RAB renamed SIF | ভোটের মুখে বাংলাদেশে বড় রদবদল, বিতর্কিত র‌্যাব লুপ্ত, নাম বদলে তৈরি হচ্ছে এসআইএফ

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ ঢাকা: মানবাধিকার লঙ্ঘন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং রাজনৈতিক দমনপীড়নের অভিযোগে দীর্ঘ দিন ধরেই বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা বাংলাদেশের সন্ত্রাসদমন বাহিনী র‌্যাব (Rapid Action Battalion বা RAB) ভোটের ঠিক আগে কার্যত বিলুপ্ত হতে চলেছে। দেশটির জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ‘জুলাই সনদ’ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপের মাঝেই এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করল মুহাম্মদ ইউনূস (Muhammad Yunus) -এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। র‌্যাবের নাম বদলে নতুন বাহিনী গঠনের ঘোষণাকে অনেকেই একটি পদক্ষেপের চেয়েও বড় রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন। প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) জাহাঙ্গির আলম চৌধুরী (Jahangir Alam Chowdhury) জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা সংক্রান্ত কোর কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী র‌্যাবের নাম পরিবর্তন করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, ‘র‌্যাবের নতুন নাম হবে স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স বা এসআইএফ (Special Intervention Force বা SIF)।’ তিনি আরও জানান, খুব শীঘ্রই এই বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের তরফে নির্বাহী আদেশনামা জারি করা হবে। ফলে শুধু নাম বদল নয়, কাঠামোগত পরিবর্তনের দিকেও এগোতে চলেছে সরকার, এমনটাই ইঙ্গিত প্রশাসনিক মহলের।

আরও পড়ুন : Bihar Budget 2026-27, Nitish Kumar Government | ‘জ্ঞান-বিজ্ঞান-আকাঙ্ক্ষা’ -এর রূপরেখায় ৩.৪৭ লক্ষ কোটি টাকার বাজেট বিহারে, ‘বিকশিত বিহার’-এর পথে বড় ঘোষণা নীতীশ সরকারের

২০০৪ সালে সন্ত্রাসদমন বাহিনী হিসেবে র‌্যাবের আত্মপ্রকাশ। তখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন প্রয়াত বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া (Khaleda Zia)। শুরু থেকেই এই বাহিনীকে ঘিরে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ ওঠে। যদিও প্রথম দিকে সন্ত্রাস ও মাদক চোরাচালান দমনে র‌্যাবের একাধিক অভিযান জনসমর্থন পেয়েছিল। তবে পরিস্থিতি আমূল বদলে যায় ২০০৮ সালের পর, যখন শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় আসেন। তাঁর দেড় দশকের শাসনামলে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির অভিযোগ ছিল, র‌্যাব কার্যত শাসক দলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আওয়ামী লীগ বিরোধী শিবিরের একাংশ র‌্যাবকে ‘বঙ্গবন্ধু মুজিবুর রহমান (Sheikh Mujibur Rahman) -এর জমানার রক্ষীবাহিনীর নতুন সংস্করণ’ বলে আখ্যা দিয়েছিল। অভিযোগ উঠেছে, সন্ত্রাস দমন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে বিরোধী নেতাকর্মীদের বেআইনি ভাবে আটক, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো, গুম এবং এমনকী গুপ্তহত্যার ঘটনাতেও র‌্যাব জড়িত ছিল। মানবাধিকার সংগঠনগুলির রিপোর্টে একাধিকবার এই বাহিনীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে।

বাংলাদেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক স্তরেও র‌্যাবের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ২০২০ সালে আমেরিকার কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সেনেটের বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটি তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) -এর প্রশাসনের কাছে র‌্যাবের শীর্ষ কর্তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব পাঠিয়েছিল। সেই রিপোর্টে দাবি করা হয়, ২০১৫ সাল থেকে বাংলাদেশে ৪০০ -এর বেশি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে র‌্যাব প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে যুক্ত। এই অভিযোগ আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে যথেষ্ট ধাক্কা দিয়েছিল। র‌্যাব নিয়ে বিতর্কের সূত্র খুঁজতে গেলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আরও পিছনে যেতে হয়। শেখ হাসিনার পিতা বঙ্গবন্ধু মুজিবুর রহমান ক্ষমতায় থাকার সময় তাঁর হাতে গড়া জাতীয় রক্ষীবাহিনীর বিরুদ্ধেও গুমখুন ও রাজনৈতিক নিধনের অভিযোগ উঠেছিল। সত্তরের দশকে ওয়াশিংটন-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক মহল সেই অভিযোগ প্রকাশ্যে তোলে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সেনার একাংশের অভ্যুত্থানে মুজিব সপরিবারে নিহত হওয়ার পরে রক্ষীবাহিনী ভেঙে দেওয়া হয় এবং তাদের বহু সদস্যকে বাংলাদেশ সেনায় পুনর্বাসিত করা হয়। র‌্যাব গঠনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের মডেল অনুসরণ করা হয়েছিল। বাংলাদেশ সেনা, বিডিআর (বর্তমানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবি), ব্যাটেলিয়ন আনসার এবং অন্যান্য বাহিনীর বাছাই করা সদস্যদের নিয়ে তৈরি হয়েছিল এই এলিট ফোর্স। বিতর্কের পাশাপাশি র‌্যাবের সাফল্যের নজিরও রয়েছে। ২০০৬ সালে তদারকি সরকারের আমলে কুখ্যাত জঙ্গি নেতা বাংলা ভাই ওরফে সিদ্দিকুল ইসলামকে (Siddiqul Islam) গ্রেফতার করেছিল র‌্যাব। জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (JMB) -এর বিরুদ্ধে একাধিক সফল অভিযানের কথাও অস্বীকার করা যায় না বলে উল্লেখ।

কিন্তু, দেশটির ভোটের আগে হঠাৎ করে র‌্যাবের নাম বদলের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। অনেকের মতে, শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলের বিতর্কিত অধ্যায় থেকে দূরে সরে গিয়ে নতুন শুরুর বার্তা দিতেই এই পদক্ষেপ। আবার বিরোধীদের একাংশের দাবি, শুধু নাম বদলে বাস্তব বদল হবে কি না, তা সময়ই বলবে। অতীতেও দেখা গেছে, ২০০৯ সালের পিলখানা বিদ্রোহ ও গণহত্যাকাণ্ডের পরে বাংলাদেশ রাইফেল্‌স (BDR) -এর নাম বদলে বিজিবি করা হয়েছিল। সে ক্ষেত্রেও নাম বদল হলেও কাঠামোগত সংস্কার নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গিয়েছিল। তবে, র‌্যাব থেকে এসআইএফএই রূপান্তর বাংলাদেশের রাজনীতি ও প্রশাসনে নতুন কিছু সূচনা করতে চলেছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এই সিদ্ধান্ত ভোটারদের মনে কতটা প্রভাব ফেলবে এবং আদৌ মানবাধিকার সংক্রান্ত অভিযোগের অবসান ঘটবে কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে ঢাকা ও আন্তর্জাতিক মহল।

ছবি : সংগৃহীত ও প্রতীকী
আরও পড়ুন : PM Narendra Modi on India US Trade Deal | ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি ‘ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত’, দেশের প্রত্যেকেরই লাভ হবে: এনডিএ বৈঠকে ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর

Sasraya News
Author: Sasraya News