সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : ভারতের জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতার ছবি সামনে এল। রাজধানী দিল্লিতে। প্রিমিয়াম পেট্রল (Premium petrol price) ও ডিজেলের দামে হঠাৎ ঊর্ধ্বগতি নজরে পড়েছে। একই সঙ্গে আকাশছোঁয়া হয়েছে বিমানের জ্বালানি বা এটিএফ (ATF) -এর দাম, যা সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে বিমানভাড়ায়। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির টানাপোড়েনের মধ্যেই এই মূল্যবৃদ্ধি ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। সংবাদসংস্থা সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইন্ডিয়ান অয়েল (Indian Oil Corporation) -এর প্রিমিয়াম পেট্রল এক্সপি ১০০ (XP100) -এর দাম প্রতি লিটারে ১১ টাকা বেড়েছে। আগে যেখানে এই জ্বালানির দাম ছিল ১৪৯ টাকা, তা বেড়ে এখন ১৬০ টাকায় পৌঁছেছে। একইভাবে প্রিমিয়াম ডিজ়েল এক্সট্রা গ্রিন (Extra Green Diesel)-এর দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে এই ডিজ়েলের দাম ছিল লিটারপ্রতি ৯১.৪৯ টাকা, যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯২.৯৯ টাকায়। এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে নির্দিষ্ট কোনও কারণ ইন্ডিয়ান অয়েল (Indian Oil Corporation) আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামা এবং পরিবহণ খরচ বৃদ্ধির বিষয়টি বড় কারণ হিসেবে উঠে আসছে। অনেকের ধারণা, পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতের জেরে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে ভারতীয় বাজারেও।
সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রে। বিমানের জ্বালানি এটিএফ (Aviation Turbine Fuel)-এর দাম হু হু করে বেড়ে প্রতি কিলোলিটার ২.০৭ লক্ষ টাকায় পৌঁছেছে। মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেও, ১ মার্চের হিসাবে, এই দাম ছিল প্রায় ৯৬ হাজার টাকার কিছু বেশি। অর্থাৎ খুব অল্প সময়ের মধ্যে প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি হয়েছে। এর ফলে বিমান সংস্থাগুলির খরচ বেড়ে যাওয়ায় যাত্রীদের পকেটেও চাপ পড়তে পারে। আভিয়েশন মহলে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে যে, এটিএফের এই দাম বৃদ্ধির জেরে বিমানভাড়া বাড়ানো ছাড়া উপায় নাও থাকতে পারে। কারণ বিমান সংস্থাগুলির মোট পরিচালন খরচের একটি বড় অংশই জ্বালানি ব্যয়ের উপর নির্ভর করে। ফলে এটিএফের দামের এমন ঊর্ধ্বগতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বিমানযাত্রা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে। পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি এই মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত বলে মনে করা হচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ওই অঞ্চলে চলা সংঘাত আন্তর্জাতিক তেল পরিবহণ ব্যবস্থায় বড় প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে হরমুজ় প্রণালী (Strait of Hormuz), যা বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ইরান (Iran) এই পথ দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করেছে, যার ফলে তেল পরিবহণ ব্যাহত হচ্ছে। ভারতের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়েছে। একাধিক ভারতীয় জাহাজ এই অঞ্চলে আটকে পড়ার খবর সামনে এসেছে। যদিও কিছু জাহাজকে পরে যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তবুও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক নয়। তবে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক (Petroleum Ministry) জানিয়েছে, ভারতের তেল আমদানির একটি বড় অংশ বিকল্প পথেও হয়ে থাকে। তাই সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
সরকারি সূত্রে আরও খবর, সাধারণ পেট্রল ও ডিজ়েলের দামে এখনও বড় পরিবর্তন আনা হয়নি। সাধারণ মানুষের উপর চাপ কম রাখতে অন্তঃশুল্ক কমানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে আগেই। তবে প্রিমিয়াম জ্বালানির ক্ষেত্রে বাজারভিত্তিক দামের প্রভাব বেশি থাকায় এই বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অন্যদিকে, রান্নার গ্যাসের ক্ষেত্রেও মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা লেগেছে। বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের দাম এক লাফে ২১৮ টাকা বেড়েছে। ফলে ১৯ কেজির একটি বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম এখন ২,২০৮ টাকায় পৌঁছেছে। এর আগে মার্চ মাসেই ঘরোয়া গ্যাসের দাম বেড়েছিল, যা সাধারণ পরিবারগুলির খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে। জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি শুধু পরিবহণ নয়, সামগ্রিক অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। পণ্য পরিবহণের খরচ বাড়লে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামও বাড়তে পারে। ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহল সূত্রে উল্লেখ যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নজর রাখা হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাজারের উপর। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত কত দিন চলবে এবং তার প্রভাব কতটা গভীর হবে, তার উপরই নির্ভর করছে ভবিষ্যতের জ্বালানি মূল্য। আপাতত দিল্লিতে এই বৃদ্ধি দেখা গেলেও, আগামী দিনে দেশের অন্য শহরগুলিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Fuel Price News, Petrol Diesel Update | ১৫ দিন অন্তর পেট্রল-ডিজ়েলের দাম পর্যালোচনা, শুল্ক কমাল কেন্দ্র




