তিগত তথ্য (নাম, ঠিকানা ইত্যাদি) জমা দিয়ে নির্বিশেষে লিখিত প্রতিশ্রুতি (affidavit) দিতে হবে যেন তারা কুকুরটিকে ফের রাস্তায় ছেড়ে না দেয়। প্রশাসন বলছে, এ নিয়মের উদ্দেশ্য কেবল দোষীর উপর শাস্তি নয়, বরং সারাদেশে বাড়তে থাকা কামড়ের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোখা।

পথকুকুর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে শীর্ষ আদালতের গাইডলাইনে সাম্প্রতিক সময়ের নির্দেশগুলোও আছে, তাই অনেকেই বলছেন এই রাজ্য নির্দেশাবলীর প্রেক্ষাপটেই ইউনিফর্ম বিধি আনা হচ্ছে। যদিও বিচারালয়ের নির্দেশের পরে সরকারি বিধি কিছুটা বদলেছে, তবু রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরে জনবৃহৎ উদ্বেগ থেকেই রাজ্যকর্তারা কঠোর হওয়া বজায় রেখেছেন। পশুবিজ্ঞানের বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, ‘আকস্মিক’ বা ‘প্ররোচিত’ হামলার মধ্যে পার্থক্য প্রমাণ করা অত্যন্ত জটিল; খারাপ পরিণতিতে নিরীহ পশুদেরও কলঙ্কিত করা যেতে পারে। উল্লেখ্য, প্রয়াগরাজ পুরসভা বা স্থানীয় প্রশাসনের ভেটেনারি অফিসাররা (veterinary officers) জানিয়েছেন, এই নীতির বাস্তবায়নে মাইক্রোচিপিং ও ১০ দিনের পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রয়াগরাজ মিউনিসিপাল কর্পোরেশনের পশুচিকিৎসক ডাঃ বিজয় অমৃত রাজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “প্রতিটি ঘটনায় কুকুরটিকে ধরে ১০ দিনের জন্য পর্যবেক্ষণে রাখা হলে তার আচরণ ও স্বাস্থ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে; এরপরই মুক্তি বা স্থায়ী বন্দি করা হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, মাইক্রোচিপ থাকলে পরবর্তীতে একই প্রাণী শনাক্ত করা সহজ হবে।
তবে নতুন নিয়মকে নিন্দা ও প্রশ্ন রয়েছে প্রাণপ্রেমীদের মধ্যে। কুকুর উদ্ধার ও পশু কল্যাণ সংগঠনের কর্মীরা বলছেন, ‘আক্রমণ’ বা ‘হামলা’ ক্ষেত্রে প্রমাণ সংগ্রহের দুর্বলতা, স্থানীয় রাজনৈতিক চাপ, কিংবা স্থানীয় লোকজনের পক্ষপাতিত্ব কল্পনাতীত ভুল সিদ্ধান্তে ঠেকাতে পারে। “একটি নিরীহ কুকুরকে দুইবার ধরে কেন্দ্রজাত করলে তাকে আজীবন বন্দি করা হবে, কিন্তু এই সিদ্ধান্তের ফলে অনেক কুকুরই নির্দোষে বন্দি হতে পারে,” এক পশু অধিকারকর্মী উল্লেখ করেছেন। অনেকে আরও যুক্তি দেন, মাইক্রোচিপ ও পর্যবেক্ষণ সিস্টেম ঠিকভাবে না থাকলে এই নীতি কার্যকর হবে না। সূত্রের খবর, সরকারের পক্ষের মত, সম্প্রতি রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় কুকুর কামড়ের ঘটনার তীব্রতা বেড়েছে, সামাজিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ -এর (Yogi Adityanath) নির্দেশে এই নীতিমালা চালু হয়েছে বলে রাজ্য সূত্রের বিবৃতি পাওয়া গিয়েছে। একই সঙ্গে প্রশাসন স্থানীয় স্তরে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন ও মাঠ পর্যায়ে মাইক্রোচিপিং ও টিকাকরণ কার্যক্রম দ্রুত চালানো হবে বলেও জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, কেউ বলছেনযে, জনস্বাস্থ্য-নিরাপত্তার প্রশ্নে কঠোর হওয়া প্রয়োজন, আবার অনেকে ইঙ্গিত করছেন নীতির প্রয়োগে দায়িত্বপ্রবণতা ও স্বচ্ছতা থাকা অত্যাবশ্যক। আগামী কয়েক সপ্তাহে স্থানীয় প্রশাসন কিভাবে এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবে তা নজরদারি করবে জনজীবন ও প্রাণী কল্যাণ উভয় অঙ্গনে।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Viksit UP@2047, Yogi Adityanath | বিকশিত ইউপি@২০৪৭ : যোগী আদিত্যনাথের লক্ষ্য ৬ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি




