প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : দু’দশক আগে যাঁর হাসি, গ্ল্যামার আর স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয়ে মেতে উঠত বলিউড, আজ তিনি রুপোলি পর্দা থেকে বহু দূরে। বলিউডের একাধিক সুপারহিট ছবির পরিচিত মুখ রিমি সেন (Rimi Sen) এখন অভিনয়ের জগৎ ছেড়ে দুবাইয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিচয়ে প্রতিষ্ঠিত। অক্ষয় কুমার (Akshay Kumar), অমিতাভ বচ্চন (Amitabh Bachchan), সলমন খান (Salman Khan), অভিষেক বচ্চন (Abhishek Bachchan), অজয় দেবগন (Ajay Devgn) -এর মতো প্রথম সারির তারকাদের সঙ্গে কাজ করা এই বাঙালি অভিনেত্রী এখন সফল রিয়েল এস্টেট উদ্যোক্তা। প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে গ্ল্যামারের দুনিয়া ছেড়ে ব্যবসার পথে হাঁটলেন রিমি?

বলিউডে রিমি সেনের উত্থান ছিল চোখে পড়ার মতো। ‘হাঙ্গামা’, ‘গরম মশলা’, ‘কিঁউ কি’, ‘দিওয়ানা হুয়ে পাগল’, ‘ফির হেরা ফেরি’, ‘গোলমাল: ফান আনলিমিটেড’, ‘ধুম ২’, ‘হ্যাটট্রিক’, ‘জনি গদ্দার’, ‘দে তালি’, ‘থ্যাঙ্ক ইউ’ ইত্যাদি একের পর এক জনপ্রিয় ছবিতে অভিনয় করে অল্প সময়েই দর্শকের মন জিতে নেন তিনি। কমেডি থেকে থ্রিলার, রোম্যান্টিক চরিত্র থেকে গ্ল্যামারাস উপস্থিতি, সব ধরনের ভূমিকাতেই স্বচ্ছন্দ ছিলেন রিমি। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বলিউডে সক্রিয় থাকলেও হঠাৎ করেই তাঁর ছবি কমতে শুরু করে। তারপর ধীরে ধীরে তিনি হারিয়ে যান লাইমলাইট থেকে। এই ‘হারিয়ে যাওয়া’ আসলে ছিল নতুন জীবনের প্রস্তুতি। অভিনয় জগৎ থেকে সরে এসে রিমি সেন পাড়ি দেন দুবাইয়ে। প্রথম দিকে তাঁর এই সিদ্ধান্ত নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়। কখনও উঠে আসে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ, কখনও ব্যক্তিগত জীবন ঘিরে আলোচনা। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্পষ্ট হয়ে যায়, অভিনয়ের বাইরে নিজের ভবিষ্যৎ গড়তেই এই দেশত্যাগ। দুবাইয়ে গিয়ে তিনি শুরু করেন ঘরবাড়ি ও জমিজমার ব্যবসা। বর্তমানে সেখানে তাঁর নিজস্ব রিয়েল এস্টেট সংস্থা রয়েছে, যা স্থানীয় বাজারে বেশ পরিচিত নাম।

সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনদর্শন ও সিদ্ধান্তের কারণ খোলাখুলি জানিয়েছেন রিমি সেন। তাঁর কথায়, ‘ভারতে সাধারণ মানুষের জীবন ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। সরকার ও রাজনীতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নীতিও বদলে যায়। তার প্রভাব সরাসরি পড়ে সাধারণ মানুষের উপর।’
তিনি আরও বলেন, ‘হাজার রকমের কর, নিয়ম-কানুন আর অনিশ্চয়তার মধ্যে ব্যবসা চালানো খুবই কঠিন হয়ে পড়ে।’ রিমির মতে, একসময় যে ভারতকে ব্যবসা-বান্ধব দেশ বলা হত, সেই পরিচিতি এখন অনেকটাই ঝাপসা। দুবাইয়ের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে অভিনেত্রীর মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। রিমি বলেন, ‘দুবাই মানুষকে আপন করতে জানে। এখানে সকলের জন্য জায়গা আছে। যেমন মসজিদ রয়েছে, তেমনই মন্দিরও আছে। ধর্মীয় সহাবস্থান এখানে স্বাভাবিক বিষয়।’ তাঁর মতে, দুবাইয়ের শহর পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য মানুষের জীবনকে সহজ, আরামদায়ক ও বিলাসবহুল করা। উন্নত পরিকাঠামো, স্থিতিশীল নীতি ও স্পষ্ট নিয়মের কারণে এখানে ব্যবসা করা তুলনামূলকভাবে অনেক সহজ।

রিমির এই বক্তব্য নতুন করে বিতর্কও উসকে দিয়েছে। একদল মনে করছেন, তাঁর মন্তব্য বাস্তব অভিজ্ঞতার প্রতিফলন। আবার অনেকে বলছেন, ভারত ও দুবাইয়ের সামাজিক-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আলাদা, তুলনা সব সময় একরৈখিক হতে পারে না। তবে এটুকু অস্বীকার করার উপায় নেই, অভিনয় থেকে দূরে সরে গিয়ে রিমি সেন নিজের জন্য একটি স্থিতিশীল ও সফল বিকল্প জীবন গড়ে তুলেছেন। উল্লেখ্য, এক সময় যাঁকে নিয়মিত বড় পর্দায় দেখার অপেক্ষায় থাকত দর্শক, আজ তিনি আলোচনায় আসেন অন্য কারণে, একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে। রিমি সেনের জীবনকাহিনি তাই শুধুই এক অভিনেত্রীর উত্থান-পতনের গল্প নয়, বরং সময়ের সঙ্গে নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার অনুপ্রেরণা। বলিউডের ঝলমলে দুনিয়া ছেড়ে বাস্তব জীবনের কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে অন্য দেশে নিজের জায়গা করে নেওয়া সহজ কাজ নয়। রিমি সেই সাহসটাই দেখিয়েছেন।
এখন রিমি সেন অভিনয় জগতে সক্রিয় না হলেও, তাঁর নাম এখনও বলিউডপ্রেমীদের মনে জায়গা করে আছে। আর দুবাইয়ে তাঁর নতুন পরিচয় একজন সফল রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী। তাঁর এই নতুন উদ্যোগ প্রমাণ করে, সময়ের সঙ্গে বদলে যাওয়াই কখনও কখনও সাফল্যের আসল চাবিকাঠি।
সব ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Rakul Jackky luxury house | ঘড়ির মতো থালা, বাড়ির মধ্যে সুইমিং পুল! রকুলপ্রীত-জ্যাকি ভগনানির রাজকীয় অ্যাপার্টমেন্ট দেখে মুগ্ধ ফারহা খান




