Rajasthan bus fire | চলন্ত বাসে দাউদাউ আগুন, জয়সলমিরে ২০ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু, ভয়াবহ ঘটনায় শোকস্তব্ধ দেশ

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ জয়সলমির : রাজস্থানের বালুর শহর জয়সলমির মঙ্গলবার বিকেলে সাক্ষী রইল এক ভয়াবহ মর্মান্তিক দৃশ্যের। থাইয়াত (Thaiyat) এলাকার সেনা ঘাঁটির কাছে দুপুর তিনটে নাগাদ একটি চলন্ত যাত্রীবাহী বাসে হঠাৎ আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই বাসটি দাউ দাউ করে জ্বলতে শুরু করে। প্রচণ্ড আগুন ও কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় চারপাশ। বাসের ভিতরে আটকে পড়েন যাত্রীরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত ২০ জনের।গুরুতরভাবে জখম হয়েছেন আরও ১৬ জন, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের শরীরের ৭০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে। তাঁদের দ্রুত যোধপুর (Jodhpur) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বাসটি জয়সলমির থেকে যোধপুরের দিকে যাচ্ছিল। রাস্তায় হঠাৎ করেই পিছনের দিকে থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখে চালক বাস থামিয়ে দেন। যাত্রীরা তখনও বিষয়টি বুঝে ওঠেননি। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো বাসে। আতঙ্কে চিৎকার করতে করতে যাত্রীরা নামার চেষ্টা করেন, কিন্তু অনেকেই বেরোতে পারেননি। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে মুহূর্তের মধ্যেই বাসটি আগুনে গ্রাস হয়ে যায়।স্থানীয় বাসিন্দা রাজু সিং জানান, “আমরা যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছাই, তখন আগুন পুরো বাসটাকে ঘিরে ফেলেছে। সেনা ঘাঁটির কাছাকাছি হওয়ায় সেনা কর্মীরাও সঙ্গে সঙ্গে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। আমরা যতজনকে পারি টেনে বের করার চেষ্টা করি, কিন্তু আগুন এতটাই ভয়ংকর ছিল যে কিছুই করা যাচ্ছিল না।”

দমকল ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বাসের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় বহু দগ্ধ দেহ। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। জয়সলমিরের জেলা প্রশাসন জানায়, প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে যে শর্ট সার্কিট (Short Circuit) থেকেই আগুনের সূত্রপাত। আরও জানা গেছে, দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাসটি মাত্র পাঁচ দিন আগেই কেনা হয়েছিল। ফলে এর প্রযুক্তিগত ত্রুটি নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মা (Bhajanlal Sharma) রাতে নিজে ঘটনাস্থলে পৌঁছন। তিনি বলেন, “এটা রাজ্যের জন্য গভীর বেদনার দিন। প্রশাসন আহতদের সবরকম সাহায্য করবে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হবে।” মুখ্যমন্ত্রী পুড়ে যাওয়া বাসটি খতিয়ে দেখেন এবং হাসপাতালে আহতদের সঙ্গেও কথা বলেন।প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) সামাজিক মাধ্যমে শোকপ্রকাশ করে লেখেন, “জয়সলমিরের বাস দুর্ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক। নিহতদের পরিবারকে আমি আন্তরিক সমবেদনা জানাই। আহতরা দ্রুত আরোগ্য লাভ করুন, এই প্রার্থনা করছি।” প্রধানমন্ত্রী মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা করে এবং আহতদের চিকিত্সার জন্য ৫০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেন।উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণণ (C.P. Radhakrishnan) ও রাজস্থানের গভর্নরও ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) এক্স (X) হ্যান্ডেলে লেখেন, “রাজস্থানে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকর্মীরা অসাধারণভাবে কাজ করেছেন।”

দুর্ঘটনার পর থাইয়াত এলাকার আশপাশে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে যানজট তৈরি হয়। বহু যাত্রী ঘন্টার পর ঘন্টা আটকে পড়েন। স্থানীয় দোকানপাটও কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এলাকায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজস্থানের মরুভূমি অঞ্চলে উচ্চ তাপমাত্রা ও দীর্ঘ যাত্রাপথে গরমের কারণে যানবাহনের ইঞ্জিন অংশে অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যা শর্ট সার্কিটের সম্ভাবনা বাড়ায়। স্থানীয় প্রশাসন ইতিমধ্যেই দুর্ঘটনার সঠিক কারণ খুঁজে বের করতে বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা শুধু জয়সলমির নয়, গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে। স্থানীয় মানুষজন এখনও আতঙ্কে, অনেক পরিবার নিখোঁজ আত্মীয়দের খোঁজে হাসপাতাল ও মর্গের বাইরে অপেক্ষা করছেন। এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “চোখের সামনে মানুষগুলোকে আগুনে পুড়তে দেখেছি। সেই দৃশ্য কোনো দিন ভুলতে পারব না।” উল্লেখ্য, প্রশাসন জানিয়েছে, মৃতদের দেহ ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে। রাজ্য জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এই ভয়াবহ ঘটনায়।

ছবি : সংগৃহীত ও প্রতীকী
আরও পড়ুন : Modi Khurelsukh meeting | মোদীর আমন্ত্রণে খুরেলসুখ, ৭০ বছরের বন্ধুত্ব ও নতুন দিগন্তে ভারত-মঙ্গোলিয়া সম্পর্ক 

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন