সাশ্রয় নিউজ স্পোর্টস ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : ভারতীয় ক্রিকেটে বড় স্বস্তির খবর। আইপিএল ফাইনালের সময় পাওয়া চোট নিয়ে দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর অবশেষে ফিটনেস পরীক্ষায় সফল হলেন বিরাট কোহলি (Virat Kohli)। ফলে আসন্ন ইংল্যান্ড সিরিজ়ে তাঁর খেলা নিয়ে আর কোনও সংশয় থাকল না। বেঙ্গালুরুর বোর্ডের উৎকর্ষকেন্দ্রে (National Cricket Academy) হওয়া পরীক্ষায় সব বিভাগেই সন্তোষজনক ফল করেছেন কোহলি, এমনটাই একাধিক সূত্রে জানা গিয়েছে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও না এলেও, জাতীয় দলে তাঁর প্রত্যাবর্তন প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে করা হচ্ছে। আইপিএল ফাইনালের সময় চোট পাওয়ার পর থেকেই কোহলির শারীরিক অবস্থাকে কেন্দ্র করে জল্পনা চলছিল। সেই কারণে আফগানিস্তানের (Afghanistan) বিরুদ্ধে এক দিনের সিরিজ়ে তাঁকে বিশ্রাম দেওয়া হয়। তবে গুরুত্বপূর্ণ ইংল্যান্ড সফরের জন্য তাঁকে দলে রাখা হয়েছিল, যা তখন অনেকের কাছেই বিস্ময়কর মনে হয়েছিল। এখন বোঝা যাচ্ছে, বোর্ডের সেই সিদ্ধান্তই ফলপ্রসূ হয়েছে। দ্রুত পুনর্বাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তিনি নিজেকে ম্যাচ-ফিট করে তুলেছেন।
সূত্রের খবর, সোমবার অনুষ্ঠিত ফিটনেস টেস্টে দৌড়, সহনশীলতা, শক্তি এবং নমনীয়তা সব ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় মানদণ্ড পূরণ করেছেন কোহলি। তাঁর শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছিল, তা আপাতত মুছে গেছে। বোর্ডের তরফে খুব শীঘ্রই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই দলের অভ্যন্তরে স্বস্তির আবহ তৈরি হয়েছে। ভারতের জন্য এই সিরিজ় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগামী এক দিনের বিশ্বকাপের আগে এটি অন্যতম প্রস্তুতি মঞ্চ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের আবহাওয়া এবং পিচের চরিত্র দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে অনেকটাই মিল থাকায় এই সফরকে কৌশলগত দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কোহলির মতো অভিজ্ঞ ব্যাটারের উপস্থিতি দলের জন্য বাড়তি শক্তি যোগ করবে।
দীর্ঘ দিন ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করে আসা কোহলি শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবেই নয়, মানসিক দৃঢ়তার দিক থেকেও দলের স্তম্ভ। কঠিন পরিস্থিতিতে ইনিংস গড়ে তোলার ক্ষমতা এবং চাপ সামলানোর দক্ষতা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে। ফলে ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে তাঁর মাঠে নামা ভারতের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।
অন্য দিকে, দলে কিছু সমস্যা এখনও রয়েছে। হার্দিক পাণ্ড্য (Hardik Pandya) এই সিরিজ়ে খেলতে পারবেন না। তাঁর পুরনো চোট আবার দেখা দেওয়ায় তাঁকে বিশ্রামে রাখা হয়েছে। অলরাউন্ডার হিসেবে তাঁর অনুপস্থিতি নিঃসন্দেহে দলের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলবে। শুধু ব্যাটিং নয়, বোলিং এবং ফিল্ডিং, তিন ক্ষেত্রেই তাঁর অবদান গুরুত্বপূর্ণ। পাণ্ড্যের পরিবর্ত হিসেবে যিনি দলে ছিলেন, সেই নীতীশ রেড্ডিও (Nitish Reddy) চোটের কারণে ছিটকে গিয়েছেন। ফলে টিম ম্যানেজমেন্টকে নতুন করে ভাবতে হয়েছে। তাঁর জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন সূর্যাংশ শেড়গে (Suryansh Shedge)। তরুণ এই ক্রিকেটারের জন্য এটি বড় সুযোগ, তবে আন্তর্জাতিক স্তরে নিজেকে প্রমাণ করা সহজ কাজ নয়।
এই পরিস্থিতিতে কোহলির ফেরা দলের জন্য মানসিক শক্তি হিসেবে কাজ করবে বলেই মনে করা হচ্ছে। ওপেনিং থেকে মিডল অর্ডার যেখানেই তিনি খেলুন না কেন, তাঁর উপস্থিতি প্রতিপক্ষের উপর চাপ তৈরি করবে। ইংল্যান্ডের বোলিং আক্রমণের বিরুদ্ধে তাঁর অভিজ্ঞতা কাজে লাগতে পারে। ক্রিকেট মহলে আলোচনা চলছে, কোহলির দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠা তাঁর ফিটনেস রুটিন এবং কঠোর অনুশীলনেরই ফল। দীর্ঘ দিন ধরে নিজের শরীরকে সেরা অবস্থায় রাখার জন্য তিনি যে পরিশ্রম করে আসছেন, তারই প্রতিফলন এই প্রত্যাবর্তন। আইপিএল ফাইনালের চোটের পর এত দ্রুত মাঠে ফেরার ঘটনা সেই কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছে।
এখন সকলের নজর ইংল্যান্ড সিরিজ়ের দিকে। কেমন পারফরম্যান্স করেন কোহলি, দল কীভাবে নিজেদের সাজায়, নতুন মুখেরা কতটা সুযোগ কাজে লাগাতে পারে, এই সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে মাঠে। তবে আপাতত ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে সবচেয়ে বড় খবর, বিরাট কোহলি ফিরছেন। আর তাঁর প্রত্যাবর্তন মানেই নতুন করে প্রত্যাশার উত্থান।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Virat Kohli IPL Final 2026, RCB Champion News | স্বপ্ন সত্যি হল বিরাটের : কোহলির ব্যাটেই আইপিএল চাম্পিয়ন বেঙ্গালুরু



