সংবেদন শীল ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, নতুন দিল্লি : ব্যাডমিন্টনের কোর্টে বৃহস্পতিবার ছিল ভারতীয় তারকাদের জন্য হতাশার দিন। ইন্দোনেশিয়া মাস্টার্স ৫০০ প্রতিযোগিতার কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হল দেশের দুই বড় ভরসা পিভি সিন্ধু (PV Sindhu) ও লক্ষ্য সেনকে (Lakshya Sen)। দু’জনেই স্ট্রেট গেমে ম্যাচ হারালেন। তবে দিনের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা হয়ে থাকল সিন্ধুকে লাল কার্ড দেখানো এবং পরে ম্যাচ রেফারির হস্তক্ষেপে সেই কার্ড প্রত্যাহারের নাটকীয় মুহূর্ত। উল্লেখ্য যে, জাকার্তার কোর্টে শীর্ষবাছাই চিনের চেন ইউ ফেই (Chen Yu Fei)-এর বিরুদ্ধে ম্যাচের শুরু থেকেই চাপে ছিলেন সিন্ধু। তিনি প্রথম গেমে নিজের স্বাভাবিক ছন্দ খুঁজে পাননি। প্রতিপক্ষের ধারাবাহিক আক্রমণ এবং নিখুঁত নেট প্লের সামনে দাঁড়াতে পারেননি ভারতীয় তারকা। ফলস্বরূপ ১৩-২১ পয়েন্টে প্রথম গেমটি হারেন সিন্ধু।

দ্বিতীয় গেমে অবশ্য অন্য রকম সিন্ধুকে দেখা যায়। শুরুতেই আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলতে নেমে কয়েক পয়েন্টের লিড নেন তিনি। মনে হচ্ছিল ম্যাচে ফেরার রাস্তা খুঁজে পাচ্ছেন। কিন্তু গেমের মাঝামাঝি সময়ে কয়েকটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত পরিস্থিতি বদলে দেয়। দু’টি রিভিউ ব্যবহার করেও সিদ্ধান্ত নিজেদের পক্ষে আনতে ব্যর্থ হন সিন্ধু। এরপর আরও একটি শট আউট দেওয়া হলে তিনি ক্ষোভ উগরে দেন। তখন তাঁর হাতে আর কোনও রিভিউ অবশিষ্ট ছিল না।
এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করেই চেয়ার আম্পায়ারের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন সিন্ধু। প্রথমে তাঁকে হলুদ কার্ড দেখানো হয়। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। সিন্ধু নিজের অবস্থানে অনড় থাকায় চেয়ার আম্পায়ার তাঁকে লাল কার্ড দেখান। হঠাৎ করেই কোর্টে তৈরি হয় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি। পরিস্থিতি সামাল দিতে কোর্টে নামতে হয় ম্যাচ রেফারিকে। তিনি সিন্ধুকে শান্ত করেন এবং আলোচনার পর লাল কার্ড প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
এই ঘটনার সময় স্কোরলাইন ছিল সিন্ধুর বিপক্ষে ১২-১৭। লাল কার্ডের ঘটনার পর যেন আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠেন তিনি। একের পর এক পয়েন্ট তুলে নিয়ে ব্যবধান কমাতে থাকেন। এক সময় স্কোর দাঁড়ায় ১৭-১৮। তখন মনে হচ্ছিল অভিজ্ঞতার জোরে হয়তো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারবেন সিন্ধু। কিন্তু চেন ইউ ফেই নিজের অভিজ্ঞতা ও মানসিক দৃঢ়তা কাজে লাগিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ভুল করেননি। শেষ পর্যন্ত ১৭-২১ পয়েন্টে দ্বিতীয় গেম জিতে ম্যাচ নিজেদের দখলে নেন চিনা শাটলার। একই দিনে হতাশার ছবি দেখা গেল পুরুষদের সিঙ্গলসেও। কোয়ার্টার ফাইনালে তাইল্যান্ডের পানিতচাপন তিরারাতসাকুল (Panitchaphon Teeraratsakul) -এর বিরুদ্ধে স্ট্রেট গেমে হারলেন লক্ষ্য সেন। ম্যাচের স্কোরলাইন ছিল ১৮-২১, ২০-২২। সপ্তম বাছাই হিসাবে প্রতিযোগিতায় নামা লক্ষ্য বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে পুরুষদের সিঙ্গলসে ১২ নম্বরে রয়েছেন। অন্য দিকে, তাঁর প্রতিপক্ষ তাইল্যান্ডের খেলোয়াড়টি ছিলেন ৪৪ নম্বরে। র্যাঙ্কিংয়ের বিচারে এই হার নিঃসন্দেহে হতাশাজনক।
ম্যাচের শুরু থেকেই লক্ষ্য কিছুটা রক্ষণাত্মক কৌশল নেন। প্রতিপক্ষের ভুলের অপেক্ষায় থেকে খেলতে দেখা যায় তাঁকে। প্রথম গেমে লড়াই করলেও শেষ মুহূর্তে প্রয়োজনীয় আক্রমণাত্মক মানসিকতার অভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। দ্বিতীয় গেমে অবশ্য লক্ষ্য আরও লড়াকু হয়ে ওঠেন। কয়েক বার ম্যাচ পয়েন্টের কাছাকাছি পৌঁছেও সেটটি নিজেদের করে নিতে ব্যর্থ হন। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে একাধিক আনফোর্সড এরর ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
এই পরাজয়ের ফলে আরও একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হলেন লক্ষ্য। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক টুর্নামেন্টে কোয়ার্টার ফাইনাল বা তার আগেই থেমে যেতে হচ্ছে তাঁকে, যা ভারতীয় শাটলারদের জন্য চিন্তার কারণ হয়ে উঠছে। প্রসঙ্গত, ইন্দোনেশিয়া মাস্টার্স ৫০০ প্রতিযোগিতায় ভারতের দিনটি কাটল হতাশার ছায়ায়। সিন্ধুর ক্ষেত্রে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও আবেগের বহিঃপ্রকাশ ম্যাচের রাশ নিজের হাতে নিতে দেয়নি। অন্য দিকে, লক্ষ্য সেনের ক্ষেত্রে আক্রমণাত্মক ধারাবাহিকতার অভাব আরও এক বার বড় মঞ্চে তাঁর অগ্রগতিকে থামিয়ে দিল। সামনে আসন্ন প্রতিযোগিতাগুলিতে এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভারতীয় তারকারা ঘুরে দাঁড়াতে পারেন কি না, সেটাই এখন দেখার।
ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : India T20 victory, Ishan Kishan-Suryakumar Yadav | সূর্যোদয়ের রাতে ঈশানের ঝড়, টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে দ্রুত ২০০+ রান তাড়া ভারতের




