সুজয়নীল দাশগুপ্ত, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক : ভারতের মহিলাদের ক্রিকেটে সবচেয়ে উজ্জ্বল নামগুলির মধ্যে অন্যতম স্মৃতি মন্ধানা (Smriti Mandhana)। সম্প্রতি মহিলা ক্রিকেট বিশ্বকাপ জিতে দেশে ফিরেছেন তিনি। গোটা প্রতিযোগিতায় তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ধারাবাহিক রান, গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস এবং দলের প্রয়োজনে সামনে থেকে নেতৃত্ব। অথচ এই বিশ্বজয়ী ভারতীয় তারকা একসময় মাত্র সাত বছর বয়সে নিজের হাতে ব্যাট তুলতেই পারতেন না। সেই কথাই সোমবার সমাজমাধ্যমে এক আবেগী পোস্টে জানিয়ে দিলেন স্মৃতি।
তাঁর কথায়, ছোটবেলায় ব্যাট তোলার শক্তি ছিল না ঠিকই, কিন্তু মনের জেদ আর স্বপ্ন ছিল পাহাড়সমান। আর সেই স্বপ্নই তাঁকে এনে দিয়েছে আজকের অবস্থান, বিশ্বকাপজয়ী দলের অন্যতম স্তম্ভ। স্মৃতি লিখেছেন, “আমার যখন সাত বছর বয়স, তখন দাদার দেওয়া ব্যাট তুলতেই পারতাম না। কিন্তু তখনই মনে হয়েছিল, আমি খেলতে পারব। জীবনে বড় কিছু অর্জন করা সম্ভব। প্রত্যেক ছেলে-মেয়ের সেই সুযোগ পাওয়া উচিত। শুধু জেতার জন্য নয়, নিজেদের ক্ষমতা বোঝার জন্যও।”

বিশ্ব শিশু দিবস উপলক্ষ্যে তিনি এই বার্তাই দিতে চাইলেন, খেলার স্বপ্ন দেখুক ছোটরা, সুযোগ পাক, চেষ্টা করুক নিজের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার। তিনি আরও লেখেন, “বিশ্ব শিশু দিবসে আমি সব ছেলে-মেয়েদের পাশে দাঁড়ানোর কথা বলতে চাই। কারণ মেয়েরাও সমান সুযোগ পাওয়ার যোগ্য।” সেই পোস্টের সঙ্গে স্মৃতি যুক্ত করেছেন তাঁর ছোটবেলার একটি ছবি। সেখানে দেখা যায়, কয়েক বছরের ছোট্ট স্মৃতি ব্যাট হাতে দাঁড়িয়ে আছেন, যেন ভবিষ্যতের ক্রিকেটার হয়ে ওঠার প্রস্তুতি তখন থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে। সম্প্রতি বিশ্বকাপ জেতার পরে মাঠেই তাকে কেঁদে ফেলতে দেখা গিয়েছিল। অনেকের কাছে তা বিস্ময়ের হলেও, আসলে এই সাফল্যের পিছনে লুকিয়ে রয়েছে বহু বছরের কষ্ট, চোখের জলে ভেসে যাওয়া স্বপ্ন এবং অপূরণীয় আঘাতের স্মৃতি। সেই প্রসঙ্গে কয়েক দিন আগে স্মৃতি বলেছিলেন, “১০ বছর হয়ে গেল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছি। ২০১৭ আর ২০২০ দুটো বিশ্বকাপেই মন ভেঙে গিয়েছিল। তার পরে দু’টো সেমিফাইনালে হেরেছি, যেগুলো পরে মনে হয়েছিল নিশ্চয়ই জেতা যেত। এমন প্রতিটা হারই মনে গভীর দাগ রেখে গিয়েছে।”
কিন্তু, সেই ব্যর্থতা তাঁকে আরও দৃঢ় করেছে। প্রতিটি হতাশা থেকে উঠে দাঁড়ানোর শক্তি জুগিয়েছে নতুন করে চেষ্টা করার সাহস। স্মৃতি আরও বলেছিলেন, “এর পরের প্রতিটা দিন একটাই জিনিস অনুপ্রাণিত করেছে, জার্সিতে ‘চ্যাম্পিয়ন্স’ লেখা দেখার ইচ্ছে। যে কোনও ক্রিকেটার চায় বিশ্বকাপ জিততে। ছোট থেকেই সেই স্বপ্ন দেখি। নিজের দেশের মাঠে ৫০ হাজার মানুষের সামনে খেলা এবং বিশ্বকাপ তুলে ধরা, এই অনুভূতি ভাষায় বোঝানো অসম্ভব।” এবারের বিশ্বকাপ জয়ের পর দেশের অসংখ্য মেয়ের কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছেন স্মৃতি মন্ধানা। তাঁর জীবনের গল্প প্রমাণ করে দেয়, শুরুটা যতই কঠিন হোক, সঠিক লড়াই, মনোবল আর স্বপ্ন থাকলে শেষপথ কখনও অসম্ভব নয়।

ভারতের ক্রিকেট সংস্কৃতিতে দীর্ঘদিন ধরে পুরুষদের দাপট থাকলেও, স্মৃতি, হার্মনপ্রীত কৌর (Harmanpreet Kaur), রেনুকা সিং (Renuka Singh) -এর মতো ক্রিকেটাররা মেয়েদের ক্রিকেটকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছেন। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, স্মৃতি এখন শুধু ব্যাটার নন, ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের ‘গেম-চেঞ্জার’। উল্লেখ্য, দেশজুড়ে তাঁর পোস্ট ছড়িয়ে পড়তেই হাজার হাজার মানুষ বলছেন, সাত বছরের সেই ক্ষুদে মেয়েটির হাতে ব্যাট হয়তো ভারী ছিল, কিন্তু স্বপ্ন ছিল আলো ছড়াবার মতো হালকা, মুক্ত এবং উজ্জ্বল। সেই স্বপ্নই তাকে আজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ব্যাটার করে তুলেছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Smriti Mandhana, World Cup victory | স্মৃতি মন্ধানার চোখের জল! বিশ্বকাপ জয়ের পর আবেগে ভাসলেন টিম ইন্ডিয়ার তারকা




