পরিধি চক্রবর্তী ★ সাশ্রয় নিউজ : মোহিত সুরি (Mohit Suri) পরিচালিত ‘সাইয়ারা’ (Saiyaara) বক্স অফিসে যে ঝড় তুলবে, এমনটা অনেকে হয়ত ভাবেননি। কিন্তু মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই ১১৯ কোটির বৈশ্বিক ব্যবসা করে ফেলেছে এই প্রেমের গল্পভিত্তিক ছবিটি। যা বলিউডের সাম্প্রতিক ব্যর্থতা ও বিতর্কের মাঝেও একটি বিশুদ্ধ আবেগের জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই ছবিতে মুখ্য চরিত্রে নবাগত অহন পাণ্ডে (Ahaan Panday) ও অনীত পাড্ডা (Anite Padda)। দু’জনেই এই ছবির মাধ্যমে বলিউডে তাঁদের পাকাপোক্ত উপস্থিতি জানিয়ে দিয়েছেন। সোমবারের সন্ধ্যায় মুম্বইয়ের একটি মাল্টিপ্লেক্সে দর্শকদের ভিড় দেখে এটা স্পষ্ট যে, ‘সাইয়ারা’ শুধুই একটি ছবি নয়, এটা এক আবেগঘন অভিজ্ঞতা।
ছবির গল্পটি পুরনো হলেও উপস্থাপনা মন ছুঁয়ে যায়। একদিকে রাফ অ্যান্ড টাফ, মুডি, গ্যাং লিডার টাইপের ক্যারেক্টার কৃষ (Krrish), অন্যদিকে শান্ত, কোমল, কবিতাপ্রেমী বাণী (Vani)। প্রেমের যে ব্যাকরণে বিপরীত মেরু আকর্ষণের তীব্রতা কাজ করে, সেখানেই দাঁড়িয়ে নির্মিত হয়েছে এই ছবির আবেগী কাঠামো। কৃষের ব্যক্তিগত জটিলতা, বাণীর ভাঙা সম্পর্কের স্মৃতি, দু’জনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অন্তরঙ্গতা সবকিছু মিলিয়ে একটা তীব্র প্রেমের রাসায়নিক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। এই ছবিতে সবচেয়ে বড় চমক হল বাণীর অসুস্থতা। তার মধ্যে ধরা পড়ে আর্লি অ্যালজাইমারের (early Alzheimer’s) উপসর্গ। ঠিক তখনই ফিরে আসে পুরনো প্রেমিক। অতীত আর বর্তমানের জটিলতায় জড়িয়ে পড়ে বাণীর স্মৃতি, সম্পর্ক, সিদ্ধান্ত সবকিছু। যদিও অ্যালজাইমার নিয়ে ছবিতে কিছু বিতর্কিত উপস্থাপন দেখা গেছে, যেমন হঠাৎ করেই সব ভুলে যাওয়া ও হঠাৎ করেই সব কিছু মনে পড়ে যাওয়া, যা বাস্তবতার নিরিখে অবিশ্বাস্য। একাধিক চিকিৎসকও এই অংশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বাস্তবের খুঁটিনাটি বিশ্লেষণে যাওয়া নয়, এই ছবির শক্তি আবেগ। এবং সেই আবেগকেই হাতিয়ার করেছেন পরিচালক। মোহিত সুরির আগের ছবিগুলির মতোই এই ছবিতেও সংলাপের চেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে নীরবতা আর চোখের ভাষায়। অহন পাণ্ডে নিঃসন্দেহে চমকে দিয়েছেন। এলোমেলো চুল, রাগী চোখ, কিন্তু এক গভীর দৃষ্টিতে যে প্রেম আর যন্ত্রণা ধরা পড়ে, তাতে দর্শক একপ্রকার আবিষ্ট।
অনীত পাড্ডা তার নিষ্পাপ মুখ ও সংবেদনশীল চোখ দিয়ে বাণীর চরিত্রকে সত্যিই প্রাণবন্ত করে তুলেছেন। তার কবিতা লেখার দৃশ্য, কৃষের গান লেখায় অনুপ্রেরণা দেওয়া, অথবা শুধুই চোখে চোখে কথা বলা, সব কিছুতেই ফুটে উঠেছে এক গভীর আন্তরিকতা। সঙ্গীত ‘সাইয়ারা’র অন্যতম প্রধান সম্পদ। টাইটেল ট্র্যাক সহ প্রতিটি গান শ্রোতাদের মনে দাগ কেটেছে। বিশেষ করে ‘তেরে বিন’ ও ‘যাদুঈ রাত’ শিরোনামের গান দুটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই ট্রেন্ডিং। ছবির আবহসঙ্গীতও আবেগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তৈরি করেছে এক অতুলনীয় রোম্যান্টিক আবহ। উল্লেখ্য, ‘সাইয়ারা’ এমন এক সময়ে মুক্তি পেল, যখন বলিউডে ‘অ্যানিমাল’-এর মতো হিংসাত্মক, পিতৃতান্ত্রিক চরিত্রে ভরা ছবিগুলোর প্রাধান্য। সেখানে একেবারে বিপরীত মেরুতে দাঁড়িয়ে ‘সাইয়ারা’ জানিয়ে দিল, আজও প্রেম, কাঁপন ধরানো আবেগ, কষ্ট, ভালবাসা দর্শকের হৃদয় স্পর্শ করে। এই ছবির মাধ্যমে অহন পান্ডে ও অনীত পাড্ডা এমন একটি মানদণ্ড তৈরি করলেন, যা তাঁদের কেরিয়ারে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ ফেলবে বলেই মনে করছেন সমালোচকরা। আর মোহিত সুরির পরিচালনার মুন্সিয়ানা প্রমাণ করল, স্রোতের বিরুদ্ধে গিয়েও ভাল কনটেন্ট নিয়ে ছবি বানালে মানুষ সেটা গ্রহণ করে।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Sitare Zameen Par : বিয়ের পর নায়িকারা ‘অদৃশ্য’, বলিউডকে একহাত নিলেন জেনেলিয়া



