সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: বাংলার আলোচিত চিটফান্ড কেলেঙ্কারি ‘সারদা’ মামলায় নতুন মোড় এসেছে, সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল রাজীব কুমারকে (Rajeev Kumar) জিজ্ঞাসাবাদ না করার কারণ খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলাটি দীর্ঘদিন ধরেই টানাটানির মধ্যে আছে। এবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা CBI তাঁর জামিন বাতিল চেয়ে আবেদন করেছে, এবং শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি B.R. গভাই (B.R. Gavai) সেই সংস্থার প্রতি প্রতিহিংসার প্রশ্ন করেছে। সিবিআইয়ের অভিমত, রাজীব কুমার সব প্রমাণ ধ্বংস, মুছে ফেলা ও বিকৃত করার চেষ্টা করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, কুমার SIT-র দায়িত্বে থাকাকালীন গুরুত্বপূর্ণ কল রেকর্ড মুছে দিয়েছেন, গোপন তথ্য লিপিবদ্ধ হয়নি।
উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্ট আগামী ১৭ অক্টোবর এই মামলাটি শুনবে। CBI রাজীব কুমারের anticipatory bail বাতিল করার আবেদন জমা দিয়েছে বলে উল্লেখ। শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি বিআর গভাই প্রশ্ন করেছিলেন, “গত ছয় বছরে একবারও কেন রাজীব কুমারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি?” তাঁর এই বক্তব্যে বিচারপতি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, দীর্ঘ সময় ধরে তদন্তে গতি নেই, সিবিআই কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।
রাজীব কুমার ২০১৯ সালের ১ অক্টোবর কলকাতা হাইকোর্ট থেকে anticipatory bail পান। সেই দিন থেকেই, তাঁর আইনজীবীদের দাবি, CBI তাঁকে একবারও ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেনি। CBI পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, জামিন আবেদনে অতিরিক্ত শর্ত রাখা হয়েছিল যে, তিনি তদন্তে সহযোগিতা করবেন। উল্লেখ্য যে, এই মামলার পটভূমিও বেশ জটিল। ২০১৩ সালে সারদা গ্রুপের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, ইনভেস্ট করলে উচ্চ রিটার্ন, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে Ponzi স্কিম চালানো হয়েছিল। ওই স্কিমে লাখো বিনিয়োগকারী ঠকেছিলেন। রাজীব কুমার কলকাতা পুলিশের কমিশনার থাকাকালীন সময়ে SIT (Special Investigation Team) গঠন করা হয়েছিল। সেই শীট-এর দায়িত্ব নিয়েছিলেন তিনি। পরে, ২০১৪ সালে, সুপ্রিম কোর্ট মামলাটি CBI-এর কাছে হস্তান্তর করে দেন। ২০২০ সালে CBI সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে রাজীব কুমারকে আটক ও জিজ্ঞাসাবাদ করার নির্দেশ চেয়েছিল। তারা দাবি করেছিল, রাজীব কুমার তদন্তে সহযোগিতা করছেন না ও ভয় আছে প্রমাণ ধ্বংস করার। সেই সঙ্গে, এক সময় সিবিআই-এর একটি দল ২০১৯ সালে কলকাতা রাজীব কুমারের অফিসে পৌঁছালে রাজ্য পুলিশ তাদের আটক করে, এবং রাজনৈতিক সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
রাজীব কুমার বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল (DGP) ও সঙ্গে সঙ্গে CID (Criminal Investigation Department)-এর দায়িত্বে রয়েছেন। তাঁর ক্যাডার ভিত্তি Uttar Pradesh হলেও তিনি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশে কাজ করছেন বহু বছর ধরে। প্রসঙ্গত, বিচারপতি গভাইয়ের প্রশ্ন শুধু এক ব্যক্তি নির্বন্ধে সীমাবদ্ধ নয়, তা পুরো CBI-পদ্ধতির স্বচ্ছতা ও গতি নিয়ে বিস্তৃত বিতর্ক তৈরি করেছে। যদি গোপনভাবে প্রমাণ নষ্ট করা হয়েছে বা তদন্তে সাহায্য করা হয়নি, এসব বিষয় আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। বিশেষ করে, কোনও সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে উপযুক্ত সময়ে জিজ্ঞাসাবাদ না করা সাধারণ তদন্ত প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধধারা। এটি অনাস্থা ও তদারকি কম হওয়া নির্দেশ করতে পারে।
আদালতের সামনে এখন দু’টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত: একটি, রাজীব কুমারের anticipatory bail বাতিল হবে কি না; এবং দ্বিতীয়, CBIকে আদেশ দেওয়া হবে কি না, রাজীব কুমারকে আবার গ্রেফতার ও জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনতে। আগামী শুনানি (১৭ অক্টোবর) এই সিদ্ধান্তের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হবে বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।
ছবি: সংগৃহীত




