সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির অন্দরমহলে এবার এক অভিনব উদ্যোগ। সরাসরি কর্মীদের সঙ্গে কথা বলার জন্য রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya) শুরু করতে চলেছেন ‘কর্মী দরবার’। দলের ভাষায় এই কর্মসূচির নাম রাখা হয়েছে, ‘কার্যকর্তা বন্ধুদের দরবার’। বিজেপির রাজনীতিতে এই ধরনের আয়োজন পশ্চিমবঙ্গে এই প্রথমবার হতে চলেছে। উদ্দেশ্য একটাই, দলের প্রতিটি কর্মী যাতে অভিযোগ, সমস্যা বা পরামর্শ সরাসরি সভাপতির কাছে পৌঁছে দিতে পারেন।
রাজ্যের নানা প্রান্তে বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ, অসন্তোষ বা অভ্যন্তরীণ কোন্দলের অভিযোগ তুলে আসছিলেন। নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা হলেই তার বিরোধিতা, কোথাও সভাপতি আক্রান্ত হওয়া থেকে শুরু করে অনেকে প্রকাশ্যে দলীয় সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্টি জানিয়ে আসছিলেন। শমীক ভট্টাচার্যের এই দরবার সেই সমস্যার সমাধানে এক নতুন দিশা দেবে বলেই মনে করছেন অনেকেই।শমীক নিজে জানিয়েছেন, ‘যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই দরবার শুরু করব। সপ্তাহে এক দিন মুরলীধর সেন লেনের (Muralidhar Sen Lane) দফতরে বসব। কর্মীরা যাতে সরাসরি আমার কাছে তাঁদের কথা বলতে পারেন, সেই ব্যবস্থাই করতে চাই। কবে থেকে শুরু হচ্ছে, সময়মতো সকলে জেনে যাবেন।’ বিজেপির সূত্রে খবর, সেপ্টেম্বর থেকেই এই কর্মসূচি চালু হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

গঠিত হলে সেখানেই দায়িত্ব বণ্টন হবে। আর সেই প্রক্রিয়া এখনও শেষ হয়নি। ফলে কমিটি গঠনের আগে কর্মীদের অভিযোগ শোনার কাজ শুরু করলে কার্যকর ফল পাওয়া কঠিন হবে বলেই মনে করছে সভাপতির ঘনিষ্ঠ মহল। তাঁদের কথায়, ‘কর্মীরা নানা সাংগঠনিক সমস্যার সমাধানের আশা নিয়ে আসবেন। আর সেই সমাধানের জন্য পুরো টিমকে সঙ্গে চাই। এক একজনের উপর আলাদা দায়িত্ব থাকে। তাই দায়িত্ব বণ্টন না হওয়া পর্যন্ত দরবার শুরু করলেও কাজের সুবিধে হবে না।’ দ্বিতীয়ত, মুরলীধর সেন লেনের দফতর এখন বড়সড় সংস্কারের মধ্যে রয়েছে। পুরো ভবন ঢেলে সাজানো হচ্ছে। সেই কাজ শেষ হতে কিছুটা সময় লাগবে। কাজের অগ্রগতি দেখে দরবার শুরুর দিন চূড়ান্ত করা হবে।
কেন এই দরবার মুরলীধর সেন লেনের অফিসেই? দলের মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার (Debjit Sarkar) বলেন, ‘সেক্টর ফাইভের (Sector V) অফিসে পৌঁছনো জেলা থেকে আসা কর্মীদের জন্য কঠিন। সল্টলেকের (Salt Lake) রাস্তাঘাট বা যাতায়াত সবার পরিচিত নয়। গণপরিবহণও কম। কিন্তু মুরলীধর সেন লেনের অফিস শিয়ালদহ (Sealdah) বা হাওড়া (Howrah) স্টেশন থেকে সহজেই পৌঁছনো যায়। দূরদূরান্তের কর্মীরাও চেনেন। তাই সভাপতির কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার জন্য এটিই সেরা জায়গা।’ বিজেপির অন্দর সূত্রে খবর, কর্মীদের আবেগের কথা ভেবে ওই দফতরে আরও কিছু পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে নিরাপত্তার কারণে দফতরের দোতলার সিঁড়িতে লোহার গ্রিল ও দরজা বসানো হয়েছিল। যাতে যে কেউ হঠাৎ করে ওপরে উঠতে না পারেন। কিন্তু তাতে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন অনেক কর্মী। কেউ কেউ দলীয় দফতরে যাওয়া বন্ধও করে দেন। শমীক সেই বাধা দূর করে গ্রিল-গেট সরিয়ে ফেলতে চান বলে সূত্রের খবর।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ বিজেপির ভেতরে স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে আরও জোরদার করতে পারে। এতদিন অভিযোগ ছিল, শুধু নেতাদের মতামতকেই গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হত। কর্মীদের কণ্ঠস্বর পৌঁছত না নেতৃত্বের কানে। এবার সভাপতি নিজে যদি নিয়মিত শুনতে বসেন, তাহলে বাস্তব চিত্র পরিষ্কার হবে। পাশাপাশি, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বা পক্ষপাতিত্ব কমানোর ক্ষেত্রেও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। তবে বিজেপির ভেতরে অনেকেই মনে করছেন, এই দরবার শুরুর বাস্তব প্রয়োগই আসল পরীক্ষা। কর্মীদের সমস্যার সমাধান যদি সত্যিই হয়, তবেই তার সুফল মিলবে। নাহলে এটি শুধু প্রথাগত কর্মসূচি হিসেবেই থেকে যাবে। সব মিলিয়ে, রাজ্য বিজেপির অন্দরে শমীক ভট্টাচার্যের এই নতুন প্রয়াস ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Mobile Recharge Cost in India | মোবাইল রিচার্জের বাড়তি চাপ: সংকটে মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবার, জরুরি পদক্ষেপের দাবি




