নবারুণ দাস ★ সাশ্রয় নিউজ: আধুনিক জীবনের জটিলতায় আবদ্ধ আমরা অনেকেই। দৌড়ঝাঁপ, সময়ের অভাব, অনন্ত ক্লান্তি। সবকিছুই যেন সম্পর্কের ভিত নড়-বড়ে করে তোলে। অথচ সম্পর্কই তো আমাদের জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। মন থেকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, তুমি সত্যিই কী চাও? অধিকাংশ মানুষই বলবে, একটা স্থিতিশীল, নির্ভরযোগ্য সম্পর্ক। কিন্তু সেই সম্পর্ক কি কেবল ভালবাসা দিয়েই টিকে থাকে? সমাজমনোবিজ্ঞানীরা ও সম্পর্ক-বিশারদরা বলছেন, শুধু প্রেম নয়, প্রয়োজন বোঝাপড়া, শ্রদ্ধা আর কথোপকথনের। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে একটা সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখতে চাইলে পাঁচটি সহজ অথচ গভীর কথা বলা জরুরি হয়ে দাঁড়ায়। ঠিক কী সেই পাঁচটি কথা? এবং কেনই বা তা বলাই উচিত, সেটাই জানাচ্ছেন সম্পর্ক বিশারদ দীপ্তি রায় (Deepti Rai) ও সংসার-পরামর্শক রাহুল সিং (Rahul Singh)।

কথা না বললে বেড়ে যায় দূরত্ব : প্রথম এবং প্রধানত, পারস্পরিক যোগাযোগ। আপনি যদি নিজের মনের কথা নিজের মধ্যেই আটকে রাখেন, তাহলে সময়ের সঙ্গে বাড়তে থাকে ভুল বোঝাবুঝি। মনোবিদ রাহুল সিং (Rahul Singh) জানাচ্ছেন, “মনের ভিতরে জমে থাকা কথাগুলো না বললে মনে হয় সামনের মানুষ বুঝছে না, এবং সেই অপার বোঝার অভাব থেকেই জন্ম নেয় সন্দেহ, অভিযোগ ও তিক্ততা।” তাই সময় বের করে সঙ্গীর সঙ্গে খোলামেলা কথা বলার পরামর্শ দিচ্ছেন সকল বিশেষজ্ঞরাই। এভাবেই গড়ে ওঠে বিশ্বাসের সেতু, যা যেকোনও ঝড় সামলাতে পারে।
সময় দেওয়া মানেই ভালবাসা প্রকাশ : বর্তমান যুগে একসঙ্গে থাকা মানেই নয় সম্পর্ক সুস্থ। একসঙ্গে থেকেও অনেক সময় মানুষ দূরে সরে যায়। কারণ, সময় না দেওয়া। “যত ব্যস্ততাই থাক, যদি প্রতিদিন ৩০ মিনিটও একসঙ্গে বসে কথা বলা, খাওয়া বা হাঁটতে বেরনো যায়, তাহলেই তৈরি হয় নতুন করে সংযোগ,” বলছেন দীপ্তি রায় (Deepti Rai)। সঙ্গীকে সময় দেওয়া মানে তাঁকে গুরুত্ব দেওয়া, ভালোবাসা প্রকাশ। আর সেটা নিয়মিত না হলে একটা সময় পর দু’জনের মধ্যে অনুভব জন্মায়, “তুমি আমায় বুঝতে চাও না।”
অভিমান নয়, বোঝাপড়ায় গড়ে উঠুক সম্পর্ক***
মনের মিল না হলেই ঝগড়া হয়। তা হবেই। কিন্তু প্রশ্ন হল, আপনি কেমনভাবে সেই ঝগড়া সামলাচ্ছেন? উত্তরে উত্তেজনা দিলে সম্পর্ক তিক্ত হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “গোল বাঁধলেও মাথা ঠান্ডা রাখুন। তৎক্ষণাৎ প্রতিক্রিয়া না দিয়ে কিছুক্ষণ চুপ থেকে ভাবুন। তারপর শান্তভাবে নিজের দিকটা বলুন।” এই অভ্যাস না থাকলে যে কোনও সম্পর্কেই একটা সময় পর তৈরি হয় দুঃখ, দোষারোপ, এমনকী আলাদা হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তও।
বিশ্বাস হারালে সবকিছু ভেঙে পড়ে : ভালবাসার মূল ভিত্তি হল বিশ্বাস। আজকের সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে সেটা যেন আরও বেশি কঠিন হয়ে উঠেছে। সন্দেহ, নজরদারি, হোয়াটসঅ্যাপ স্ক্রল করা, এসব যেন ‘স্বাভাবিক’ ব্যাপার হয়ে উঠেছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞ রাহুল সিংয়ের মতে, “এই সন্দেহই ধীরে ধীরে সম্পর্ককে শেষ করে দেয়। সঙ্গীর নিজের পরিসর থাকা উচিত। এবং তার উপরে আস্থা রাখাও সম্পর্কের অপরিহার্য অংশ।” যাঁরা এই আস্থা রাখতে পারেন না, তাঁদের সম্পর্ক স্থায়ী হয় না বলেই তিনি জানাচ্ছেন।
‘তুমি আমার জীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ’— সঙ্গীকে সেটা : অনেক সময় আমরা ভাবি, ‘আমার ভালবাসা তো সে জানেই।’ কিন্তু প্রতিদিনের ক্লান্তি, অভিমান, একঘেয়েমি মাঝে মাঝে মনে করিয়ে দেওয়া দরকার যে, “তুমি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ।” মনোবিদ দীপ্তি রায় বলছেন, “ভালবাসা শুধু মনে পুষে রাখলে হয় না। সেটা বলাও জরুরি। প্রতিদিন যদি সঙ্গীকে একবারও বলা যায়, ‘তোমার জন্য আমি কৃতজ্ঞ’, তাহলে সম্পর্ক অনেক বেশি উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।” একটা ‘ধন্যবাদ’, একটা ‘তোমায় খুব ভালবাসি’, একটা ছোট্ট স্পর্শ, এসবই সম্পর্কের ভিতকে মজবুত করে। সম্পর্ক মানে শুধু একসঙ্গে থাকা নয়। সম্পর্ক মানে একে অপরকে বোঝা, সময় দেওয়া, শ্রদ্ধা করা, ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বাস করা। ছোট ছোট ভুল বোঝাবুঝির জায়গা থেকেও তৈরি হতে পারে বড় বিপর্যয়। তাই আজ থেকেই সময় নিন, বলুন এই পাঁচটি সহজ কিন্তু আন্তরিক কথা। কারণ, সম্পর্ক নষ্ট হলে আফসোস করে লাভ হয় না। সম্পর্ক বাঁচাতে চাওয়ার শুরুটাই হোক কথোপকথনের মধ্য দিয়ে।
আরও পড়ুন : Journalism : সাংবাদিকতার স্বচ্ছতায় সরকারি হস্তক্ষেপ অনুচিত
ছবি : সংগৃহীত




