Samrat Samprati Museum Gujarat, Narendra Modi Mahavir Jayanti Speech | মহাবীর জয়ন্তীতে ঐতিহ্যের মহাসংগ্রহ: কোবা তীর্থে ‘সম্রাট সম্প্রতি’ মিউজিয়াম উদ্বোধনে মোদীর জোর, ভারতের জ্ঞান ও সংস্কৃতির বিশ্ববার্তা

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ গান্ধীনগর : গুজরাটের গান্ধীনগরের কোবা তীর্থে মহাবীর জয়ন্তীর পুণ্যক্ষণে উদ্বোধন হল ‘সম্রাট সম্প্রতি সংগ্রহালয়’ (Samrat Samprati Museum)। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) এই জৈন ঐতিহ্যবাহী জাদুঘরের উদ্বোধন করে ভারতের প্রাচীন জ্ঞান, সংস্কৃতি এবং মানবকল্যাণের মূল্যবোধকে নতুনভাবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার কথা বললেন। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জৈন মুনি, সাধুসন্ত এবং বিভিন্ন স্তরের মানুষ, যাদের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় এই প্রকল্প বাস্তব রূপ পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই ভগবান মহাবীরকে স্মরণ করে বলেন, ‘আমি ভগবান মহাবীরের চরণে প্রণাম জানাই এবং কোবা তীর্থ থেকে দেশের সকল মানুষকে মহাবীর জয়ন্তীর শুভেচ্ছা জানাই।’ তাঁর মতে, এই তীর্থ শুধু একটি ধর্মীয় স্থান নয়, এটি আত্মসংযম, সাধনা এবং সেবার এক জীবন্ত উদাহরণ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, ‘কোবা তীর্থ এমন এক স্থান, যেখানে বহু জৈন মুনি ও সাধুসন্তদের তপস্যা আজও অনুভূত হয় এবং যেখানে সৃষ্টি ও সেবার পরিবেশ স্বাভাবিকভাবে বিকশিত হয়।’ এই মন্তব্যে তিনি এই তীর্থস্থানের আধ্যাত্মিক গুরুত্ব তুলে ধরেন।

আরও পড়ুন : Prime Minister Seva Sankalp | ‘সেবা সংকল্প’ পুনর্নবীকরণে সার দপ্তরের অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দর্শন সামনে রেখে কর্তব্য ভবনে শপথ

সম্রাট সম্প্রতি সংগ্রহালয় সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই মিউজিয়াম জৈন সংস্কৃতির গভীর শিকড় এবং মানবতার জন্য তার চিরন্তন মূল্যবোধকে তুলে ধরে।’ তাঁর মতে, এটি শুধু একটি জাদুঘর নয়, বরং ভারতের গৌরবময় অতীতের এক গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য, যা দেশের কোটি কোটি মানুষের সঙ্গে যুক্ত। সম্রাট সম্প্রতির ঐতিহাসিক গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মোদী বলেন, ‘ভারতের ইতিহাসে এমন শাসক ছিলেন, যারা ক্ষমতাকে সেবা এবং সাধনার মাধ্যম হিসেবে দেখেছেন।’ তিনি উল্লেখ করেন, সম্রাট সম্প্রতি সিংহাসনে বসার পর অহিংসার বিস্তার ঘটান এবং সত্য, অস্তেয় ও অপরিগ্রহের মতো মূল্যবোধ প্রচার করেন। তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বের অনেক সভ্যতায় চিন্তাবিদ ও দার্শনিক জন্ম নিয়েছেন, কিন্তু অনেক সময় শাসনব্যবস্থার সঙ্গে সেই চিন্তার সংযোগ তৈরি হয়নি।’ এই প্রেক্ষাপটে সম্রাট সম্প্রতি ছিলেন এক ব্যতিক্রম, যিনি দর্শন ও বাস্তব জীবনের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করেছিলেন।

