সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ পুরুলিয়া : পুরুলিয়া জেলায় নাবালিকা ছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে দ্রুত পদক্ষেপ করে পুরুলিয়া সদর থানার পুলিশ মোট সাত জনকে গ্রেফতার করেছে। অপহরণের অভিযোগ পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নাবালিকাকে উদ্ধার করে পুলিশ, এরপর তার বয়ান ও প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসে গণধর্ষণের ভয়াবহ অভিযোগ। ঘটনায় পকসো আইনে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে জেলা পুলিশ। রবিবার ধৃতদের মধ্যে ছ’জনকে পুরুলিয়া জেলা আদালতে তোলা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় নাবালিকা ছাত্রী একবন্ধুর সঙ্গে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সে আর বাড়ি না ফেরায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। রাত বাড়তেই মেয়ের বাবা পুরুলিয়া সদর থানায় গিয়ে অপহরণের অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তৎপর হয় পুলিশ। শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘিরে তল্লাশি শুরু হয়। মাত্র ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যেই পুরুলিয়া শহরের একটি নির্জন জায়গা থেকে ওই নাবালিকাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ বাহিনী। উদ্ধারের পরই নাবালিকাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। শারীরিক পরীক্ষা ও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সময় পুলিশ জানতে পারে, ওই নাবালিকা একাধিক ব্যক্তির দ্বারা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। পুলিশের এক আধিকারিক জানান, মেয়েটি মানসিক ভাবে ভেঙে পড়লেও সাহস করে পুরো ঘটনার বিবরণ দেয়। তার বয়ানের ভিত্তিতেই অপহরণের পাশাপাশি গণধর্ষণের অভিযোগ যুক্ত করা হয় এবং পকসো আইনে মামলা রুজু করা হয়।
পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে, ধৃত সাত জনের মধ্যে ছ’জন পুরুলিয়া শহরের কেতিকা (Ketika) এলাকার বাসিন্দা। অন্য একজন ভিন্ন এলাকার। ধৃতদের মধ্যে একজন শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় তাকে আপাতত আদালতে হাজির করানো হয়নি। বাকি ছ’জনকে রবিবার পুরুলিয়া জেলা আদালতে তোলা হয়। আদালতে হাজির করানোর সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কড়া। পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, সে জন্য আদালত চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল।
এই ঘটনায় জেলা পুলিশ সুপার বৈভব তিওয়ারি (Vaibhav Tiwari) বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত তদন্তে নামে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই নির্যাতিতাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। পরে নির্যাতিতার বয়ান এবং প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে অপহরণের পাশাপাশি গণধর্ষণ ও পকসো ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনায় আরও কেউ যুক্ত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ তিনি আরও জানান, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে দেওয়া জবানবন্দীতেও নাবালিকা একই অভিযোগের পুনরাবৃত্তি করেছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। ফলে মামলার গুরুত্ব আরও বেড়েছে। তদন্তকারীরা ঘটনার সময়কাল, স্থান এবং অভিযুক্তদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের কল ডিটেলস ও অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করছেন। একই সঙ্গে নির্যাতিতার মানসিক ও শারীরিক সুরক্ষার দিকেও খেয়াল রাখা হচ্ছে।
এই ঘটনার পর পুরুলিয়া জুড়ে ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলছেন, শহরের মধ্যে এমন ঘটনা কীভাবে ঘটল। সমাজের বিভিন্ন মহল থেকে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে। শিশু ও নারী সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে ভাবনার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসছে। অনেকেই মনে করছেন, শুধু আইন নয়, সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোও জরুরি।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, নাবালিকার ওপর যৌন নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত উদ্ধার ও তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে পুরুলিয়া জেলা পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ প্রশংসনীয় হলেও, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রুখতে আরও কঠোর নজরদারি ও সামাজিক উদ্যোগ প্রয়োজন। প্রশাসনের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজকেও সচেতন হতে হবে, যাতে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। তবে, এই মুহূর্তে পুলিশি তদন্ত চলছে জোরকদমে। ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুরো ঘটনার পেছনের নেপথ্য খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। জেলা পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে কোনও রকম শৈথিল্য রাখা হবে না। নাবালিকার পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাসও দিয়েছে প্রশাসন। ভয়াবহ এই ঘটনার দ্রুত বিচার ও ন্যায়বিচারের দিকে তাকিয়ে এখন গোটা পুরুলিয়া।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Bihar Gang Rape, Purnia Crime News | অভিযুক্তের মোবাইলেই আর্তনাদ, বিহারে নর্তকী গণধর্ষণ কাণ্ডে শিউরে উঠল পুর্ণিয়া




