সোমনাথ আচার্য, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : আগামী রবিবার শেষ হচ্ছে পিতৃপক্ষ। দেবীপক্ষের সূচনা ঘটবে মহালয়ার দিনে। প্রতি বছর এই দিনটি নিয়ে মানুষের আবেগ আলাদা, কারণ দেবী দুর্গার আগমনী- সূচনা হয় এই সময় থেকেই। কিন্তু ২০২৫ সালে মহালয়ার দিনটিকে ঘিরে আরও একটি বিরল ঘটনা ঘটতে চলেছে, বছরের শেষ সূর্যগ্রহণ। জ্যোতিষশাস্ত্র ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের দিক থেকে এই সূর্যগ্রহণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, রবিবার সন্ধেয় শুরু হবে বছরের শেষ সূর্যগ্রহণ। ভারতীয় সময় রাত ১০টা ৫৯ মিনিটে শুরু হয়ে গ্রহণ চলবে ২২ সেপ্টেম্বর ভোর ৩টা ২৩ মিনিট পর্যন্ত। আশ্বিন কৃষ্ণপক্ষের অমাবস্যা তিথিতে, কন্যা রাশিতে ও উত্তরফাল্গুনী নক্ষত্রে এই খণ্ডগ্রাস সূর্যগ্রহণ হবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এই সূর্যগ্রহণ ভারতের বাসিন্দাদের জন্য দৃশ্যমান হবে না। এটি দেখা যাবে নিউজিল্যান্ড (New Zealand), ফিজি (Fiji), অ্যান্টার্কটিকা (Antarctica) এবং অস্ট্রেলিয়ার (Australia) দক্ষিণাঞ্চলে। ফলে ভারতীয়রা এই গ্রহণ সরাসরি প্রত্যক্ষ করতে পারবেন না।

কিন্তু গ্রহণ মানেই সূতককালের প্রসঙ্গ সামনে আসে। শাস্ত্র মতে, গ্রহণ শুরু হওয়ার ১২ ঘণ্টা আগে সূতককাল কার্যকর হয়। তবে যেহেতু ২১ সেপ্টেম্বরের সূর্যগ্রহণ ভারতে দৃশ্যমান হবে না, তাই সূতককালও কার্যকর হবে না। কিন্তু যেসব দেশে গ্রহণ প্রত্যক্ষ করা যাবে, সেখানে অবশ্যই সূতককাল মান্য করতে হবে।সনাতন ধর্মীয় আচার অনুযায়ী, সূতককালে পূজা-পাঠ, মঙ্গলকাজ কিংবা আহার-বিহার নিষিদ্ধ থাকে। তবে ভারতীয়দের ক্ষেত্রে এইবার সূর্যগ্রহণে এমন কোনও বিধিনিষেধ মানার দরকার নেই বলে উল্লেখ।
এই বছরের শেষ সূর্যগ্রহণটি খণ্ডগ্রাস হবে। অর্থাৎ, চন্দ্র সূর্যের সম্পূর্ণ অংশ আড়াল করতে পারবে না। শুধুমাত্র সূর্যের কিছু অংশ চাঁদের আড়ালে ঢেকে যাবে। সাধারণত এই ধরনের গ্রহণে আকাশে সূর্যের একাংশ যেন অদৃশ্য হয়ে যায়, ফলে প্রকৃতির রঙ বদলে যায়।অন্যদিকে, জ্যোতিষশাস্ত্রে গ্রহণের প্রভাব
গ্রহণ নিয়ে বরাবরই জ্যোতিষশাস্ত্রে নানা মত রয়েছে। অনেক জ্যোতিষবিদ মনে করেন, প্রতিটি সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ মানুষের ব্যক্তিজীবন, সমাজ ও রাজনীতিতে প্রভাব ফেলে। ২১ সেপ্টেম্বরের গ্রহণের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হবে না। জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, এই গ্রহণের প্রভাব সব রাশির উপর কমবেশি পড়বে। বিশেষত কন্যা রাশিতে গ্রহণ ঘটায় ওই রাশির জাতকদের জীবনে নানা পরিবর্তন ঘটতে পারে বলে অনুমান।
প্রখ্যাত জ্যোতিষী অমরনাথ মুখোপাধ্যায় এবিষয়ে বলেছেন, “গ্রহণ মানেই ইতিবাচক বা নেতিবাচক শক্তির প্রভাব সক্রিয় হয়। এই গ্রহণ যেহেতু দেবীপক্ষের সূচনায় ঘটছে, তাই জীবনের নানা ক্ষেত্রে রূপান্তর ও নতুন দিশা দেখা যেতে পারে।” অন্যদিকে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, গ্রহণের সময় মহাকাশ পর্যবেক্ষণ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বিজ্ঞানী সুশান্ত দে জানিয়েছেন, “গ্রহণ আমাদের সূর্য, চন্দ্র ও পৃথিবীর সম্পর্ক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়। এই খণ্ডগ্রাস সূর্যগ্রহণও গবেষণার ক্ষেত্রে মূল্যবান।”
আবার মহালয়ার সূর্যগ্রহণের বিশেষ তাৎপর্য সম্পর্কে জানা যায়, মহালয়ার দিন মানেই একদিকে দেবীপক্ষের সূচনা, অন্যদিকে পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের দিন। এই বিশেষ দিনে সূর্যগ্রহণ হওয়ায় অনেকেই একে আধ্যাত্মিক দিক থেকে ভিন্ন গুরুত্ব দিচ্ছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গ্রহণ যদিও ভারতে দৃশ্যমান হবে না, তবুও সময়ের এই কাকতালীয় মিল এটিকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলছে। এটি ২০২৫ সালের শেষ সূর্যগ্রহণ তাই কেবল জ্যোতির্বিদ্যা নয়, আধ্যাত্মিকতা ও জ্যোতিষশাস্ত্র সবদিক থেকেই আলোচনায় থাকবে। যদিও ভারতে এই বিরল দৃশ্য দেখা যাবে না, বিশ্বজুড়ে অনেক গবেষক ও জ্যোতিষী এর ওপর নজর রাখবেন।
-প্রতীকী চিত্র
আরও পড়ুন : Megan McArthur retirement, NASA astronaut Megan McArthur | মহাকাশ ইতিহাসে নতুন অধ্যায়: স্পেসএক্স ড্রাগন-এর প্রথম নারী পাইলট মেগান ম্যাকআর্থার অবসর নিলেন নাসা থেকে