মিউজিয়ামের কাঠামো ও উপস্থাপনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, এটি এমনভাবে নির্মিত হয়েছে, যেখানে প্রতিটি গ্যালারিতে ভারতের বৈচিত্র্য এবং সাংস্কৃতিক ঐশ্বর্য ফুটে উঠেছে। তিনি বলেন, ‘এই সংগ্রহালয়ের সাতটি গ্যালারি ভারতের ঐতিহ্য ও জ্ঞানচর্চার নানা দিক তুলে ধরে।’ প্রথম গ্যালারিতে নবরত্ন এবং জৈন দর্শনের মূল নীতিগুলি উপস্থাপিত হয়েছে, আর তৃতীয় গ্যালারিতে তীর্থঙ্করদের জীবন ও শিক্ষার চিত্রায়ণ করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, ভারতের বৈচিত্র্যের প্রসঙ্গ টেনে নরেন্দ্র মোদী বলেন, ‘এই মিউজিয়ামে জৈন ঐতিহ্যের পাশাপাশি বৈদিক, বৌদ্ধ এবং অন্যান্য ধর্মীয় ঐতিহ্যও সমানভাবে স্থান পেয়েছে।’ তাঁর মতে, এই বৈচিত্র্যের মধ্যেই ভারতের শক্তি নিহিত, যেখানে বিভিন্ন ধারার চিন্তা একসঙ্গে বিকশিত হয়েছে। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ধরনের ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ শুধু ভারতের জন্য নয়, সমগ্র মানবজাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গবেষক, শিক্ষার্থী এবং পর্যটকরা এখানে আসবেন এবং ভারতের জ্ঞান ও দর্শনকে নিজেদের দেশে নিয়ে যাবেন। প্রাচীন ভারতের জ্ঞানচর্চার প্রসঙ্গ টেনে তিনি তক্ষশিলা (Takshashila) এবং নালন্দার (Nalanda) উল্লেখ করেন, যেখানে একসময় লক্ষ লক্ষ পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত ছিল। তিনি বলেন, ‘বহু আক্রমণের ফলে সেই জ্ঞানভাণ্ডার ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু সাধারণ মানুষ সেই জ্ঞানকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সংরক্ষণ করেছেন।’ এই প্রসঙ্গে আচার্য ভগবন্ত শ্রী পদ্মসাগর সুরিশ্বরজি মহারাজ সাহেব (Acharya Bhagwant Shri Padmasagar Surishwarji Maharaj Saheb) -এর অবদানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি প্রায় ৬০ বছর ধরে দেশজুড়ে ঘুরে তিন লক্ষেরও বেশি প্রাচীন পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করেছেন।’ বর্তমানে সেই পাণ্ডুলিপিগুলি কোবা তীর্থে সংরক্ষিত রয়েছে। সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কে তিনি জানান, ‘জ্ঞান ভারতম মিশন’ (Gyan Bharatam Mission) চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে প্রাচীন পাণ্ডুলিপির ডিজিটাইজেশন, সংরক্ষণ এবং আর্কাইভিং করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এই উদ্যোগ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা পাণ্ডুলিপিগুলিকে একত্রিত করতে সাহায্য করবে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আরও বলেন, বর্তমানে লোথাল-এ (Lothal) মেরিটাইম মিউজিয়াম, ভদনগরে (Vadnagar) জাদুঘর এবং দিল্লিতে ‘যুগে যুগীন ভারত মিউজিয়াম’ (Yuge Yugeen Bharat Museum) তৈরির কাজ চলছে, যা দেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে নতুনভাবে তুলে ধরবে। তিনি বলেন, ‘ভারতে জ্ঞান সবসময়ই একটি অবাধ প্রবাহের মতো ছিল।’ তাঁর মতে, বিভিন্ন যুগে তীর্থঙ্কর, সাধুসন্ত ও চিন্তাবিদদের মাধ্যমে সেই জ্ঞান সমৃদ্ধ হয়েছে এবং সময়ের সঙ্গে নতুন উপাদান যুক্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, সম্রাট সম্প্রতি মিউজিয়াম ভবিষ্যতে জ্ঞান, সাধনা ও সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠবে।’ তাঁর বক্তব্যে দেশের ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার প্রতিফলিত হয়।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : PM Narendra Modi tenure record, Indian PM history | ২৪ বছরের রেকর্ড : সরকারপ্রধান হিসেবে দীর্ঘতম সময়ের রেকর্ড গড়লেন নরেন্দ্র মোদী, ছাপালেন চামলিংকে

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন