Republic Day 2026 India | ইউরোপের শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে কর্তব্যপথে ইতিহাস গড়তে চলেছে ভারত, ‘বন্দে মাতরম’ থিমে তুঙ্গে প্রস্তুতি

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, নতুন দিল্লি: ২০২৬ সালের ২৬ জানুয়ারি ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস (Republic Day) ঘিরে রাজধানী নতুন দিল্লিতে প্রস্তুতি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। কর্তব্যপথে (Kartavya Path) আয়োজিত এই ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানে এ বছর একাধিক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে চলেছে দেশ। সেনার কুচকাওয়াজ, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বার্তা, প্রজাতন্ত্র দিবস ২০২৬ হয়ে উঠতে চলেছে ‘অমৃত ভারত’ ও ‘আত্মনির্ভর ভারত’ -এর শক্তিশালী প্রতিচ্ছবি। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছরের প্রজাতন্ত্র দিবসের মূল থিম নির্ধারিত হয়েছে ‘বন্দে মাতরম’। এই থিমের মাধ্যমে ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, দেশপ্রেম এবং সামরিক শক্তির আত্মনির্ভরতার বার্তা একসঙ্গে তুলে ধরার পরিকল্পনা করা হয়েছে। কর্তব্যপথে আয়োজিত কুচকাওয়াজ ও ট্যাবলোয় ফুটে উঠবে দেশের কৃষি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা উৎপাদন এবং ঐতিহ্যের বহুমাত্রিক রূপ।

প্রজাতন্ত্র দিবস। -ফাইল চিত্র

এ বছরের প্রজাতন্ত্র দিবসের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিকগুলির একটি হল সেনা কুচকাওয়াজে একজন মহিলা জওয়ানের নেতৃত্ব। ভারতীয় সেনার ইতিহাসে এই প্রথম পুরুষ বাহিনীকে নেতৃত্ব দেবেন একজন মহিলা জওয়ান, সিমরন বালা (Simran Bala)। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের কর্তা জানান, এই সিদ্ধান্ত সেনার ভিতরে নারীশক্তির ক্রমবর্ধমান ভূমিকার স্বীকৃতি। এর মাধ্যমে বিশ্বের দরবারে ভারতের লিঙ্গসমতা ও সামরিক আধুনিকতার বার্তা পৌঁছে দিতে চায় কেন্দ্র।

সম্প্রতি নতুন দিল্লিতে প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রস্তুতি পর্ব নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রতিরক্ষা দফতরের সচিব রাজেশ কুমার সিং (Rajesh Kumar Singh)। তিনি বলেন, ‘চলতি বছরের প্রজাতন্ত্র দিবস শুধুমাত্র একটি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি ভারতের আত্মবিশ্বাসের উদযাপন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে কুচকাওয়াজ, সবকিছুর মধ্য দিয়ে অমৃত ভারত এবং আত্মনির্ভর ভারতের ভাবনাই বিশ্বের সামনে তুলে ধরা হবে।’ তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, এই আয়োজনের মাধ্যমে ভারত নিজের সামরিক সক্ষমতা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সমান গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরতে চাইছে।উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক কূটনীতির দিক থেকেও প্রজাতন্ত্র দিবস ২০২৬ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। নয়াদিল্লি সূত্রে খবর, এ বছর ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের দুই শীর্ষ নেতা, ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অন্টোনিও কোস্টা (Antonio Costa) এবং ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লিয়ান (Ursula von der Leyen)। সাধারণত একজন প্রধান অতিথি থাকলেও, একসঙ্গে দুই ইউরোপীয় শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

প্রজাতন্ত্র দিবস। -ফাইল চিত্র

কূটনৈতিক মহলের মতে, আমেরিকার সঙ্গে শুল্ক ও বাণিজ্য সংক্রান্ত টানাপোড়েনের আবহে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতৃত্বকে প্রজাতন্ত্র দিবসে আমন্ত্রণ জানানো ভারতের কৌশলগত বার্তা বহন করে। ইউরোপের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও মজবুত করার দিকেই যে নয়াদিল্লির নজর, তা এই আমন্ত্রণেই স্পষ্ট। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই উপস্থিতি ভবিষ্যতে ভারত-ইউরোপ সম্পর্কের নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। প্রজাতন্ত্র দিবস ২০২৬-এ শুধু বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানরাই নন, দেশজুড়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রের অবদানকারী ব্যক্তিত্বদেরও বিশেষ সম্মান জানাতে চলেছে কেন্দ্র। সূত্রের খবর, এ বছর প্রায় ১০ হাজার বিশেষ অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছেন কৃষক, বিজ্ঞানী, উদ্ভাবক, ক্রীড়াবিদ, শিক্ষক ও পড়ুয়ারা। কৃষি ভিত্তিক অর্থনীতি থেকে শিল্প ও প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ, এই সমন্বিত ভাবনাকেই ‘বন্দে মাতরম’ থিমের মাধ্যমে তুলে ধরা হবে।

কর্তব্যপথে আয়োজিত ট্যাবলোয় বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল নিজেদের সংস্কৃতি ও উন্নয়নমূলক প্রকল্প প্রদর্শন করবে। একই সঙ্গে ভারতীয় সেনা ও আধাসামরিক বাহিনীর আধুনিক অস্ত্র, দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রদর্শিত হবে বলে জানা গিয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে দাবি, এতে আত্মনির্ভর ভারত অভিযানের সাফল্যও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও এ বছর বিশেষভাবে জোরদার করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশ (Delhi Police), কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলি সমন্বয় করে নিরাপত্তার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করেছে। প্রজাতন্ত্র দিবসের আগের কয়েক সপ্তাহ ধরেই রাজধানীজুড়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও অনুষ্ঠানের সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য সবরকম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনের দাবি। উল্লেখ্য, Republic Day 2026 শুধুমাত্র একটি বার্ষিক রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং ভারতের সামরিক শক্তি, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, নারীশক্তির উত্থান এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির সম্মিলিত প্রদর্শনী হতে চলেছে। ইউরোপের শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতি, ‘বন্দে মাতরম’ থিম এবং ঐতিহাসিক কুচকাওয়াজ, সবকিছু মিলিয়ে ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ভারতের জন্য এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে উঠবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : PM Narendra Modi, Mann Ki Baat | ‘মন কি বাত’-এ বাঙালি অস্মিতা ও ‘বন্দেমাতরম’-এর ১৫০ বছর উদযাপনে আহ্বান মোদীর

Sasraya News
Author: Sasraya News