সাশ্রয় নিউজ ★ মস্কো: আন্তর্জাতিক কূটনীতির জটিল অঙ্কে ভারত-রাশিয়ার (India-Russia Relation) বন্ধুত্ব বারবার আলোচনায় আসে। এবার রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সার্গেই লাভরভ (Sergey Lavrov) স্পষ্ট জানালেন, এই সম্পর্ক অটুট, ভাঙার চেষ্টা করলে তা কখনোই সফল হবে না। তাঁর মতে, ভারত ও রাশিয়ার সম্পর্ক শুধু রাজনৈতিক নয়, ঐতিহাসিক, কৌশলগত এবং মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগসূত্রে গড়া, যা ভাঙা প্রায় অসম্ভব।
রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) মস্কোয় সাংবাদিক বৈঠকে লাভরভ বলেন, “ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক বহু দশকের, এবং সময়ের সঙ্গে তা আরও গভীর হয়েছে। যারা এই সম্পর্ক দুর্বল করার চেষ্টা করছে, তারা শেষমেশ ব্যর্থ হবে।” তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট, পশ্চিমা চাপ থাকলেও রাশিয়া ভারতের পাশে অটল। উল্লেখ্য যে, ভারত-রাশিয়ার ঘনিষ্ঠতার অন্যতম উদাহরণ জ্বালানি সহযোগিতা। রাশিয়া থেকে তেল আমদানির জন্য ওয়াশিংটনের চাপ বারবার এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) তেলের উপর শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে সরাসরি ৫০ শতাংশ করে দিলেও ভারত নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থেকেছে। রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রীর প্রশংসায় উঠে আসে এ কথাই, “আন্তর্জাতিক বিষয়ে ভারত নিজেদের স্বাধীন অবস্থান ধরে রেখেছে, কারও সামনে মাথা নত করেনি।”
শুধু জ্বালানি নয়, প্রতিরক্ষা ও মহাকাশেও দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা বহুবছরের। চলতি মাসেই ভারত-রাশিয়া যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশ নিতে চলেছে। এ ছাড়া মহাকাশ কর্মসূচিতে ভারতের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রাশিয়া। রসকসমস (Roscosmos)-এর তত্ত্বাবধানে ভারতীয় মহাকাশচারীরা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং পারস্পরিক কৌশলগত স্বার্থ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করেছে। তবে এই ঘনিষ্ঠতা ভাল চোখে দেখছে না আমেরিকা। ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে ওয়াশিংটন ও ন্যাটো (NATO) চাপ বাড়ালেও ভারত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তাদের কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত কেবলমাত্র তাদের নিজস্ব জাতীয় স্বার্থকেই প্রাধান্য দেয়। ট্রাম্প এরই প্রতিক্রিয়ায় শুল্ক দ্বিগুণ করে দিলেও ভারত নতি স্বীকার করেনি। এ প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ন্যাটো ও জি-৭ (G7) দেশগুলির কাছেও আহ্বান জানিয়েছেন, ভারত ও চিনের মতো বাজারগুলির উপর আরও বেশি বাণিজ্যিক চাপ সৃষ্টি করতে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল মনে করছেন, ভারত-রাশিয়ার সম্পর্ক একটি ‘স্ট্র্যাটেজিক ব্যালান্স’-এর প্রতীক। একদিকে ভারত আমেরিকার সঙ্গেও অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে সম্পর্ক গভীর করছে, অন্যদিকে ঐতিহাসিকভাবে রাশিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি ক্ষেত্রে সহযোগিতা বজায় রাখছে। ফলে ভারতের এই ভারসাম্য নীতি পশ্চিমাদের জন্য একরকম চ্যালেঞ্জই বটে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্র মতে, রাশিয়ার সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা কেবল অতীতের স্মৃতি নয়, তা বর্তমান ও ভবিষ্যতের বাস্তব প্রয়োজনে গভীরতর হচ্ছে। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে নতুন উচ্চতা ছোঁয়ার পাশাপাশি মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগ দুই দেশকেই আরও ঘনিষ্ঠ করছে। আন্তর্জাতিক মহলে ভারতকে স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরছে। সার্গেই লাভরভের মন্তব্য তাই শুধু কূটনৈতিক বার্তাই নয়, এক ধরনের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিও বটে, যে কোনও চাপ বা ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও ভারত-রাশিয়ার সম্পর্ক আগামীতেও অটুট থাকবে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : PM Narendra Modi in Kolkata Kolkata, Vijay Durg Conference | বিজয় দুর্গে ঐতিহাসিক যৌথ সেনাপতি সম্মেলনের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী




