Delhi Airport flights cancelled due to fog | ঘন কুয়াশার দাপটে দিল্লি বিমানবন্দরে বিমান পরিষেবা বিপর্যস্ত, বাতিল ২৭টি ফ্লাইট, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: ঘন কুয়াশার কবলে পড়ে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কার্যত থমকে গেল রাজধানীর আকাশপথ। দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (Indira Gandhi International Airport) দৃশ্যমানতা নেমে যাওয়ায় একাধিক বিমান পরিষেবা ব্যাহত হয়। দিল্লি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট লিমিটেড (Delhi International Airport Limited – DIAL) -এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘন কুয়াশার কারণে মোট ২৭টি বিমান বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি ছিল ছাড়ার ফ্লাইট এবং ১১টি ছিল আগমনের ফ্লাইট। পাশাপাশি আরও বহু বিমান নির্ধারিত সময়ের তুলনায় দেরিতে চলেছে, ফলে যাত্রীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোর থেকে দিল্লি ও তার আশপাশের এলাকায় ঘন কুয়াশা জমতে শুরু করে। দৃশ্যমানতা দ্রুত কমে যাওয়ায় রানওয়েতে স্বাভাবিক বিমান ওঠানামা সম্ভব হয়নি। এই পরিস্থিতিতে যাত্রী নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে একাধিক এয়ারলাইন্সকে তাদের ফ্লাইট বাতিল অথবা পুনঃনির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিতে হয়। DIAL-এর এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘এই মুহূর্তে দিল্লি বিমানবন্দরে ঘন কুয়াশার কারণে ফ্লাইট অপারেশন CAT-III পরিস্থিতির মধ্যে চলছে, যার ফলে বিলম্ব বা পরিষেবা ব্যাহত হওয়া স্বাভাবিক।’ উল্লেখ্য, CAT-III পরিস্থিতি বলতে বোঝায় এমন এক বিশেষ অবতরণ ব্যবস্থা, যেখানে অত্যন্ত কম দৃশ্যমানতার মধ্যেও বিমান নামানো সম্ভব হয়। সাধারণত কুয়াশা, ভারী বৃষ্টি বা তুষারপাতের সময় এই ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়। CAT-III ইনস্ট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম (Instrument Landing System – ILS) অনুযায়ী রানওয়ের দৃশ্যমানতা (Runway Visual Range – RVR) মাত্র ৫০ থেকে ২০০ মিটারের মধ্যে থাকলেও বিমান অবতরণ করতে পারে। তবে এই পদ্ধতিতে অবতরণ করার জন্য শুধু পাইলটদের বিশেষ প্রশিক্ষণ থাকলেই হয় না, সংশ্লিষ্ট বিমানকেও প্রযুক্তিগতভাবে CAT-III কমপ্লায়েন্ট হতে হয়।

DIAL-এর তরফে জারি করা যাত্রী পরামর্শে বলা হয়েছে, ‘যাত্রীরা যেন বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে নিজেদের এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের বর্তমান অবস্থা জেনে নেন।’ একই সঙ্গে যাত্রীদের আগাম সতর্ক করে জানানো হয়েছে যে, আবহাওয়ার পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত বিলম্ব বা বাতিলের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে অতিরিক্ত গ্রাউন্ড স্টাফ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে যাত্রীদের সহায়তা করা যায় এবং পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হয়। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দূরপাল্লার যাত্রীরা। অনেকেই ভোররাতে বিমান ধরার জন্য বিমানবন্দরে পৌঁছে জানতে পারেন যে তাঁদের ফ্লাইট বাতিল হয়েছে বা অনির্দিষ্টকালের জন্য দেরি হবে। এক যাত্রী জানান, ‘ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও স্পষ্ট কোনও তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। কুয়াশা যে সমস্যা তৈরি করবে তা জানা ছিল, কিন্তু এত বড় আকারে পরিষেবা ব্যাহত হবে ভাবিনি।’ অন্য এক যাত্রী বলেন, ‘কাজের জরুরি বৈঠকের জন্য মুম্বাইতে (Mumbai) যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় পুরো পরিকল্পনাই ভেস্তে গেল।’

শীতের মরশুম এলেই উত্তর ভারতের আকাশপথে কুয়াশাজনিত সমস্যা নতুন নয়। বিশেষ করে দিল্লি বিমানবন্দর, যা দেশের ব্যস্ততম বিমানবন্দরগুলির মধ্যে অন্যতম, সেখানে প্রতি বছরই ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে একই ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলিতে CAT-III প্রযুক্তি চালু হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রেই বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে, তবুও সব বিমান এবং সব পাইলট এই ব্যবস্থার আওতায় পড়ে না। ফলে কুয়াশা ঘন হলেই বাধ্যতামূলকভাবে কিছু ফ্লাইট বাতিল বা দেরি করতে হয়। বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞদের মতে, আবহাওয়া সংক্রান্ত পূর্বাভাস আরও নির্ভুল হলে এবং এয়ারলাইন্সগুলি আগাম পরিকল্পনা করলে যাত্রী ভোগান্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে যাত্রীদেরও শীতকালে ভ্রমণের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সময় হাতে রেখে পরিকল্পনা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। দিল্লি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছে, পরিস্থিতির উপর তারা সার্বক্ষণিক নজর রাখছে এবং দৃশ্যমানতা বাড়লেই ধাপে ধাপে স্বাভাবিক ফ্লাইট অপারেশন চালু করা হবে। উল্লেখ্য, ঘন কুয়াশার কারণে দিল্লি বিমানবন্দরে ফের একবার বড়সড় বিমান পরিষেবা বিপর্যয় সামনে এল। বাতিল ও বিলম্বিত ফ্লাইটের জেরে হাজার হাজার যাত্রীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। আবহাওয়ার উন্নতি না হলে আগামী কয়েকদিনেও একই ধরনের পরিস্থিতি চলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Delhi No PUC No Fuel rule | দূষণ রুখতে দিল্লিতে কার্যকর ‘নো পিইউসি, নো ফুয়েল’ নীতি, পেট্রোল পাম্পে কম ভিড়, কাগজ না থাকলে ফিরছেন চালকরা

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন