সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : ভারত-ইসরায়েল কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu) বুধবার গুরুত্বপূর্ণ টেলিফোন আলোচনায় অংশ নেন। দুই নেতা পর্যালোচনা করেন দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত অংশীদারত্বের বর্তমান অগ্রগতি এবং ভবিষ্যতের সহযোগিতার রূপরেখা। আন্তর্জাতিক রাজনীতির চলমান অস্থিরতার প্রেক্ষিতে এই আলোচনা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। এই টেলিফোনিক আলোচনার কথা সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজের সামাজিক মাধ্যম এক্স (X) -এ লিখেছেন, “আমার বন্ধু প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বললাম। ভারত-ইসরায়েল কৌশলগত অংশীদারত্বে যে উন্নতি হয়েছে, তা পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতে এই সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি।” মোদীর এই পোস্টই ইঙ্গিত দেয় যে দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, কৃষি, সাইবার নিরাপত্তা এবং নবায়নযোগ্য শক্তি ইত্যাদি ক্ষেত্রের সহযোগিতা আগামী দিনে আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কথায়, ভারত এবং ইসরায়েল সন্ত্রাসবাদ প্রশ্নে একই অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে। তিনি জানান, “সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শূন্য-সহনশীলতার নীতি বজায় রাখতে উভয় দেশের অটল প্রতিশ্রুতি আমরা পুনর্ব্যক্ত করেছি।” আন্তর্জাতিক পরিসরে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী প্রচেষ্টায় ভারত-ইসরায়েল বহুদিন ধরেই কৌশলগত সহযোগিতা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান, সীমান্ত সুরক্ষা প্রযুক্তি এবং সন্ত্রাসবিরোধী প্রশিক্ষণ- দুই দেশের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করেছে।
দুই দেশের আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা এবং চলমান সংঘাত নিয়েও সংক্ষিপ্ত মূল্যায়ন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী মোদীর বক্তব্য, “ভারত এমন সব উদ্যোগকে সমর্থন করে, যা অঞ্চলে ন্যায়সম্মত, স্থায়ী এবং অর্থবহ শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।” মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে নাড়া দিচ্ছে। সেখানে ভারতের অবস্থান বরাবরই শান্তি, স্থিতিশীলতা ও কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে। ফলে মোদীর এই মন্তব্যকে আন্তর্জাতিক মহল গুরুত্ব সহকারে দেখছে। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে বিশেষভাবে আগ্রহী বলে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে জানিয়েছেন। ইসরায়েলের দৃষ্টিকোণ থেকে ভারত শুধু বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশই নয়, তা একটি সম্ভাবনাময় কৌশলগত বাজার। ফলে প্রতিরক্ষা সামগ্রী সরবরাহ, গোয়েন্দা সহযোগিতা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের মতো ক্ষেত্রে দুই দেশ দীর্ঘদিন ধরে দৃঢ় বন্ধুত্ব বজায় রেখে চলেছে। এছাড়া ইসরায়েলের উন্নত কৃষি-প্রযুক্তি ভারতের কৃষিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ড্রিপ ইরিগেশন থেকে আধুনিক কৃষি গবেষণা- ইসরায়েলের সহায়তা ভারতের কৃষিক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এমন এক সময়ে মোদী-নেতানিয়াহু আলাপ হচ্ছে যখন পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেক্ষেত্রে দুই শক্তিশালী গণতান্ত্রিক দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কই দৃঢ় করবে না তা বিশ্ব রাজনীতিতেও ইতিবাচক বার্তা দেবে। এই প্রেক্ষাপটে উভয় দেশের সন্ত্রাসবাদবিরোধী অবস্থান এবং শান্তিরক্ষার প্রতিশ্রুতি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভারত বর্তমানে ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর নেতৃত্বে যে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করছে, সেখানে ইসরায়েলও ভারতের এক গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী। প্রযুক্তি নির্ভর আধুনিক কূটনীতি, প্রতিরক্ষা ও উন্নয়নমুখী সম্পর্কই দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্বকে আরও সুসংহত করছে। এদিন প্রধানমন্ত্রীর পোস্ট প্রকাশিত হতেই দেশ-বিদেশে তা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে। ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন মহল ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানায়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বিশেষজ্ঞরা জানান, আগামী দিনে ভারত-ইসরায়েল সম্পর্ক আরও বহুমুখী হবে বলেই প্রত্যাশা।
উল্লেখ্য, দেশের নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবিরোধী নীতি এবং বৈদেশিক কূটনীতিতে ভারত যে শক্ত অবস্থান বজায় রাখছে, মোদী-নেতানিয়াহুর এই আলোচনা সেই অবস্থানকেই আরও দৃঢ়ভাবে তুলে ধরে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : UNESCO Intangible Cultural Heritage | লালকেল্লায় ইউনেস্কো সম্মেলন শুরু, বিশ্ব সংস্কৃতি রক্ষায় ‘অগাধ আনন্দ’ : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী




