নবারুণ দাস, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: ভারতের জাতীয় জৈববৈচিত্র্য কর্তৃপক্ষ (National Biodiversity Authority – NBA) সম্প্রতি আন্ধ্রপ্রদেশের (Andhra Pradesh) লাল চন্দন চাষী কৃষকদের মধ্যে মোট ৪৫ লক্ষ টাকা (প্রায় ৫০,০০০ মার্কিন ডলার) বিতরণ করেছে। এই অর্থ বিতরণ করা হয়েছে আংশিকভাবে ‘অ্যাক্সেস অ্যান্ড বেনিফিট শেয়ারিং’ (Access and Benefit Sharing -ABS) ব্যবস্থার আওতায়, যা ২০০২ সালের জৈববৈচিত্র্য আইন (Biodiversity Act, 2002) অনুযায়ী বাস্তবায়িত হয়। NBA-এর এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের কৃষকরা বৈজ্ঞানিক সংরক্ষণ এবং আর্থিক লাভ উভয়ই উপভোগ করতে পারছেন।
জাতীয় জৈববৈচিত্র্য কর্তৃপক্ষের এই তহবিল বিতরণের মাধ্যমে ভারত এখন পর্যন্ত মোট ABS অর্থের পরিমাণ ১৪৩.৫ কোটি টাকা (প্রায় ১৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) অতিক্রম করেছে। NBA-এর এই প্রকল্প মূলত লাল চন্দন চাষীদের জন্য দ্বিগুণ আয়ের সুযোগ তৈরি করে। প্রথমত, কৃষকরা চাষ করা লাল চন্দনের কাঠ বা লাঠি আইনগতভাবে বিক্রি করে আয় করতে পারেন; দ্বিতীয়ত, ABS কাঠামোর মাধ্যমে অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা পান। এই ধরনের উদ্যোগ বৈশ্বিক মানদণ্ডে মূল্যবান প্রজাতির সংরক্ষণ এবং টেকসই ব্যবহারকে উৎসাহিত করে।
NBA-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্য জৈববৈচিত্র্য বোর্ডের মাধ্যমে এই অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। আন্ধ্রপ্রদেশে লাল চন্দন সংরক্ষণ ও চাষে মোট ১০৪ কোটি টাকা (প্রায় ১১.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) ইতিমধ্যেই বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও, তামিলনাড়ু (Tamil Nadu), কর্ণাটক (Karnataka), মহারাষ্ট্র (Maharashtra), ওড়িশা (Odisha) এবং তেলঙ্গানা (Telangana) রাজ্যেও মোট ১৫ কোটি টাকা (প্রায় ১.৬৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) বিতরণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত তিন মাসে আন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু এবং তেলঙ্গানার ২২০-এর বেশি লাল চন্দন চাষী ABS অর্থের আওতায় ৫.৩৫ কোটি টাকা পেয়েছেন। NBA-এর এই উদ্যোগ নিশ্চিত করে যে চাষীরা তাদের শ্রমের পূর্ণ মূল্য পাচ্ছেন এবং কৃষি সম্প্রদায়ের জীবিকা-উন্নয়নে সহায়তা করা হচ্ছে।
ABS কাঠামো শুধু আর্থিক সুবিধা প্রদান নয়, তা অবৈধ চন্দন বাণিজ্য এবং অতিরিক্ত চাষের মতো কার্যকলাপও হ্রাস করে। সংরক্ষণ কার্যক্রমকে বাস্তব জৈব-অর্থনৈতিক সুবিধার সঙ্গে যুক্ত করে এই ব্যবস্থা লাল চন্দনকে শুধুমাত্র সংরক্ষিত প্রজাতি নয়, তা কৃষকদের মধ্যে আয়ের উৎসে রূপান্তরিত করছে।জাতীয় জৈববৈচিত্র্য কর্তৃপক্ষের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘আমাদের লক্ষ্য হল লাল চন্দন চাষীদের জন্য একটি টেকসই এবং ন্যায়সঙ্গত আর্থিক কাঠামো গড়ে তোলা, যাতে তারা সংরক্ষণ ও সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে।’ NBA-এর কার্যক্রম ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য লাল চন্দনের সংরক্ষণ, বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং কৃষক সম্প্রদায়ের সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নকে উৎসাহিত করছে।
লাল চন্দন চাষীদের মধ্যে এই তহবিল বিতরণের মাধ্যমে কৃষকরা কেবল তাদের কৃষি পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছেন না, পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। কৃষকদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, এই ধরনের অর্থ বিতরণ তাদের চাষে নতুন উদ্দীপনা যোগ করছে এবং বৈজ্ঞানিক ও টেকসই চাষ পদ্ধতিতে উৎসাহিত করছে।NBA-এর প্রকল্প শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ কৃষি সম্প্রদায়কে নয়, বরং বৈশ্বিক জৈববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ভারতের নেতৃত্বকেও শক্তিশালী করছে। লাল চন্দন চাষকে একটি আয়-উপযোগী, টেকসই এবং বৈজ্ঞানিকভাবে পরিচালিত কৃষি পদ্ধতিতে রূপান্তরিত করা এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এই প্রকল্পের মাধ্যমে লাল চন্দন চাষীদের জীবনমান বৃদ্ধি পেয়েছে, বৈজ্ঞানিক সংরক্ষণ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ বাড়ছে এবং ABS কাঠামোতে দেশের নেতৃত্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও রাজ্য ও চাষীকে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে লাল চন্দনের টেকসই ব্যবহার ও আর্থিক সহায়তা সম্প্রসারিত হবে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Rajasthan mobile ban, camera phone ban for women | প্রজাতন্ত্র দিবস থেকে ক্যামেরাযুক্ত মোবাইল নিষিদ্ধ! রাজস্থানের গ্রাম পঞ্চায়েতের ফরমান ঘিরে তীব্র বিতর্ক




