Shahnaj Begum resigns Murshidabad | ‘চোর জেলা পরিষদের অংশ হতে পারি না’ : মুর্শিদাবাদে তৃণমূলকে কড়া আক্রমণ করে পদত্যাগ শাহনাজ বেগমের, নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে জল্পনা তুঙ্গে

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ মুর্শিদাবাদ: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ফের অস্বস্তিতে শাসক তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)। মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদকে সরাসরি ‘চোর’ আখ্যা দিয়ে নিজের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন জেলা পরিষদের সদস্য তথা তৃণমূল নেত্রী শাহনাজ বেগম (Shahnaj Begum)। বৃহস্পতিবার সমাজমাধ্যমে ইস্তফার কথা ঘোষণা করতেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চর্চা। শুধু পদত্যাগ নয়, তাঁর বিস্ফোরক মন্তব্য ঘিরে উঠছে আরও বড় প্রশ্ন! তবে কি এবার তৃণমূল ছেড়ে নতুন রাজনৈতিক দলে যোগ দিতে চলেছেন হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)-ঘনিষ্ঠ এই নেত্রী?

 

শাহনাজ বেগম মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের নির্বাচিত সদস্য ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরেই জেলার রাজনীতিতে পরিচিত মুখ। সমাজমাধ্যমে দেওয়া তাঁর বার্তায় তিনি স্পষ্ট ভাষায় লেখেন, ‘চোর জেলা পরিষদের অংশীদার হয়ে থাকা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই আমি ১৭ ডিসেম্বর সম্মানীয় ডিভিশনাল কমিশনার সাহেবের কাছে মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের সদস্যপদ থেকে আমার ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছি।’ এই মন্তব্যই রাজনৈতিক মহলে প্রবল আলোড়ন ফেলেছে। উল্লেখ্য যে, ইস্তফার পর জেলার সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে আবেগঘন বার্তাও দিয়েছেন শাহনাজ বেগম (Shahnaj Begum)। তিনি লেখেন, ‘সোমপাড়া-১, সোমপাড়া-২, রামপাড়া-১ এবং রামনগর বাছড়ার মানুষ ২০১৩ সাল থেকে একই আসনে পরপর তিন বার আমাকে নির্বাচিত করেছেন। দলমত, জাতি-বর্ণ-ধর্ম নির্বিশেষে অভিভাবক হয়ে আপনারা আমাকে আশীর্বাদ করেছেন। আপনাদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা, ভালবাসা ও শ্রদ্ধা চিরদিন থাকবে। কিন্তু আপনাদের দেওয়া পদের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই আমাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হতে হল।’ তাঁর এই বক্তব্যে স্পষ্ট, পদত্যাগের সিদ্ধান্ত সহজ ছিল না, তবে নিজের বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থাকাকেই তিনি অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

এই পদত্যাগ হঠাৎ নয় বলেই দাবি রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালেই মুর্শিদাবাদ জেলার মহিলা তৃণমূল সভানেত্রীর পদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছিলেন শাহনাজ। সেই সময়ও তাঁর বক্তব্য ছিল, ‘অন্যায়ের সঙ্গে আপস করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।’ অর্থাৎ দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রশ্নে তিনি যে আপসহীন অবস্থানেই রয়েছেন, তারই ধারাবাহিকতা দেখা গেল এবার জেলা পরিষদের পদত্যাগে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের আর্থিক অনিয়ম ও প্রশাসনিক বেনিয়ম নিয়ে একাধিক বার দলীয় নেতৃত্ব এবং প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছিলেন শাহনাজ বেগম (Shahnaj Begum)। শুধু তা-ই নয়, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) -এর দফতরেও তিনি চিঠি পাঠিয়েছিলেন বলে দাবি। কিন্তু সেই অভিযোগগুলির কোনও সুরাহা হয়নি। তাঁর আশঙ্কা, সেই চিঠি আদৌ মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পৌঁছেছিল কি না, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।

শাহনাজ বেগমের রাজনৈতিক যাত্রাপথও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। একসময় তিনি কংগ্রেসের (Congress) রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০১৬ সালের আগে মুর্শিদাবাদে যখন তৃণমূলের সংগঠন তুলনামূলক দুর্বল ছিল, তখন কংগ্রেসের জেলা পরিষদের সদস্য ছিলেন শাহনাজ। তাঁর নেতৃত্বেই তৃণমূল কংগ্রেস কংগ্রেসের হাত থেকে জেলা পরিষদের ক্ষমতা দখল করে বলে স্থানীয় রাজনীতিতে প্রচলিত ধারণা। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে তৃণমূলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। তবে ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর থেকে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। তাঁকে উপেক্ষা করে মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের সভাধিপতি হিসেবে রুবিয়া সুলতানাকে (Rubia Sultana) দায়িত্ব দেওয়া হয়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, সেই সময় থেকেই দলীয় রাজনীতিতে নিজেকে গুটিয়ে নিতে শুরু করেন শাহনাজ। এই উপেক্ষাই তাঁর ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে তোলে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

অন্যদিকে, শাহনাজ বেগম (Shahnaj Begum) বরাবরই ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir) -এর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। হুমায়ুন কবীর সম্প্রতি নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। সেই প্রেক্ষাপটে শাহনাজের পদত্যাগ ঘিরে জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে। তিনি কি এবার হুমায়ুনের নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে যোগ দিতে চলেছেন? এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিলেও তিনি সম্ভাবনা উড়িয়েও দেননি। এই প্রসঙ্গে শাহনাজ বলেন, ‘হুমায়ুন যখন লোকসভা ভোটের আগে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন, তখন কেন তাঁকে সাম্প্রদায়িক বলা হয়নি? বাবরি মসজিদ স্থাপনের কথা তিনি নতুন করে বলেননি। এই মসজিদের সঙ্গে সংখ্যালঘু মানুষের আবেগ জড়িয়ে আছে। যাঁরা এর বিরোধিতা করছেন, তাঁদের মানুষ কী চোখে দেখছে, তা আগামী দিনে বোঝা যাবে।’ তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, সংখ্যালঘু রাজনীতির প্রশ্নে তিনি আপসহীন অবস্থানেই থাকতে চান। তিনি আরও বলেন, ‘আমি রাজনীতি করা মানুষ। নিশ্চয়ই কোনও না কোনও রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে থাকব। সংখ্যালঘুদের অধিকারের জন্য লড়ব। কারও তাঁবেদারি করতে পারব না।’ এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর প্রশ্ন নেই, বরং নতুন পথে হাঁটার ইঙ্গিত রয়েছে।

উল্লেখ্য যে, শাহনাজ বেগমের এই পদত্যাগ শুধু একটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, তা মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের সূচনা বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরেই যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দানা বাঁধছে, এই ঘটনা তারই আরেকটি বড় উদাহরণ। এখন দেখার, শাহনাজ বেগমের পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ কী হয় এবং তা মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে।

ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : TMC Gears Up for SIR Second Phase, Mamata to Address BLA Meet | এসআইআরের দ্বিতীয় পর্বে তৃণমূলের মাস্টারপ্ল্যান: নেতাজি ইন্ডোরে বিএলএ বৈঠকে বুথ স্তরকে শক্ত করার বার্তা দিতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন