Sasraya News | Sunday’s Literature Special, Issue 78 | 24th August 2025 | সাশ্রয় নিউজ রবিবারের সাহিত্য স্পেশাল | সংখ্যা ৭৮, ২৪ আগষ্ট ২০২৫

SHARE:

সম্পাদকীয়

কিছু লেখা যদি প্রেম ভালোবাসায় জমে থাকতো তাহলে হয়তো কোন অনুভূতি প্রকাশ হত রোমকুপে, মনের সুতোয় অথবা প্রাণের শহরে। কিন্তু কষ্ট আজ।  বড্ড কষ্ট। কারণ মানুষ তার নিজস্বসত্তাকেই হারাতে বসেছে। ধীর গতি নিয়েছে। আরো আরো গতিময় করে তুলবে নতুন প্রাণের ভিতরে। সবুজ অভিনন্দন এগিয়ে আসবে হয়তো কিন্ত, মেধা থাকবে না। মেধা গিলে খাবে প্রতি নিয়ত। আর একটি নির্দিষ্ট শ্রেণী পর্যন্ত উপলব্ধি থাকবে অথচ কর্মহীনতা প্রকাশ ঘটবে আর ঘটবেই। কারণ আবিষ্কার জানে না যে সৃষ্টি করেছে সেই অদৃশ্য। তাহলে যে বাঁচিয় রেখেছে! সেও অদৃশ্য।

বেঁচে থাকার রহস্য খুঁজতে গিয়ে গভীরে ডুব দিলে তলিয়ে যেতে হয়। গভীরে যেতে হলে তো সাঁতার জানতে হবে না হলে তো পৌঁছুনোই হবে না। আর কোন স্রোতে ধাক্কায় পৌঁছে গেলেও শরীর না নড়ালে টিকতেও পারবে না। তাহলে এখানে বুঝেনিতে হবে। সাঁতার কাটার সময় সঙ্গে কেউ থাকবেনা । একাই সাঁতরে যেতে হবে গভীর জলে গিয়ে শরীর দুলিয়ে প্রাণ রক্ষা করবার কৌশল জানতে হবে। তবে পৃথিবীতে জ্ঞান এলে প্রাণ রক্ষা করবার দ্বায়িত্ব নিজেরই। এই কথা ভুলে গেলে চলবে না। অর্থ প্রাণ রক্ষা করতে পারেনা। প্রাণ রক্ষা করতে পারে সংযোম। তাহলে প্রথমেই আমাদের সংযোম হতে হবে। কতটা হতে হবে ঠিক যতটা বেগতিক স্রোত বয়বে ততোটাই। মনে রাখতে হবে জীবনের প্রথম ও শেষ শ্বাসের নাম অলৌকিক। কারণ কেউ জানেই না পৃথিবীতে সে থাকবে না যাবে। প্রকৃতির বজ্র বৃষ্টি ঝড় ইত্যাদির মত। কিন্তু এটা ভুলে গেলেও চলবে না যে, এই অলৌকিক ক্ষমতাকেও কেউ বন্দি করে নিতে পারে তা! জীবনের রহস্য অতীব গভীর অনুভূতি সম্পূর্ণ। ভালোবাসায় প্রেমে যে শক্তি রয়েছে তাকি আজকের তথ্যপ্রয়ুক্তিতে থাকবে? কখনোই না। কারণ ভালোবাসা প্রেম দ্বারাই তথ্যপ্রয়ুক্তির নির্মাণ হয়েছে। এই নির্মাণের মধ্যেই মেধা রেখেছে কিছুটা। এই মেধাই চুরি করবে ঘরে ঘরে। কবি থেকে লেখক, শিল্পী থেকে সাহিত্যিক, সংসার থেকে সমাজ, বিজ্ঞান থেকে দর্শন , ইতিহাস থেকে ভূগোল এগুলো সর্বোপরী বিষয়। এই বিষয় চুরি যেদিন থেকে চুরি হয়ে আসছে সেইদিন থেকেই ধ্বংস শুরু হয়ে গেছে। একদিন শেষ হয়ে যাবে। কথাটি অতি সত্যি। জার জন্ম আছে তার মৃত্যু আছে সে পাথর হোক বা প্রাণ। কখনোই ভুলে গেলে চলবে না যে, সৃষ্টি-জন্মের ইতিহাসে প্রথম কিন্ত প্রেম ভালোবাসার গল্প জুড়ে যায়। এই গল্প একটি প্রাণের মূল্য বোঝায়। কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। রিপুর স্বাদের মধ্যে ভালোবাসা ও প্রেমের গভীর বোধ কাজ করে।🍁

 

 

🍁শ্রীশ্রীঠাকুরের পত্র

৺৭শ্রীশ্রীগুরবে নমঃ
শ্রীহৃষীকেশ আশ্রম
২৮/১২/৮২ রাত্রি ৩টা

শ্রীভগবদ্ বিগ্রহেষূ
বাবা জিতেন, তোরা কেমন আছিস? মার করুণাধারায় স্নাত হবি। তোর দীর্ঘ পত্র আজ একটু আগে শুনলাম। সব কথার উত্তর লিখে উঠতে পারবো না, দাগ দেওয়া রইল, দু বাপ্ বেটায় একদিন নিভৃতে আলাপ করবার ইচ্ছা রইল— তারপর ঠাকুর জানেন।
প্রথমতঃ কটকে ৺জগন্নাথ মন্দিরের কথা— “মেয়ে কি ত্যাগ করা যায়?” বলি— তুই কি করে ভাষণ দিবি — গুরু আমার সুমুখে আমার পেছনে আমার… তদুত্তরে বললি “ভাষণ দিব না।”
তারপর তোদের বাসায় মা তুই ও এ’ তিনজনে নিভৃতে একত্রিত হয়ে জিজ্ঞাসা করি অবশ্য কাঁদতে কাঁদতে — তোরাও কাঁদছিলি। তোদের জিজ্ঞাসা করি— আমার কি করা উচিৎ? তোরা বললি —-বাবা, আপনি যে কাজ করতে এসেছেন আমাদের ত্যাগ করা উচিত। একথা এ’র হৃদয়ে জ্বলন্ত অক্ষরে লেখা আছে। সকলের কাছে তোদের গৌরব করে বলেছি পদ্মা মা ও জিতেন এই কথা বলেছে। তুই শঙ্করকে জিজ্ঞাসা করে দেখিস, রামেশ্বর, তারক, সাধন, গোপাল আরও অনেককে জিজ্ঞাসা করতে পারিস। যাক, অর্থগ্রহণ সম্বন্ধে ভূপেশ প্রার্থনা করে সে নর-নারায়ণ সেবা করাবে — উত্তম। তার টাকা অপেক্ষা বেশী টাকা খরচ করেছি। এবার প্রায়ই দুমন করে চাল ডাল প্রভৃতির দ্বারা নর- নারায়ণ সেবা করানো হয়েছে।
ভূপেশ কোন ভাল জিনিস দিয়ে বলেছে আমায় পয়সা দিন — পয়সা নিয়েছে।

শ্রীশ্রী ঠাকুর সিতারাম দাস ওঙ্কারনাথ দেব

পন্ডিতমন্ডলী জানিয়েছেন ভূপেশের কোন পাতিত্য থাকে নাই “তথাপি লোকিকাচারো মনসাপি ন লঙ্ঘায়েত”। তোদের সরিয়ে সম্প্রদায়ের দুটো বড় বড় থাম সরে গেছে। এ’র হাত গেছে।
তোদের যে কোন পাতিত্য আসেনি তা কি জানি না—- একদিন বারোতলায় বলি রামচন্দ্র কি জানতেন না যে অগ্নিপূতা সীতা পবিত্রা। তথাপি তাঁকে ত্যাগ করেছিলেন। জ্ঞানত জানা নাই তোদের সমভাবাপন্ন কে কে আমাদের দ্বারা গৃহীত হচ্ছে— জানালে আনন্দিত হব।
আমার ধ্রুবানন্দ চাকরী করে প্রথম মাহিনা প্রণামী দিয়েছে। ত্যাগ করবার ক্ষমতা এ’র ছিল না। শোন এ’র লক্ষ্য কোথায়!
প্রত্যেক মানুষের তিনটি করে দেহ আছে। শ্রীভগবানের পরা প্রকৃতি, অংশ হল জীব। দেহত্রয় বিশিষ্ট জীবাত্মা আমি দেহ এই অভিমানে জন্ম-জন্মান্তর ঘুরতে ঘুরতে মানুষ দেহ পায়। সে জীব পাঁচ প্রকার। নিত্য, মুক্ত, বদ্ধ, কেবল, মুমুক্ষু।
নিত্য— অনন্ত, গরুড় প্রভৃতি। মুক্ত— নারদ বশিষ্ট আদি। বদ্ধ জীব— আমি দেহ আমার ঘর দার আত্মীয় স্বজন কন্যা পুত্র আমার মান অপমান ইত্যাদি ইত্যাদি। স্থূল দেহকে আমি ভেবে তার সম্বন্ধ ত্যাগে অপারগ এই বদ্ধ। কেবল— প্রকৃতি হতে আত্মা ভিন্ন শুধু এই বিচার পরায়ণ। মুমুক্ষু— স্থূল, সূক্ষ্ম, কারণ দেহত্রয় হতে মুক্ত হয়ে ভগবানকে লাভ করিতে ইচ্ছুক।
—- ক্রমশঃ।
ঋণ: শ্রীশ্রীঠাকুরের পত্র Ref : বর্ণদূত সীতারাম। সংকলক : কিঙ্কর শরণানন্দ জী।

[পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ভূতপূর্ব ভূমি ও ভূমি রাজস্ব সচিব শ্রী জিতেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়কে লিখিত শ্রীশ্রীঠাকুরের পত্র। ]

 

🍂ফিচার 

 

এই সময় কেন বড় অস্থির

তনুজা বন্দ্যোপাধ্যায়

এই সময়টাকে যেন এক শব্দে ব্যাখ্যা করা যায়, চঞ্চলতা। না, শুধু বাহ্যিক ব্যস্ততা বা কাজের চাপ নয়, এটি এক গভীর, নীরব অস্থিরতা।আমাদের চেতনার অভ্যন্তরে গেঁথে বসেছে। আমরা যে সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি, তা কেবল আর্থ-সামাজিক পরিবর্তনের সময় নয়। বরং এক অস্তিত্বগত দ্বন্দ্বের সময়। মানুষ এখন আর শুধু জীবিকার জন্য বেঁচে নেই, বেঁচে আছে একটি ধোঁয়াশাপূর্ণ সত্তার দ্বন্দ্বে। মানুষ এই সময় নিজেকেই চিনতে পারছে না। এই অস্থিরতার উৎস কোথায়? কেন আজ পৃথিবীর সব সুযোগ-সুবিধা, প্রযুক্তি, ভোগ ও সম্পদের মধ্যে থেকেও মানুষ এতটা শূন্য বোধ করছে? তথ্য প্রযুক্তির বিকাশ মানুষের জীবনযাত্রাকে যেভাবে বদলে দিয়েছে, তা অভূতপূর্ব। এক ক্লিকে পৌঁছে যাওয়া যায় যে কোনও জায়গায়। এক সেকেন্ডে জানা যায় পৃথিবীর খবর। এক মুহূর্তেই কোনও সম্পর্ক গড়ে তোলা যায় আবার ভেঙেও ফেলা যায়।

এই অস্থিরতার মধ্যে দিয়েই কি জন্ম নিচ্ছে নতুন এক উপলব্ধি? ইতিহাস বলছে, সবচেয়ে অন্ধকার সময়ের পরেই আসে আলোর সন্ধান। হয়ত এই অস্থিরতাই আমাদের বাধ্য করছে নিজের ভেতরে ফিরে যেতে। বাইরে যখন কোনও কিছুই স্থায়ী নয়, তখন মানুষ প্রশ্ন তোলে”স্থায়িত্ব কোথায়?”, “শান্তি কোথায়?”, “অর্থ কী?” এই প্রশ্নগুলো থেকেই শুরু হয় এক নতুন যাত্রা যেটা বাইরের দিকে নয়, ভেতরের দিকে।

এই গতিশীলতা একদিকে যেমন আমাদের অভূতপূর্ব সম্ভাবনা এনে দিয়েছে, অন্যদিকে কেড়ে নিয়েছে গভীরতা, ধৈর্য, মন্থরতা। মানুষ এখন কেবল ‘দ্রুত’ চায় : তথ্য, সাফল্য, প্রেম, অর্থ, পরিচিতি। সব কিছু যেন ‘তাড়াতাড়ি’ চাই। কিন্তু জীবনের সবচেয়ে সত্য অনুভবগুলো কি তাড়াহুড়ো করে পাওয়া যায়? প্রেম, উপলব্ধি, শান্তি এই শব্দগুলো সময় চায়, নীরবতা চায়, নিজের সঙ্গে থাকার সুযোগ চায়। কিন্তু আমরা কি সেই সময়টুকু রাখছি? আমাদের জীবনে এখন একটা অস্পষ্ট চাপ বিরাজ করছে ‘কিছু একটা করতে হবে’, ‘অন্যদের চেয়ে ভাল হতে হবে’, ‘সফল হতে হবে’। এই চাপ সমাজের, পরিবারের, আত্মীয়দের, সোশ্যাল মিডিয়ার। যেখানেই তাকাই, এক তুলনার ছায়া। কে কত দূর এগিয়েছে, কার জীবনে কী হয়েছে, কে কেমন ‘স্টেটাস’ দিয়েছে এসব নিয়ে দিন শুরু ও শেষ। অথচ এই তুলনার রাজনীতি এক ভয়াবহ অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা তৈরি করে। আমি কে, আমি কী চাই? এই মৌলিক প্রশ্নগুলো চাপা পড়ে যায় ‘আমি কী করে অন্যকে ছাড়িয়ে যেতে পারি’-এর উত্তেজনায়।
আরও গভীরে গেলে দেখা যায়, সম্পর্কগুলোও আজকাল খুব ভঙ্গুর হয়ে পড়ছে। আমরা বলি ‘কমিউনিকেশন বেড়েছে’, কিন্তু তা কি সত্যিকারের বোঝাপড়াকে বাড়িয়েছে? মানুষ এখন যত কথা বলে, ততটা শোনে না। আমরা মেসেজ করি, ইমোজি পাঠাই, কিন্তু অনুভব ভাগ করি না। ফলে সম্পর্কগুলো হয়ে উঠছে পৃষ্ঠর নিচে গভীরতাবর্জিত। কোনও জটিলতা এলেই মানুষ বেরিয়ে যায়, পালিয়ে যায়, সম্পর্ক ভেঙে যায়। বন্ধুত্ব, প্রেম, পরিবারের বন্ধন সব কিছু যেন ক্লান্ত এক আত্মার ভার বইছে। এই ভাঙনের শব্দ আমরা শুনতে পাই না, কিন্তু এর রেশ থেকে যায় আমাদের মানসিক দেহে অস্থিরতা হয়ে, ঘুমহীনতা হয়ে, বিষণ্ণতা হয়ে।

আর এই সবকিছুর মধ্যে রয়েছে একটি মৌলিক সঙ্কট।আত্ম-সংযোগের বিচ্ছিন্নতা। মানুষ প্রকৃতির থেকে দূরে সরে গিয়েছে। নিজের মন ও শরীরের থেকে দূরে সরে গিয়েছে। এবং সবচেয়ে ভয়ঙ্করভাবে, নিজের আত্মার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। আমরা আর নিজের সঙ্গে একা থাকতে পারি না। এক মুহূর্ত নীরবতা এলেই আমরা ফোন হাতে নিই, গান চালাই, স্ক্রল করি। যেন চুপ করে থাকা মানেই বিপদ। অথচ সমস্ত অন্তর্দৃষ্টি, সমস্ত উপলব্ধি, সমস্ত অন্তরের আলো জন্মায় নীরবতায়। সেই নীরবতাকে ভুলে গিয়ে আমরা ঢুকে পড়েছি এক অন্তহীন শব্দের মরুভূমিতে। চারপাশে প্রচুর শব্দ, কিন্তু নেই এক বিন্দু জল। এই অস্থিরতার আরেকটি বড় কারণ হল নিরাপত্তাহীনতা।শুধু বাহ্যিক অর্থে নয়, অস্তিত্বগত অর্থেও। আমরা জানি না আগামী দিনে কী হবে, আমরা জানি না সম্পর্কগুলো টিকবে কি না, আমরা জানি না নিজের স্বপ্ন পূরণ হবে কি না! এমনকি আমরা নিজের অনুভূতিগুলোকেও পুরোপুরি বুঝি না। এই অনিশ্চয়তা এক অদৃশ্য কুয়াশার মতো ঘিরে ধরে মনকে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় জলবায়ুর পরিবর্তন, বিশ্ব রাজনীতির অস্থিরতা, অর্থনৈতিক সঙ্কট, যুদ্ধ, উদ্বাস্তু সমস্যা সব মিলিয়ে বিশ্ব এক ছিন্ন-সংলগ্ন চিত্রে দাঁড়িয়ে আছে। মানুষ নিজের ভিতর ও বাইরের দুই জগতেই নিরাপদ নয়।

তবে এই অস্থিরতার মধ্যে দিয়েই কি জন্ম নিচ্ছে নতুন এক উপলব্ধি? ইতিহাস বলছে, সবচেয়ে অন্ধকার সময়ের পরেই আসে আলোর সন্ধান। হয়ত এই অস্থিরতাই আমাদের বাধ্য করছে নিজের ভেতরে ফিরে যেতে। বাইরে যখন কোনও কিছুই স্থায়ী নয়, তখন মানুষ প্রশ্ন তোলে”স্থায়িত্ব কোথায়?”, “শান্তি কোথায়?”, “অর্থ কী?” এই প্রশ্নগুলো থেকেই শুরু হয় এক নতুন যাত্রা যেটা বাইরের দিকে নয়, ভেতরের দিকে। আর সেই ভেতরের যাত্রাই পারে মানুষকে স্থির করতে, গভীর করতে, নির্ভার করতে। এই সময় অস্থির, কারণ এই সময় আত্মিক শূন্যতায় আক্রান্ত। কিন্তু সেই শূন্যতাই আমাদের ডাকে এক নতুন উপলব্ধির দিকে। যদি আমরা প্রতিদিন কিছু সময় নিঃশব্দ থাকি, প্রকৃতির দিকে তাকাই, নিজের মনকে শুনি, তাহলে হয়ত আমরা আবার বুঝে উঠব : কোনটা সত্য, আর কোনটা কেবলই অস্থায়ী এক অস্থিরতার রূপ।
আমরা যেন আবার শিখি ধীরে হাঁটতে, শিখি চুপ থাকতে, শিখি গভীরভাবে ভালবাসতে। অস্থিরতা আসবে, কিন্তু স্থিরতা তখনই জন্মাবে—যখন আমরা নিজের হৃদয়ের দিকে তাকাব। এই সময় আমাদের পরীক্ষা নিচ্ছে, এবং সেই পরীক্ষার উত্তর লুকিয়ে আছে আমাদের নিজস্ব, মৌন, অন্তর্জগতের গভীরে।🍁

 

 

 

🍁ধারাবাহিক পন্যাস
শুরু হয়েছে আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস। কবি তৈমুর খানের জীবন। বাল্য-কৈশোরের দিনগুলি কেমন ভাবে কেটেছিল। মননে চেতনায় কিভাবে বয়ে গেছিল উপলব্ধির স্রোত। কেমন করে প্রকৃতি ও জীবনকে দেখতে শিখেছিলেন। কেমন করে জীবনে এলো ব্যর্থতা। সেসব নিয়েই নানা পর্ব।

 

একটি বিষণ্ণরাতের তারা 

তৈমুর খান 

পর্ব : চল্লিশ 

বইয়ের নাম আয়নার ভেতর তু যন্ত্রণা 

এমন একদিন রাজনৈতিক দলের সম্মুখীন হব ভাবতেও পারিনি। সেদিন বিদ্যালয়ে ক্লাসও শুরু হয়নি, এমন সময় হঠাৎ একদল রাজনৈতিক দলের নেতা সমর্থকরা পতাকা নিয়ে অফিসে প্রবেশ করলেন। তাদের অঙ্গভঙ্গি দেখেই চমকে গেলাম। অফিসে ঢুকেই গর্জন করে বললেন, খুব সুখে মাস্টারি করছেন আর প্রতিমানে মোটা অংকের বেতন নিয়ে বাড়ি ঢুকছেন! যে সরকারের খাচ্ছেন সেই সরকারের কথা কি ভাবেন?

‘আয়না’ একটা প্রতীক মাত্র যা প্রতিফলনের মাধ্যম। নিজের অবয়ব যেমন প্রতিফলিত হয়, তেমনি নিজের উপলব্ধি বা অনুভূতিও সেখানে প্রতিফলিত হয়। যন্ত্রণাও একটা উপলব্ধি বা মানসিক অবস্থার অনুভূতি। প্রেম যখন বিচ্ছেদে বিরহে তার পরিণতির যাপন লিখে চলে, তখন যে অন্তরায় ও দাহ উপলব্ধ হয়, যে জ্বালা ও অস্থিরতা অভিঘাত হানে, তা-ই তখন প্রতিফলিত হয় কবিতায়, শব্দে। ‘তু’ ব্যাপারটি সম্বোধন সূচক সর্বনাম হলেও তা নেহাতই আত্মগত এক প্রজ্ঞার বিষণ্ণতা থেকেই উদ্গত। তাই নিজের মধ্যে বিক্রিয়াকে শব্দের অনুঘটক কার্যকরী করে তুলেছে এই কাব্যে। সব কবিতাগুলিতে আছে এক চূড়ান্ত ব্যর্থতা ও আত্মদহনের পীড়ন।

কিভাবে সরকারের কথা ভাবতে হয় তা আমাদের জানা দিল না। তাই আমরা সকলেই নীরব হয়ে থাকলাম। তাদের কোনো কথারই উত্তর দেবার প্রযোজন বা সামর্থ্য আছে বলে মনে হলো না। পুনরায় তারা বলতে লাগল, আগামী মসেই আমাদের জেনারেল সভা। রাজ্যের মন্ত্রী ও নেতৃত্ব সকলেই সেদিন উপস্থিত থাকবেন রবীন্দ্র সদনে। তারই খরচ বহন করতে হবে আমাদের জেলা নেতৃত্বকে। তাই আমরা ঠিক করেছি, প্রত্যেক চাকুরিজীবীর কাছেই একদিনের বেতন বাবদ যত টাকা হয় আমাদের দিতে হবে।
একদিনের বেতন কেন নেবেন, আরেকটু কম করে নিলে হয় না?
আমার পাশে বসে থাকা সবচেয়ে বর্ষীয়ান শিক্ষক মশাই উমাচরণ পাণ্ডে এ কথা বললেন। তার কথা শুনে ওরা আরো তেলেবেগুনে জ্বলে উঠলেন। হম্বিতম্বি করে উত্তর দিলেন, একদিনের বেতন এমনকী! এক মাসের তো চাইছি না! যদি না দেয়ার ইচ্ছা থাকে তাহলে বলে দিন, তারপর কী করে আপনি চাকরি করেন সেটা দেখা যাবে!
তাদের কথা শুনে আমাদেরও মুখ শুকিয়ে গেল। প্রত্যেক চাকুরিজীবীকেই একদিনের বেতন চাঁদা হিসেবে দিতে হবে তাহলে রাজ্যে কত চাকরিজীবী আছে এবং তাদের সকলের কাছেই একই হারে টাকা নিলে কত টাকা হয় একবার ভেবে দেখুন। আমাদের কলিগদের মধ্যেই তাদের দলের অনেক সমর্থক আছেন। আমিও প্রথম প্রথম এসেই তাদের দলেই নাম লিখিয়েছি। কয়েকবার মিটিং মিছিলেও গেছি। সংগঠনকে মজবুত করার জন্য মাসিক ১০০ টাকা চাঁদাও দিয়েছি। কিন্তু এবার একদিনের বেতন! একবার একদিনের বেতন দেওয়া শুরু করলে হয়তো বরাবরই এটা নিয়মে পরিণত হবে। ভয় তো সেইখানেই। নিজে চাকরি করব, স্বাধীনভাবে বসবাস করব, কিন্তু একটা রাজনৈতিক দলের চাঁদা কেন বহন করব এভাবে? না, এটাই নিয়ম? এইসবই ভাবছিলাম। যাইহোক প্রতিবাদ করার ক্ষমতা ছিল না। চাঁদা আদায়কারীরা এতই উত্তপ্ত ছিলেন যে, প্রতিবাদ করার মতো সামর্থ্য কারো মধ্যেই দেখতে পাইনি। প্রায় সকলেই পরেছিলেন বুট জুতো, চোখে দামি সানগ্লাস, গায়ে সিল্কের জামা। দেখে মনে হচ্ছিল ওরা উচ্চশিক্ষিত এবং অভিজাত কোনো চাকরিজীবী। কিন্তু মুখ খুললেই তাদের শিক্ষার বহর স্পষ্ট হয়ে উঠছিল। বহুদূর থেকে চাকরি করতে এসেছি, তাই চাঁদা দিয়েই সবকিছু ঠিক রাখতে হবে, না হলে কে কোথায় খুন হয়ে যাব, তার নিরাপত্তা কে দেবে? হ্যাঁ, নিরাপত্তা কেউ দেবে না। সেদিন স্কুলের এক প্রধান শিক্ষক চাঁদা দেননি বলেই স্কুল যাবার পথেই ব্রিজের ওপরে বাইক নিয়ে উঠতেই পিস্তলের গুলিতে তার বক্ষ ভেদ হয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গেই তিনি মারা যান। আজ পর্যন্ত তদন্তে তার কোনো কিনারা হয়নি। কয়েকজন লরি চালক এই দৃশ্য দেখলেও সাক্ষী দেওয়ার সময় বলেছিলেন, আমরা কাউকে চিনতে পারিনি। গুলি চালিয়ে তারাও বাইক নিয়ে চম্পট দেয়। সুতরাং দলের বিরোধিতা চাঁদা না দেওয়াতেই যে প্রকাশ পায় তা বলাই বাহুল্য। বাড়ি থেকে আমাকে তাই বলে দেওয়া হয়েছিল, কারো সঙ্গেই তর্ক-বিতর্কে না জড়ানোর জন্য। সত্য ও ন্যায়ের পথে থাকলেও অন্যায়ের কাছে মাঝে মাঝেই মাথা নত করতে হতো এই অভিজ্ঞতা আমার বহুদিন আগেই হয়েছে। তাই পার্টির সদস্য হয়েই মাথা নত করে থেকে যেতে চেয়েছি। অন্যায়কে অন্যায় বলার মতো সাহস অর্জন করতে পারিনি। সেদিন হিসেব করে একদিনের বেতন আমরা তুলে দিয়েছিলাম। প্রায় সাড়ে সাতশো টাকা দিতে হয়েছিল আমাকে। একজন সক্রিয় কর্মী টাকা নিতে নিতেই বলেছিলেন, এমন একটা দিন আসবে, সেদিন বেতনের টাকা বাড়ি নিয়ে যেতে পারবেন না। রাস্তাতেই লুঠ হযে যাবে।
সুতরাং লুঠ থেকে বাঁচার জন্যই এই টাকা দিয়েই অব্যাহতি পেতে চেয়েছিলাম। জীবনটা আমার কাছে বরাবরই এক ধূসর মরচে পড়া তরোয়ালের মতো মনে হতো। এই তরোয়াল নিয়ে যেমন যুদ্ধ করা যায় না, তেমনি কোনো কাজেও লাগে না। শুধু নিধিরাম সর্দার হয়ে বেঁচে থাকা যায়। বিদ্যালয়ে অনেকেই জেনে গেছিল, আমি কবিতা লিখি। তাই কী কবিতা লিখি মাঝে মাঝে কেউ কেউ শুনতেও চাইত। সে বছর জঙ্গিপুর বইমেলায় আমার কয়েকটি কবিতার বইও নিয়ে গেছিল প্রকাশক। ছাত্র-ছাত্রীরা খুশি হয়ে কিনেছিল ‘আয়নার ভেতর তু যন্ত্রণা’ বইটি। কিন্তু কবিতাগুলি পড়ে তারা কিছুই বুঝতে পারছিল না। আয়নার ভেতর আবার যন্ত্রণা কেমন করে থাকে? আবার যন্ত্রণাকে ‘তু’ বলে কেন ডাকা হয়? এসব প্রশ্নেই আমাকে জর্জরিত করছিল। কবিতা সম্পর্কে যদি সামান্যতম বোধ না থাকে তাহলে কী করে বোঝাবো ? কবিতা শুধু একই রকম হবে অর্থাৎ ঈশ্বর গুপ্ত যা লিখে গেছেন সেই রকম, কিংবা সত্যেন্দ্রনাথ, সুকান্ত, নজরুল যেমন লিখেছেন সেই রকমই, কিন্তু তা না হযে কেন কবিতা আলাদা হবে?
‘আয়না’ একটা প্রতীক মাত্র যা প্রতিফলনের মাধ্যম। নিজের অবয়ব যেমন প্রতিফলিত হয়, তেমনি নিজের উপলব্ধি বা অনুভূতিও সেখানে প্রতিফলিত হয়। যন্ত্রণাও একটা উপলব্ধি বা মানসিক অবস্থার অনুভূতি। প্রেম যখন বিচ্ছেদে বিরহে তার পরিণতির যাপন লিখে চলে, তখন যে অন্তরায় ও দাহ উপলব্ধ হয়, যে জ্বালা ও অস্থিরতা অভিঘাত হানে, তা-ই তখন প্রতিফলিত হয় কবিতায়, শব্দে। ‘তু’ ব্যাপারটি সম্বোধন সূচক সর্বনাম হলেও তা নেহাতই আত্মগত এক প্রজ্ঞার বিষণ্ণতা থেকেই উদ্গত। তাই নিজের মধ্যে বিক্রিয়াকে শব্দের অনুঘটক কার্যকরী করে তুলেছে এই কাব্যে। সব কবিতাগুলিতে আছে এক চূড়ান্ত ব্যর্থতা ও আত্মদহনের পীড়ন। এসব কথা বোঝাবার মতো বা বুঝবার মতো পরিবেশ একেবারেই ছিল না। তবু কিছু কিছু ছাত্র-ছাত্রী আবেগের বশীভূত হয়েই না বুঝেই তা পাঠ করে চলেছিল। কবিতাগুলিতে কখনো ভেসে উঠছিল রুমার মুখ। কখনো আরফার মুখ। কখনো সেই পছন্দের ছাত্রীটির মুখও। তখন শূন্যে ভাসা একটি জীবন, নাই তার শেকড়-বাকড়, সামনে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। নানা টোপ দেখে ছুটে গেছি আর ঘা খেয়ে ফিরে এসেছি। সব ব্যর্থতা, সব অসফলতা, সব শূন্যতা তৈরি করে দিয়েছে আয়না। তাই যেদিকেই তাকিয়েছি শুধু যন্ত্রণাকেই দেখতে পেয়েছি। যন্ত্রণাই যেন নিজের মুখ হয়ে উঠেছে। কবিতা বুঝতে হলে যে কবির অবস্থান, কবির জীবন-যাপন, কবির অন্তর্গত কান্নাকেও স্পর্শ করা দরকার—পাঠককেও সে-কথা বোধ করি জানতে হবে। কবিতা কোনো নিরর্থক বক্তব্য নয়। যা ইচ্ছে তাই লেখা নয়, জীবন যেমন, কবিতাও জীবনের দোসর।
‘আয়নার ভেতর তু যন্ত্রণা’ বইটির বেশ কয়েক কপি বিক্রিও হয়েছিল বইমেলায়। প্রকাশক খুব খুশি হয়েই পরবর্তী বইয়ের পাণ্ডুলিপি চাইছিলেন। কবিতা বোঝানোর জন্যই বেশি করে প্রয়োজন হয় গদ্য লেখার। তখন বেশ কিছু গদ্য লিখলে পত্র-পত্রিকাতে তা প্রকাশিত হতে থাকে। এরকম একগুচ্ছ গদ্য নিয়েই ‘কবির ভাঁড়রের চাবি’ বইটি প্রকাশিত হয়। কবিতা কেমন, কবিতা কী, কবিতার বাঁক বদল কিভাবে ঘটে চলেছে—সেইসব বিষয় নিয়েই এই বইটি। বইটির উপাদান সেই সময়ে প্রকাশিত বিভিন্ন পত্রপত্রিকা থেকেই সংগ্রহ করা হয়েছিল। বিভিন্ন কবির বিভিন্ন কবিতার উদ্ধৃতিও ব্যবহার করে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলাম পাঠককে। এটাই ছিল প্রথম গদ্যের বই।
সেই সময় বনগাঁ থেকে কবিতা চেয়ে ‘তবু অভিমান’ পত্রিকার সম্পাদক শঙ্খশুভ্র আমাকে চিঠি দিতে থাকেন। বনগাঁ নামটি শুনেই মনের মধ্যে একটি আনন্দ জেগে ওঠে। কেননা ওই অঞ্চলেই বিনয় মজুমদারের বাড়ি ছিল। ‘এবং রাহী’ পত্রিকার সম্পাদকও বেশ কয়েকবার কবিতা ছেপেছেন। ‘কবিতা আশ্রম’ পত্রিকার সম্পাদক বিভাস রায়চৌধুরীও বনগাঁয়ে থাকেন। তরুণ কবি সব্যসাচী মজুমদারের সঙ্গেও পরিচয় ঘটেছে। সুতরাং ‘তবু অভিমানে’র সম্পাদকের সঙ্গেও কিছুদিনের মধ্যেই একটা গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একদিন সেই শঙ্খশুভ্র বললেন, আত্মজীবনীমূলক একটা গদ্যের বই প্রকাশ করতে চাই।
তখন সদ্য কয়েকটি গদ্যও লিখে ফেলেছিলাম। চাকরি পাওয়ার আগের ও পরের উপলব্ধি কেমন ছিল সেইসব বিষয় নিয়ে। তারপর সমসাময়িক নানা ঘটনা কিভাবে রেখাপাত করেছিল এবং কিভাবে তা আমার জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল—সেইসব নিয়েও ছোট ছোট গদ্য। শঙ্খশুভ্রের খুব পছন্দ হয়ে যায়। বইটির নাম দিই ‘আত্মসংগ্রহ’। নিজের ছবি দিয়েই বইটির প্রচ্ছদ করে দেয় শঙ্খশুভ্র। স্কুল ছুটির দিনে জঙ্গিপুরে বাস ধরেই চলে যেতাম বনগাঁ। রাত্রে থেকেই সকালে বাড়ি ফিরতাম। শঙ্খশুভ্রের বাবা ছিলেন স্কুল মাস্টার। লেখালেখিও করতেন, ‘শিস’ নামে একটা পত্রিকাও সম্পাদনা করেছিলেন। তাঁর মুখেই বহু ইতিহাস শুনতে শুনতেই জেনেছিলাম কিভাবে তাঁরা বাংলাদেশ থেকে এখানে এসে মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়েছিলেন। বহু লোমহর্ষক কাহিনি। তাঁদের রান্না করা তরিতরকারি আমার কাছে ছিল অপূর্ব স্বাদের । শঙ্খশুভ্রের মাকে কাকি-মা বলেই ডাকতাম। কিন্তু দুঃখের বিষয় খুব বেশি দিন আর শঙ্খশুভ্রের বাড়ি যেতে পারিনি। একদিন রাতে হঠাৎ করেই তার বাবা হার্ট অ্যাটাকে মারা যান। বন্ধ হয়ে যায় পত্রিকা। শঙ্খও মুখ ফিরিয়ে নেয় লেখালেখির জগৎ থেকে। গভীর এক টানাপোড়েনের মধ্যে তার অস্তিত্ব বাঁচিয়ে রাখাই মুশকিল হয়ে ওঠে। (চলবে)

 

 

 

🍂কবিতা 

 

 

বিকাশকান্তি মুখোপাধ্যায়-এর একটি কবিতা 

সময়ের পাতায়

আজও রোদ উঠে আসে ধুলো জমা গলিপথে
কোথাও ভেসে যায় ভাঙা শিঙার আওয়াজ
কোথাও আবার ভাতের হাঁড়ি থেকে উড়তে থাকে ধোঁয়া।
মানুষের চোখে চোখে প্রশ্নের ঢেউ
কেউ খুঁজে ফেরে বিজ্ঞাপন
কেউ খুঁজে ফেরে হারানো স্বপ্নের ঠিকানা।
তবু জীবন থেমে থাকে না
এক ফোঁটা শিশিরে সকাল গড়ে তোলে আশার মুকুল
এক টুকরো সন্ধ্যায় জ্বলে ওঠে মাটির প্রদীপ
হয়ত পৃথিবী ভরে আছে অভাব আর ক্লান্তিতে
তবু তার ভেতরে আছে অমোঘ প্রাণের গান
শেখায় দাঁড়িয়ে থাকতে, ভালবাসতে, বিশ্বাস করতে

 

 

আমিনা তাবাসসুম-এর কবিতাগুচ্ছ

চক্রব্যূহের তিলক

যেটুকু এড়িয়ে চলা যায় না
সেটুকু ক্ষতে ঘর করি

পাখি উড়ে যায় দিনান্তের অপর অংশে

সেই থেকে ভালবাসায় হাত বুলিয়ে
চক্রব্যূহের তিলক আঁকি হৃৎপিণ্ডে

 

 


ধূসর গোলাপ

প্রেমিক প্রেমিকার বিজ্ঞাপনে সেঁটে আছে এ দেয়াল
অথচ এখনও বুক কাঁপে সরে যেতে।

নির্দ্বিধায় ঠোঁট সহজে খুললেও
বুকে লেগে থাকে সামুদ্রিক জড়তা…

যতটা লেগে থাকে দুরন্ত ছাপ
সবটুকু নির্বাসনে পাঠিয়েছি

অথচ…
আয়নার মায়া চোখে জল শুধু ধূসর গোলাপ!

 

 

অসমাপ্ত লেখা থাকে 

এখনও সুতোর ও প্রান্তে লেগে থাকে একটা জড়োয়া

স্থাবর অস্থাবরে যেটুকু সুখ কেঁদে মরে
সেখানে ম্লান যত অধিকারী চাদর।

ভুল স্বপ্নে হতচ্ছাড়া কপাল কুঁচকে লাল…

যেমন বিদেশি দুঃখ কিনি
অসমাপ্ত লেখা থাকে দু’চোখের মূর্ছা ওয়াল।

 

 

শূন্যতার ভালবাসা 

মোহ কেটে গেলে কোনো নেশা থাকে কি?
আবেগ
আদর
কিংবা যত্নের!

যে শূন্যতা অযাচিতভাবে ভালবাসে
তার মাঝে নেশা ঠিক সিগারেট।

দু আঙুলের ফাঁকে ছেঁকে নেওয়া ভালবাসা!

 

 


‘তো’ প্রসবে ঘৃণা

সাহস নিয়ে যে ধারণা শিমুল গাছের
তার গর্ভের চাদরে মুখ লুকিয়ে থাকে ঔদ্ধত্য।

তুমি তাকে পোশাক পরিয়ে
ঝকঝকে সাদা অহংকারের মুখোশ পরালে
লোকে বাহবা দেবে বৈকি!

যে নদীর বুকে এক ঝাঁক স্বপ্ন
পেছনে তাকাতে গেলে
সেখানে আঘাত আসাটাই স্বাভাবিক।

তবু প্রতিটা সকাল জানে,
মোরগের ডাকে লেগে থাকে কী দারুণ উদ্যম!
কী অনাবিল দুঃখ চিরে চিরে আলো কাটে অন্ধকার!

সেখানে ‘তো’ শব্দের প্রসবে আমি ঘৃণা লিখি চাক্ষুষ

 

 

সাহস 

সাহস শব্দটি শুনলে বুকে বল আসে
শূন্যতার ওপারে জন্ম নেয় চিলেকোঠার বাগদত্তা।

ভাঙা দেরাজের থেকে
শব্দ উড়ে গেলে
মানুষ জীবন নিয়ে উপোস করে।

অথচ…
লাশের কোনো বায়ো ডাটা থাকতে নেই!

 

 

ছবি ধর-এর একটি কবিতা 

চাঁদের হাট

একান্নবর্তী পরিবারে ছিলো একই সুর,
সমবেত হাসি আনন্দ কান্নার উঠতো রোল।
মস্ত বড়ো উঠোন ছিলো দীঘি ভরা মাছ,
বট বৃক্ষের ছায়া ছিলো চাতাল ছিলো গোল।

দাদু ঠাম্মার কথাই ছিলো শেষ কথা,
আত্মীয় স্বজনে পূর্ন বাড়ি যেন চাঁদের হাট।
আমিত্ব নয় আমরা প্রধান একমাত্র ছিলো আদর্শ,
একান্নবর্তী পরিবার ভাঙার কল্পনাই ছিলো ঘাট।

হিংসা- দ্বেষ -কলহ ভুলে সৌহার্দ্য ছড়িয়ে দিই,
বিবেকের কাছে শুদ্ধ- স্নিগ্ধ হই অবলীলায়।
সনাতনী বাঙালির প্রাণের উৎসব দুর্গাপুজোয়,
রোগ বৈরিতা অহং বিভেদ সারা দিগন্তে মিলায়।

 

 

তরুণ নিয়োগী-এর দু’টি কবিতা 

শহরের জানালা

উঁচু দালানে জানালার ভেতর
কেউ খুঁজে ফেরে নিঃসঙ্গতার সঙ্গী।
তলপাড়ের হাটে আবার ভিড় জমে
মানুষ মানে যেন জোয়ারের ঢেউ
কিন্তু প্রত্যেকের ভেতরেই এক একটি শূন্যতা।

তবু এক ফালি রোদ এসে ছুঁয়ে দেয় চোখ
একটি ফুলের গন্ধ মনে করিয়ে দেয়
এ জীবন শুধু দুঃখ নয়,
এ জীবন প্রতিদিন নতুন করে বাঁচার প্রতিশ্রুতি।

 

ভোর

ধানখেতে ভোরের শিশির গড়িয়ে পড়ে
যেন অমূল্য মুক্তোর দান।
মাঠে কাকের ডাক, গরুর ঘন্টা,
সব মিলিয়ে গড়ে ওঠে দিনের সঙ্গীত।

পায়ের ধুলো মেখে যে পথচলা
তারই ভেতরে থাকে আপন ঘরের স্বাদ।
সেই টানেই তো মানুষ শহরের ভিড় ভেঙে
গ্রামে ফেরে, মাটির গন্ধ নিতে
খুঁজে পেতে আপন সত্তাকে।

 

সোমা চন্দ-এর একটি কবিতা 

আজকের দিন

আজকের দিনটি শুধু ঘড়ির কাঁটাটি নয়,
এক অদৃশ্য সেতু
আর গতকালকে ছুঁয়ে আগামীতে পৌঁছনো।

আজ যদি তুমি হাতে তুলে নাও আশা
আগামী কাল তা ফুল হয়ে ফোটে।
আজ যদি তুমি ভালোবাসা বোনো
আগামীকাল তা মানুষের হৃদয়ে গান হয়ে বেজে ওঠে।

তাই তো আজকের দিনকে হেলায় ফেলা নয়
আজই বাঁচার সময়
আজই লেখা ভবিষ্যতের প্রথম লাইন।

 

সৌরভ আঢ্য-এর একটি কবিতা 

গতি 

এই নদী বয়, বয়ে যায় নিজের মতন
কোথাও ঝরনা, কোথাও ভাঙন অনুমান করো…
বুকে লুকিয়ে থাকে, অদম্য প্রাণের ডাক।

তুমি তো একটি নদী : কখনো আনন্দ, কখনো বেদনা
ভেসে যায় দূর অজানায়, আমার ভেতর তুমি ছাড়া

থামে না, কিছুই থেমে থাকে না। কেন?

 

মমতা রায় চৌধুরী-এর একটি কবিতা 

চিনতে পারোনি

চিনতে পারোনি?
দু’চোখে কেমন অবিশ্বাসের চাহনি
একটু অবাক হয়ে তাড়াতাড়ি পাশ কাটিয়ে
সরে যাবার তড়িঘড়ি।
আমিও নাছোড়বান্দা
চিনতে পারোনি? প্রশ্নতে জর্জরিত
একটু ভেবে দেখো প্রথম শ্রাবণের দ্বিপ্রহরে
কদম ফুলের রেনুর মতো ঝরে পড়েছিলাম
কোন এক নিষিদ্ধ দেশে
আর একটু মনে করিয়ে দিই
গোধূলি বেলায় মাঝে মাঝে ছুটে যেতাম
নদীর ধারে গোপনে কাশ বোনের ধারে
শরতের নীল আকাশ কেমন যেন আমৃত্যু
পণ করেছিলাম প্রথম ছোঁয়ার প্রথম ভালোলাগার
প্রতিশ্রুতি
দেখো দেখো এখনো পাবে তার চিহ্ন
এখনো চিনতে পারো নি?
কেমন বাঁধন ছাড়া লাগামহীন
স্কুল ছুটির শেষে একটু দেখার
ব্যাকুলতা
এবার বোধহয় পড়েছে মনে
নাকি কোথাও ভিড়ের মাঝে
নিজেকে গুটিয়ে নিলে অন্য কাউকে সঁপে।
আমি কিন্তু ঠিক চিনতে পেরেছি
তুমি কেন পারলে না চিনতে….

 

 

গোলাম কবির-এর একটি কবিতা 

বৃষ্টির দিন এবং তুমি 

প্রবল বর্ষার এই রিমঝিম ঝিম শব্দে
গান গাইতে গাইতে নেমে আসা
তুমুল বৃষ্টির দিনে শুধু তোমাকে চাই!

তোমাকে চাই যেমন মৃত্তিকা অকৃপণ
আমন্ত্রণ জানায় বৃষ্টিকে তার খোলা বুক পেতে,
বৃষ্টি ভেজা মাটির সোঁদাল ঘ্রাণ যেমন
জানান দেয় তার তৃপ্ততা ঠিক তেমনি করে !

হঠাৎ করেই ঝমঝমিয়ে নামা কোনো এক
বৃষ্টিমুখর দিনের বিকালবেলায় রবিঠাকুরের
” আজি ঝর ঝর মুখর বাদল দিনে ” গানটা
খালি গলায় গাইতে গাইতে কাক ভেজা হয়ে
কোনো এক ছাতিম গাছের নিচে
দাঁড়িয়ে একান্তে আমি তোমাকে চাই!

বর্ষার নতুন জল পেয়ে আনন্দে
নাচতে নাচতে ঢল বইয়ে দেয়া
নদীর উল্লসিত মাছের ঝাঁকের মতো
বৃষ্টি ঝরা দিনে আমি তোমাকে চাই!

ঝুমঝুম নুপুর ধ্বনির মতো বাজতে থাকা
বাদলা দিনের সুরেলা আবেশে মন হারানোর
সারাবেলায় পরষ্পর মুখোমুখি বসে থাকার জন্য
আমি শুধু তোমাকে চাই!

