সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ মুম্বাই, ৩১ অক্টোবর: সম্প্রতি মুম্বাইয়ের পোয়াই (Powai) এলাকায় আরএ স্টুডিওতে (RA Studio) ঘটে যাওয়া জিম্মি কাণ্ডে নতুন চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। মারাঠি অভিনেত্রী রুচিতা যাদব (Ruchita Yadav) দাবি করেছেন, যিনি ১৭ জন শিশুকে ও দুই প্রাপ্তবয়স্ককে আটক করে রেখেছিলেন, সেই রোহিত আর্য (Rohit Arya) কিছুদিন আগেই তাঁকে একই স্টুডিওতে দেখা করার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। অভিনেত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁকে একটি সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব দিয়ে যোগাযোগ করেছিলেন আর্য। পরে, একই ব্যক্তির নাম সংবাদমাধ্যমে উঠে আসতেই অভিনেত্রীর মধ্যে তীব্র শোক ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
রুচিতা যাদব ইনস্টাগ্রামে একাধিক স্টোরিতে পুরো ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “সবাইকে হ্যালো, আমি এমন একটি ব্যক্তিগত জিনিস শেয়ার করতে চাই যা আমাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। ৪ অক্টোবর, রোহিত আর্য নামে একজন আমার সঙ্গে একটি চলচ্চিত্র প্রকল্পের বিষয়ে যোগাযোগ করেছিলেন। তিনি যে বিষয়বস্তু বর্ণনা করেছিলেন তা ছিল একটি জিম্মি পরিস্থিতি সম্পর্কে। একজন অভিনেতা হিসেবে, আমি আরও শুনতে রাজি হয়েছি।” অভিনেত্রীর পোস্ট অনুযায়ী, আর্য তাঁকে ২৭, ২৮ বা ২৯ অক্টোবরের মধ্যে কোনও একদিন পোয়াইয়ের স্টুডিওতে দেখা করার প্রস্তাব দেন। রুচিতা জানিয়েছেন, “আমি প্রথমে ২৮ তারিখে দেখা করতে রাজি হই। এরপর তিনি ২৭ তারিখে আমাকে স্টুডিওর অবস্থান পাঠিয়ে দেন। কিন্তু পারিবারিক দায়বদ্ধতার কারণে আমি শেষ মুহূর্তে সাক্ষাৎ বাতিল করি। আজ যখন খবরের কাগজে দেখি সেই একই স্টুডিওয় কী ঘটেছে, তখন আমার শরীর ঠাণ্ডা হয়ে যায়। আমি ভাবতে পারছি না, যদি আমি সেদিন সেখানে যেতাম, তাহলে কী ঘটত!” রুচিতা তাঁর পোস্টে আরও লেখেন, “আমি ঈশ্বর এবং আমার পরিবারের প্রতি অবিশ্বাস্যভাবে কৃতজ্ঞ। এখন আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে কেউ একজন আমাকে রক্ষা করেছে। এই ঘটনা আমাদের সকলকে মনে করিয়ে দেয়, কাজের জন্য অপরিচিতদের সঙ্গে দেখা করার সময় আমাদের অত্যন্ত সতর্ক থাকা দরকার, যতই স্বাভাবিক মনে হোক না কেন।”
এই পোস্টের পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। অনেকেই অভিনেত্রীর সাহসের প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ কেউ বলেছেন যে এই অভিজ্ঞতা ইন্ডাস্ট্রির নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাবকে প্রকাশ করছে। প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার মুম্বাইয়ের পোয়াইয়ে আরএ স্টুডিওতে ৫০ বছর বয়সী রোহিত আর্য (Rohit Arya) নামে এক প্রাক্তন স্কুল শিক্ষক ১৭ জন শিশু ও দুই প্রাপ্তবয়স্ককে আটক করে রাখেন। জানা গিয়েছে, ১০ থেকে ১২ বছর বয়সী ওই শিশুরা একটি ওয়েব সিরিজের অডিশনের জন্য সেখানে গিয়েছিল। আর্য নিজেকে ‘ফিল্মমেকার’ বলে দাবি করে শিশুদের ঘরে আটকে রাখেন এবং পুলিশের দাবি, তিনি এয়ারগান ও জ্বলন্ত স্প্রে ব্যবহার করে হুমকি দিচ্ছিলেন।
সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে চলা উদ্ধার অভিযানের পর মুম্বাই পুলিশ তাঁকে গুলি করে হত্যা করে এবং সকল শিশুদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। পরে তদন্তে জানা যায়, আর্য মহারাষ্ট্র সরকারের কাছে তাঁর “বকেয়া পাওনা” -এর দাবি জানিয়ে এই কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন।রুচিতা যাদবের (Ruchita Yadav) দাবি সামনে আসার পর তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। মুম্বাই পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “রুচিতা যাদবের বক্তব্য রেকর্ড করা হবে। তাঁর সঙ্গে রোহিত আর্যের যোগাযোগের প্রমাণ ও কথোপকথন তদন্তের অংশ হিসেবে পর্যালোচনা করা হবে।”
সিনেমা জগতের মানুষদের নিরাপত্তা নিয়েও এখন প্রশ্ন উঠছে। অনেকেই মনে করছেন, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রতারণার ঘটনা ক্রমশ বেড়ে চলেছে, বিশেষ করে অডিশন ও কাস্টিংয়ের নামে। অভিনেত্রী রুচিতা এই প্রসঙ্গে সতর্কবার্তা দিয়েছেন, “ইন্ডাস্ট্রিতে নতুনরা প্রায়ই উত্তেজিত হয়ে অপরিচিত লোকের সঙ্গে দেখা করতে যায়, কিন্তু আমাদের মনে রাখা উচিত, নিরাপত্তা আগে।” তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, রোহিত আর্য গত কয়েক মাস ধরে ‘জিম্মি পরিস্থিতি’-নির্ভর একটি ওয়েব প্রোজেক্টের কথা বলে বিভিন্ন অভিনেতা ও টেকনিশিয়ানের সঙ্গে যোগাযোগ করছিলেন। তাঁর এই প্রস্তাবের পেছনে আসলে কী উদ্দেশ্য ছিল, তা জানতে পুলিশ ডিজিটাল ডিভাইস ও মেসেজ রেকর্ড পরীক্ষা করছে। এই ঘটনার পর মুম্বাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে আতঙ্কের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে। অনেক তরুণ শিল্পী সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে সতর্ক করছেন অন্যদের। পুলিশের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, যেকোনো সন্দেহজনক প্রস্তাব বা অডিশন কল পেলে অবিলম্বে স্থানীয় থানাকে জানাতে।
মুম্বাই পুলিশের বক্তব্যে একাধিক প্রশ্ন উঠে এসেছে, রোহিত আর্যের মানসিক অবস্থা, তাঁর “চলচ্চিত্র প্রকল্প” আসলে কতটা বাস্তব ছিল, এবং তাঁর আগের জীবন নিয়ে কী তথ্য পাওয়া যায়। তবে অভিনেত্রী রুচিতা যাদবের প্রকাশ্যে আসা পোস্ট নিঃসন্দেহে এই মামলায় নতুন দৃষ্টিকোণ এনেছে। এখন দেখার বিষয়, পুলিশের তদন্তে এই সাক্ষ্য ও ডিজিটাল তথ্য থেকে কী নতুন তথ্য উঠে আসে এবং কীভাবে এই কাণ্ডের গভীরে পৌঁছায় প্রশাসন।
ছবি : সংগৃহীত