কালিদাসের মেঘদূত কিংবা জ্ঞানদাসের
কানুর পিরিতির মতো শুধু তোমাকেই চাই!

 

 

 

🍂ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস
সাহিত্যিক তাপস রায়। সাম্প্রতিককালের একজন বিশিষ্ট কথাশিল্পী ও কবি। লেখকের প্রকাশিত ভিন্নধর্মী পুস্তকগুলি পাঠকদের মনে জাগরণ তৈরি করে। রহস্য কাহিনিতে লেখক প্রাণের ছোঁয়া পান। তেমনি একটি রহস্য উপন্যাস সাশ্রয় নিউজ-এর রবিবারের সাহিত্য স্পেশাল-এর পাঠকদের জন্য।

 

কিশাণগঞ্জের ফেলুদা

তাপস রায়

তাপস রায়

 

১৪.

“ঋতব্রত ওয়েব ক্যামের দিকে মুখ বাড়িয়ে দিয়ে স্বর শান্ত রেখে বলল, “কিন্তু মেয়েদের হস্টেলে আমি কী করে যাব? ওখানে গেটের ভেতর আমাদের ঢোকা নিষেধ। কোনও ছেলেকে মেয়েদের কটেজের ধারে-কাছে দেখলে গার্জিয়ান কল আর তারপর রাস্টিকেট।”
হেলমেটপরা মুখ হো হো করে হেসে ওঠে। একটু দোল খায়। বোঝা যায় নরম কিছুতে বসে আছে। ঘরের দেয়ালে সাদা কাপড় টাঙিয়ে রেখেছে। চারিদিকে সাদা। ল্যাপটপের ক্যামেরার আলো যেন ঘরের আইডেন্টিটি ধরতে না পারে তার ব্যবস্থা। তবে লোকটা খানিকটা দুলে উঠতেই পেছনের দেয়ালের কাপড় কোথাও টান লেগে একটু নেমে আসে। দেখা যায়, ঘর নয় কোনও গাড়ির পেছনের সিটে বসে লোকটা ভিডিও কল করছে। গাড়ির রিয়ার
উইন্ডোর উপর থেকে একটা পেপার পাল্পের খুলি দুলছে।
“দিলীপ ভিডিও করছিস তো? এই ছবিটা দরকার। গুরুকে দেখাতে হবে।” স্বরে উত্তেজনা বোঁদের। তার মাথা গরম হয়ে গেছে। স্কুলের বাচ্চাদের নষ্ট করছে এই লোক। না না এর একটা হেস্তনেস্ত আগে করতে হবে, তারপর মালবাবুর কুকুর। মালবাবু মাথায় থাক। এই লোকটা তো মেয়েগুলোকেও নষ্ট করবে। আর অন্যদিকের বাচ্চাটা তো বলছিল গ্রাহাম স্কুলের কথা। সেটা তো কালিম্পং-এ। সেখানেই তো মালবাবুর ছেলেও পড়ে। সেও কি এই নেশার খপ্পরে পড়েছে! ওকেও তো বাঁচাতে হবে। বোঁদের কয়েক পেগের নেশা এই ছবি দেখে কেটে গিয়েছে। সে এবার চেয়ারটা আরও টেনে নিয়ে টেবলের উপর ঝুঁকে পড়ে। নিজের ডায়েরিতে সময় লেখে রাত তিনটে আঠাশ। হেলমেট পরা লোক কথা বলছে ভিডিও কলে। লোকটা দুলছে, হাসছে। আর দুলছে সেই কিম্ভূত মুখোশও।
হেলমেটধারী দোলা আর হাসি থামিয়ে নির্দেশের সুরে বলে, “তুমি এত বুদ্ধিমান ছেলে এই সামান্য সমস্যার হিল্লে করতে পারছ না?”

নিয়ম মতো প্রতি রবিবার সকালে যাই রেল কোয়ার্টারে। মালবাবুর সঙ্গে বসে চা খাই। তারপর এক ফাঁকে আপনার চিঠি আর টাকা মালবাবুর স্ত্রী চানুমতীকে দিয়ে আসি।”
দিলীপ শুনল, টেলিফোনের অন্য প্রান্ত কিন্তু কোনও কথাই বলছে না। মঝে মধ্যে হুঁ, হুঁ করেছে মাত্র। কিন্তু কেন! সে কি শোনাতে চায় না কণ্ঠস্বর! খুবই রহস্যময় মনে হচ্ছে। বোঁদেদার কাজে লাগতে পারে ভেবে সে সবটা রেকর্ডিং করেছে তার অ্যান্ড্রয়েড ফোনে। দুপুরবেলাতে এখানে, কিশানগঞ্জে অফিসের সব কর্মচারী, অফিসাররা বাড়িতে খেতে যায়। দুপুর ১টা থেকে ৩টে কাউকে পাওয়া যাবে না টেলেফোন অফিসে। দিলীপ ঠিকা কর্মচারী, একা কুম্ভ অফিস রক্ষা করে। বনবিহারী বাবুর এই ল্যাণ্ড লাইনে ফলে ট্যাপ করে শুনতে কোনও অসুবিধে হচ্ছে না। বোঁদেদা বলেছিল। বনবিহারীর ল্যাণ্ড লাইনে একটু আঁড়ি পাততে। দু’দুটো বড় কন্ট্রাক্ট দিয়েছে বোঁদেদা।

***
গায়ের লাল কম্বল সরিয়ে ফেলে ঋতব্রত। তার শীত লাগছে না আর। সে বলে, “না পারছি না। কীভাবে সম্ভব! ক্লাসরুমে সবাই নজরে রাখে মেয়েদের সঙ্গে যেন বিশেষ কথাটথা না হয়। ক্লাসে সিসিটিভির ক্যামেরা চলে। টিচার্স রুম আর হেডমাস্টারমশাইয়ের ঘরে মনিটর। দু’জায়গা থেকেই মনিটরিং হয়। ক্লাসে কোনও সুযোগ নেই পুরিয়া চালান দেয়ার।”
লোকটা, মানে হেলমেটধারী লোকটা খানিকটা যেন চিন্তিত। সে তার ডান হাত কিবোর্ডের নিচে ল্যপটপের বোর্ডের উপর এনে মধ্যমা আর তর্জনী দিয়ে অন্যমনস্ক ভাবনার তাল তুলছে। বোঁদের নজরে পড়ল লোকটার অনামিকা জুড়ে একটা অন্যরকম আংটি। কোথায় দেখেছে কোথায় দেখেছে! হ্যাঁ মনে পড়েছে বোঁদের, অরণ্যদেবের হাতের আঙ্গুলের আংটির মতো। তবে খুলি নয় মুখোশ লাগানো। সে চেঁচায়, “দিলীপ রেকর্ড করছিস তো!”
হেলমেটধারীর স্বরে ভাবনার চলাচল ধরা পড়ে। কথা অনেক নরম। “আচ্ছা, বন্ধু ছেলে না হয়ে মেয়ে হলে তো সমস্যা অনেকটা ঢিলে হয়ে যায়, তাই না। কোনও ছাত্রীকে কাজে লাগানো যায় যদি! আচ্ছা শোনো না, তোমার বান্ধবী, আরে ওই যে লেপচা মেয়েটা,যাকে স্কুল থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে, ওকে দিয়ে একটা ট্যাগ করতে পারো না! দেখো না। ওকে ফোনে একদিন বাজারে ডেকে নাও। তারপর ওকে দিয়ে পেডলারের কাজটা করিয়ে নাও।”
“ওকে তো স্কুল থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। ওকে আবার স্কুলে কেন ঢুকতে দেবে!” হতাশ গলা ঋতব্রতর।
“স্কুলে না-ই বা ঢুকল। স্কুলের বাইরে তো আর সি সি টিভি নেই। স্কুল থেকে কটেজে ফেরার পথে স্কুলের পোশাক পরে তোমার ওই বান্ধবী মনিকা, কোনও একজনকে টার্গেট করে পুরিয়া দেবে। তারপর আস্তে আস্তে ক্লাসের সবাই। তুমি শুধু বাজারে পানের দোকান থেকে হেরোইন কিনে ওকে সাপ্লাই করে যাবে। এক সপ্তাহের কাজ। আগামী বৃহস্পতিবার আমি পরের কাজের নির্দেশ দেব। কেমন। তুমি খুব ভাল করছ। তোমার হেভেন লাভ আর ক’য়েকটি ধাপের অপেক্ষা।”

***

ঋতব্রত মাথা নাড়ে। সে জানে এবার লোকটা চলে যাবে। সে নিয়ম মতো জামার হাতা গুটিয়ে হাতের ট্যাটু ক্যামেরার সামনে মেলে। বোঁদে আবার চেঁচায়, “রেকর্ডিং হচ্ছে তো দিলীপ?” মোবাইলের ছবি বড় করে দেখে, সেখানে বাংলায় লেখা আছে ‘তিন তিনে চাপা চু’। বোঁদে দিলীপের দিকে তাকিয়ে বলে, ‘মানে কি?’
‘তিন তিনে চাপা চু’ টা কী তা একবার নিজের চোখে দেখতে হবে। বোঁদে কে সঙ্গে নেয়নি। সমুন্দর সিংকেই এনেছে ফেলুদা। তিস্তার চরে বালির খাদান থেকে সপ্তাহের হিসেব বুঝে নিয়ে সমুন্দর সিংকে নিয়েই এসেছে কালিম্পং-এ। মালবাবুর সঙ্গে এসে যে লজে উঠত, সেখানেই উঠেছে। মালবাবুকে বলে এসেছেন তিনি কুকুরের খোঁজে কালিম্পং, দার্জিলিং যাচ্ছেন। এই গঙ্গারাম তো পাহাড়ি জাতির কুকুর, নিজের দলে ফিরে গেল কিনা, তা একবার ঢুঁড়তে হবে। যদি মালবাবুর কোনও কাজ থাকে ওদিকে, ফেলুদা করে দিতে পারে।
মালবাবু ছেলের জন্য আর একটা কম্বল পাঠাতে চান। শীত আসছে দরকার। একজোড়া জুতো। আর ক’য়েকটা টাকা হাত খরচের জন্য। স্কুলের যা দরকার তা তো সব ব্যাংকেই করেন। সেসব বড় বড় অ্যামাউন্ট। ফেলুদা মালবাবুর জিনিসপত্রের সঙ্গে নিজে একটা ভাল দামী জামা কিনে এনেছেন শিলিগুড়ির হংকং মার্কেট থেকে। তিনি মালবাবুর পাঠানো সব জিনিস ঋতব্রতর হাতে তুলে দিয়ে কটেজের বাড়ান্দায় বসেছেন। ঋতব্রত সেসব নিজের ঘরে রাখতে পা বাড়াতেই শুনল, “আর হ্যাঁ ঋতব্রত এক গ্লাস খাবার জল এনো, আর নতুন জামাটা একবার পরে এসো তো। তোমার বাবা বলেছে, নতুন শার্টে কেমন লাগে তোমাকে দেখতে তার একটা ছবি নিয়ে আসতে। আমার মোবাইল-এ নিয়ে দেখিয়ে দেব।”
ফেলুদা হাফশার্ট জামা এনেছে। এই শীতের দেশে হাফশার্ট তেমন চলে না। সবাই সারাক্ষণ নিজেকে ঢেকে ঢুকে ঠাণ্ডার হাত থেকে এড়াতে ব্যস্ত। ফেলুদা চায়, হাতের উল্কিটা আবার দেখতে, তার একটা নমুনা ছবিতে ধরে রাখতে।
ঋতব্রতর নিজেরও ভাল লেগেছে। তার গায়ের রং উজ্জ্বল সাদা। চকচকে চোখ মুখ। তার একটাও হাফশার্ট নেই। জিনসের ব্লু প্যান্টের ভেতর গুঁজে লাল সাদার মিশ্রণে দামি ভেলভেটের জামা। হাতে ঘড়িও পড়েছে। ফেলুকাকু ছবি তুলবে, তাই চুলও পরিপাটি করে আঁচড়ে নিয়েছে।
ঋতব্রতকে কটেজের সামনের পোর্টিকোয় দাঁড় করিয়ে নানা পোজে মোবাইলে ছবি তুলছে ফেলুদা। ফেলুদা চায় ঋতব্রতর হাতের ভেতরদিকে আঁকা ট্যাটুর পূর্ণ ছবি পেতে। নানা পোজে ছবি তুলে মোটামুটি দেখে নিল ফেলুদা, ঠিক আছে। একটা ছবিতে কটেজ, ঋতব্রত আর তিন তিনে চাপা চু-র ট্যাটু পরিষ্কার হয়ে এসেছে।
সমুন্দর লজেই রয়েছে। তার কাছে বিষয়টা পরিষ্কার নয় কেন তার খাদানের মণিব ট্যাটুর পেছনে লেগেছে। আর নতুন বালির খাদান কেনাটা ঝুলিয়ে রেখেছে। এক লাখ দিয়ে বুকিং। দাম উঠেছে একত্রিশ লাখ। গোটাটা কেনা হয়ে গেলে ৫% দালালি পাবে। ওই টাকাটা দরকার। তাদের বাচ্চা আসছে। বউ-এর নার্সিং হোমের খরচ আছে। প্রায় নয় মাস। ডাক্তার বলেছে আর সময় বেশি বাকি নেই।
খাদানটা নিজেই কিনতে পারেন। কিন্তু ফেলুদা চাইছেন উসমানি সাহেবকে জড়িয়ে নিতে। ফেলুদা জানেন উসমানি সাহেবও চান তাঁর কালো টাকা ফেলে না রেখে, খাটাতে। তাঁদের অনেক নেতা, মন্ত্রীরা তো হাজিপুর, মধুবণি সাইডে গ্রামের ভেতরে একরের পর একর জমি কিনে রাখে। পাটনা শহরে অনেকে বেনামে গরুর ফার্ম করেছে। লিচু বাগান কিনেছে মজঃফরপুরে। আর উসমানি সাহেবের শিলিগুড়ি, কলকাতায় কানেকশনের সুত্রে জানা আছে বাংলার নেতা মন্ত্রীরা তাঁদের কালো টাকা খাটান মাছের ভেড়িতে, সিনেমা-টিভি সিরিয়ালের ইন্ডাস্ট্রিতে। আসানশোল, রাণীগঞ্জের দিকে অনেকে আবার কয়লাখনিতেও বেনামে টাকা খাটান।
ফেলুদা অনেক ভেবেচিন্তে ঠিক করেছেন এই বালিখাদানের কো-পার্টনার করবেন উসমানি সাহেবকে। বিপদ-আপদে তার সাহায্যটা জরুরি। তাছাড়া উসমানি সাহেবের অনেক কানেকশন। বিহারের বিধানসভার প্রতিমন্ত্রী বলে কথা। তাঁর কথা পশ্চিমবঙ্গেও চলে। বাংলার উত্তরবঙ্গের মন্ত্রীকে তিনি চেনেন। বাংলার মন্ত্রী দাওয়াত দিলে ফেলুদা বাঙালি বলে উসমানি সাহেব নানা সময়েই শিলিগুড়িতে তাকে নিয়ে যান। কথা-বার্তায় সুবিধা হয়।
ফেলুদা চান ফিফটি ফিফটি মুনাফার শেয়ারে যেন টাকা লাগায় উসমানি সাহেব। তাছাড়া উসমানি সাহেবকে হাতে নিতে এটা বিশেষ জরুরি। পঞ্চায়েতের টিকিট তো পাওয়া যাবেই। তারপর উসমানি সাহেব যদি কৃপা করেন তো পঞ্চায়েত প্রধান হওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা। প্রধান হলে অনেক কাজ করার সুযোগ। ফেলুদা সত্যি সত্যি মানুষের উপকার করতে চায়। নিজের স্বার্থ বলতে ফেলু নামের দুর্নাম ঘোচানো। বাকিটা সত্যি সত্যি এই হতদরিদ্র কিশাণগঞ্জ অঞ্চলের মানুষের জন্য কিছু করা। ফেলুদা মনস্থির করে ফেলল, উসমানি সাহেবের সঙ্গে নতুন বালি খাদানের ব্যবসা ফিফটি ফিফটি শেয়ারে হবে।
“পঞ্চাশ লাখ টাকা নগদে শোধ করে এসেই একটু সময় পেয়ে আপনাকে ফোন করছি।” বনবিহারী পাণ্ডের গলা। এটা। সে বলল, “নমস্তে দাজু। তপাইলাই কস্তো ছ? কেমন বুঝছেন দাজু! কাজ ঠিক মতো করতে পারছি তো।
আরে না না সেই কবে থেকে গায়ে গায়ে লেগে আছি। তা বছর পাঁচেক তো হয়ে গেল। এই তো ওভার ব্রীজ বানাতে পঞ্চাশ লাখ টাকা ধার নিয়েছিলাম, বিল পেতেই তা মিটিয়ে দিয়ে এলাম। বন্ধুত্বে কোথাও ফাঁক রাখছি না। সুদের টাকা পরে দেব। আর মালবাবু তো টাকার কুমির। ওর কাছে পঞ্চাশ কোটিও থাকতে পারে। কিশানগঞ্জের সব নতুন চা-বাগানে ওর হিস্যা। প্রতি মাসে কিছু না হলে একলাখ টাকা করে ফিরে আসে ঘরে। আমাকে তো বলেছে মহানন্দা সংস্কারের ঠিকাটা আমি যদি পাই ফিফটি ফিফটি শেয়ারে টাকা খাটাবে মালবাবু। বলেছে, মহানন্দা পরিষ্কার হলে মনের সুখে একটু স্নান-টনান করতে পারে। তাতে দু-তিন কোটি লগ্নি করতে মালবাবু ভাববে না বলেছে। নদীর প্রতি তার দূর্বলতা আছে।
ও প্রান্ত শুধু বলল, “বাধাই ছ!”
বনবিহারী এপ্রান্তে কথা থামান না। “ম তপাইলাই মায়া গরছু। আর আপনাকে ভালবাসব নাই বা কেন!” বনবিহারীর অনেকখানি আপ্লুত কণ্ঠ, কন্ঠে প্রতিদানের স্বতঃস্ফূর্ততা।” সেই কবে থেকে লেগে আচ্ছি মশাই। মালবাবুর সঙ্গে ভিড়তে গিয়ে আমি বিহারের ব্যবসায়ী হয়ে উঠলাম। অনেক টাকা হয়েছে। আপনি ঠেলে না পাঠালে তো আর আমি এখানে আসতাম না। আপনি আমাকে দু-একর জমি দিয়ে দিলেন কালিম্পং-এ। আর এটুকু করব না! জানেন আমার মিসেস অনেক কষ্ট করেছেন হোলুম্বা হেভেন এর মতো করে ওই রিসর্ট গড়ে তুলতে! আপনার জমিটা পাওয়ায় ওখানে অর্কিড ফার্ম করতে বিশেষ সুবিধা হয়েছে। ওরা তো ব্যবসায়ীর জাত। অর্কিড গোটা বিশ্বে সাপ্লাই হচ্ছে। আর ট্যুরিস্টরাও বেশি বেশি করে আসছে। হোলুম্বা হেভেন এর থেকেও বেশি জনপ্রিয় হয়েছে। খুব খুশি আমার মিসেস। আমিও আপনাকে খুশি রাখতে চাই। আপনার ইচ্ছায় মালবাবুর ছেলেকে কালিম্পং-এর স্কুলে ভর্তি করানো গেছে। মালবাবুকে না জানিয়েই প্রতি মাসে মালবাবুর স্ত্রী চানুমতিকে আপনার পাঠানো টাকা আর চিঠি আমি পৌঁছে দিয়ে চলেছি। না, কিছুতেই সন্দেহ-টন্দেহ করবে না। নিয়ম মতো প্রতি রবিবার সকালে যাই রেল কোয়ার্টারে। মালবাবুর সঙ্গে বসে চা খাই। তারপর এক ফাঁকে আপনার চিঠি আর টাকা মালবাবুর স্ত্রী চানুমতীকে দিয়ে আসি।”
দিলীপ শুনল, টেলিফোনের অন্য প্রান্ত কিন্তু কোনও কথাই বলছে না। মঝে মধ্যে হুঁ, হুঁ করেছে মাত্র। কিন্তু কেন! সে কি শোনাতে চায় না কণ্ঠস্বর! খুবই রহস্যময় মনে হচ্ছে। বোঁদেদার কাজে লাগতে পারে ভেবে সে সবটা রেকর্ডিং করেছে তার অ্যান্ড্রয়েড ফোনে। দুপুরবেলাতে এখানে, কিশানগঞ্জে অফিসের সব কর্মচারী, অফিসাররা বাড়িতে খেতে যায়। দুপুর ১টা থেকে ৩টে কাউকে পাওয়া যাবে না টেলেফোন অফিসে। দিলীপ ঠিকা কর্মচারী, একা কুম্ভ অফিস রক্ষা করে। বনবিহারী বাবুর এই ল্যাণ্ড লাইনে ফলে ট্যাপ করে শুনতে কোনও অসুবিধে হচ্ছে না। বোঁদেদা বলেছিল। বনবিহারীর ল্যাণ্ড লাইনে একটু আঁড়ি পাততে। দু’দুটো বড় কন্ট্রাক্ট দিয়েছে বোঁদেদা। অনেকটা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবে মনে হচ্ছে দিলীপের। ফলে দিলীপ তার জন্য জান লড়িয়ে দেবে। স্পিকার লাউড করে দেওয়া আছে। প্রতিটি নিঃশ্বাসের শব্দও শোনা যাচ্ছে। 🍁(চলবে)

 

ণাদ্য 

 

অমিত পাল-এর গুচ্ছ কণাগদ্য

বাঁশরীর সুর নেই

বাঁশের মড়মড় শব্দ আজ কেমন যেন হিংসে লুকিয়ে রেখেছে৷ লুকিয়ে রেখেছে একফুলকি অঙ্গার৷ সবুজ পাতার অন্তরালে ভেঙে যাওয়া বাঁশরীর সূর কেমন যেন আর্তনাদ করে ওঠে৷ আজ আর সিংহল সমুদ্রের কথা ভাবি না৷ ভাবি শুধু বাঁশ বনে ঘেরা ডোবাটির উচ্ছ্বাস৷ এখানে কোনো মেকি মেকি গন্ধ নেই৷ সবই প্রাকৃতিক৷ তবে ঈর্ষার উৎপত্তির রহস্য কি, আমি তা এখনো খুঁজে পাইনি৷ অনুভবটা পাল্টাতে চাই৷ হাসতে চাই৷ হাসাতে চাই৷ পারি না৷ একটু ঘুমিয়ে নি পাকুড় গাছের তলায়৷ শিরীষ গাছের হাওয়া গায়ে মাখি৷ হঠাৎ ঘুম ভাঙে৷ চোখ খুলতেই দেখি হাঁসেদের বিশ্রামাগার৷

এতটা মাধুর্য্যতা, এতটা রোমান্টিকতা৷ তবুও বাঁশরীর সুর বাজে না…

এখন মাঝরাত

এখন মাঝরাত৷ হেটে চলে রাস্তায় সাদা সাদা আত্মাদের নিকৃষ্ট রূপ৷ যেন বামনরূপী অশরীরী৷ চুল গুলো অগোছালো৷ কাম যন্ত্রণায় মরিয়া হয়ে ওঠা কয়েকজন ছিল বটে!

আমি ওদের আকস্মিক ভাবে ডাকি৷ কথাবলি৷ তবে বন্ধু পাতাতে ভয় হয়৷ বেশি গাঢ়তা ধ্বংস ঘটাতে পারে —এরকম উপদেশও কানে কানে ভেসে আসে৷ তাই ভয় হয় এখনো৷

ওরা চলে যায়৷ আবার পরের রাত আসে৷ আসে নতুন বার্তা৷ ভয় করে না আর৷ ওরা পাশে এসে বসে৷ শরীর দিয়ে আমাকে স্পর্শ করে৷ আমার অনুভূতি গুলো সজারুর কাঁটার মতো খাঁড়া হয়৷ শুধুই বন্ধুত্ব করতে পারিনা…

জল সঙ্কট

প্রাচীন শুখনো নদীগুলি দেখে আজ কেমন যেন অর্বাচীন লাগছে৷ বেলেমাটি ধূসর ৷ পলি মাটির বুক ফাটে৷ বেরিয়ে আসে কীটেদের নিকৃষ্ট সজীবতা৷

খোলা মনে নদী গুলি রক্ত চায়৷ চায় একটু প্রাণের স্পন্দন৷ চাতক রূপী নদী গুলি মেঘের কাছে প্রার্থনা নিয়ে দাঁড়ায়৷ শ্যাওলা ধরা পাথর গুলি আজ কেমন যেন ব্যাঙ্গ করছে দেখো৷ একবার দৌড় লাগাও নদীর বুকের উপর দিয়ে ৷ শুনতে পাবে ফাটলে হাওয়া লেগে ওঠা শিস্ ধ্বনি৷ হয়ত এরপর অনুভব করতে পারবে মায়ের বুকে কাঁটা বিঁধে যাওয়ার রহস্য…

 

কালো ভ্রমরা

বন্ধু জগন্নাথকে বলেছিলাম একদিন কালো ভ্রমরার খোঁজ দিতে৷ কিংবা আমার আদরের বনফুল৷ কারণ একটাই বড় স্বাধ জেগেছিল৷ ফুলটিকে একবার স্পর্শ করতে চেয়েছিলাম৷ তবে জগন্নাথ আমার হাতে এনে দিল রক্ত জবার প্রেম৷

জগন্নাথ জানিয়ে ছিল তার বাড়ির পাশেই এইগুলি আগাছা রূপে অনাদরে বেড়ে উঠছে৷ মালির স্পর্শ এরা পাইনি৷ তবু মায়া ভরা চোখে এগুলি নিজের মাধুর্য্য বিকাশ করছে৷ ছুতে চাইছে এক চিলতে সৌন্দর্য৷ জানি না, আমার মতো এই ফুলের কেউ খোঁজ করে কিনা! হয়ত আমি দ্বিধা ভরে তাদের দেখতে চেয়েছিলাম তাই জগন্নাথ বাড়ি ফিরে তাদের খোঁজ পাইনি! হায়!

রাজার ঘোড়া এই পথে আর আসে না৷ মাড়িয়ে যাওয়ার ভয় নেই৷ হয়ত তাই আমার এদের প্রতি একটু বেশিই আবেগ জাগে! জাগে নৈসর্গিক প্রেম৷ তাই আজও খোঁজ করি কালো ভ্রমরার…🍁

 

 

সম্পাদক : দেবব্রত সরকার, কার্যনির্বাহী সম্পাদক : সানি সরকার, অঙ্কন : প্রীতি দেব ও আন্তর্জালিক 

এক নজরে 👉 সাশ্রয় নিউজ-এ আপনিও পাঠাতে পারেন স্থানীয় সংবাদ। এছাড়াও রবিবারের সাহিত্য স্পেশাল-এর জন্য উপন্যাস, কবিতা (একধিক কবিতা পাঠালে ভালো হয়। সঙ্গে একটি লেখক পরিচিতি। গল্প, প্রবন্ধ, গদ্য, পুস্তক আলোচনা (আলোচনার জন্য দুই কপি বই পাঠাতে হবে), ভ্রমণ কাহিনী। লেখার সঙ্গে সম্পূর্ণ ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর থাকতে হবে। অবশ্যই কোনও প্রিন্ট বা ডিজিটাল মাধ্যমে এমনকী কোনও সোশ্যাল মিডিয়াতে বা পোর্টালে পূর্ব প্রকাশিত লেখা পাঠাবেন না। ই-মেল করে লেখা পাঠান। ই-মেল আই ডি : editor.sasrayanews@gmail.com

বি: দ্র: সমস্ত লেখা লেখকের নিজস্ব। দায় লেখকের নিজস্ব। কোনও বিতর্কিত বিষয় হলে সংবাদ সংস্থা কোনওভাবেই দায়ী থাকবে না এবং সমর্থন করে না। কোনও আইনি জটিলতায় সাশ্রয় নিউজ চ্যানেল থাকে না। লেখক লেখিকা প্রত্যেকেই লেখার প্রতি দ্বায়িত্ববান হয়ে উঠুন। লেখা নির্বাচনে (মনোনয়ন ও অমনোনয়ন) সম্পাদকমণ্ডলীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

ঋণ: মহামিলনের কথা আন্তর্জাল থেকে সঙ্কলিত। 

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন