One Country One Time India, IST Mandatory From 2027 | ‘এক দেশ, এক সময়’! ২০২৭ থেকে বদলে যাচ্ছে সময়ের নিয়ম, সর্বত্র বাধ্যতামূলক হবে IST

SHARE:

বিনীত শর্মা, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: দেশের প্রতিটি প্রান্তে সময়ের হিসাব এক রাখতে বড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় সরকার। ‘ওয়ান কান্ট্রি, ওয়ান টাইম’ (One Country one Time India) বা ‘এক দেশ, এক সময়’ নীতির দিকে এগোচ্ছে ভারত। কেন্দ্রের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আগামী ২০২৭ সালের মার্চ মাস থেকে আইনি, প্রশাসনিক, বাণিজ্যিক ও অধিকাংশ ডিজিটাল কাজকর্মে ভারতীয় মানক সময় বা ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ড টাইম (IST) ব্যবহার বাধ্যতামূলক হতে চলেছে। ফলে সরকারি দফতর থেকে শুরু করে আর্থিক লেনদেন, বাণিজ্যিক চুক্তি, ডিজিটাল পরিষেবা, বিভিন্ন ক্ষেত্রে সময় নির্ধারণের জন্য একই জাতীয় সময় অনুসরণ করতে হবে।

এক দেশ, এক সময়’! ২০২৭ থেকে বদলে যাচ্ছে সময়ের নিয়ম, IST সর্বত্র বাধ্যতামূলক হবে! ছবি : প্রতীকী

Also Read : PM Narendra Modi on foreign travel | বিদেশ ভ্রমণ থেকে সোনা কেনা অভ্যাস বদলের ডাক নরেন্দ্র মোদীর, দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে দেশেই খরচের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

কেন্দ্রীয় সরকার সম্প্রতি ‘লিগ্যাল মেট্রোলজি (ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ড টাইম) রুলস, ২০২৬’ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। নতুন বিধি অনুযায়ী, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলিকে নিজেদের পরিকাঠামো এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাকে ভারতীয় মানক সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য করার জন্য ১৮০ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার পরই নতুন নিয়ম কার্যকর হবে। ফলে ২০২৭ সালের মার্চ নাগাদ দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থায় একই সময় ব্যবহারের নতুন কাঠামো চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নতুন নিয়মের ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সময় ব্যবহারের ক্ষেত্রে সমন্বয় আরও বাড়বে। বিশেষ করে সরকারি নথি, প্রশাসনিক কাজ, আইনি প্রক্রিয়া, বাণিজ্যিক চুক্তি ও আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে আইএসটিকে প্রধান সময় হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। কোনও প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সময় ব্যবস্থা বা অন্য কোনও সময়ের উৎস ব্যবহার করে অফিসিয়াল কাজ পরিচালনার সুযোগ সীমিত করা হবে। নিয়ম লঙ্ঘন করলে লিগ্যাল মেট্রোলজি অ্যাক্ট অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে।

তথাপি নতুন বিধিতে সব ধরনের বিকল্প সময় ব্যবস্থাকে নিষিদ্ধ করা হয়নি। কোনও নথি বা কাজে বিদেশি সময় অঞ্চল আলাদা করে উল্লেখ করার প্রয়োজন থাকলে সেটি ব্যবহার করা যেতে পারে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বৈদেশিক যোগাযোগ কিংবা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের সময় অঞ্চল উল্লেখ করার সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক গবেষণা, নেভিগেশন, জ্যোতির্বিদ্যা ও কিছু নির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে অনুমোদিত বিকল্প সময় ব্যবহারের সুযোগও রাখা হয়েছে। কেন্দ্রের এই উদ্যোগের অন্যতম কারণ হল দ্রুত বদলে যাওয়া ডিজিটাল পরিকাঠামো। বর্তমান সময়ে দেশের অর্থনীতি এবং দৈনন্দিন পরিষেবার একটা বড় অংশ নির্ভর করছে অত্যন্ত নির্ভুল সময় নির্ধারণের উপরে। কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানও যেখানে গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে ব্যাঙ্কিং, ডিজিটাল পেমেন্ট, শেয়ার বাজার, টেলিকম পরিষেবা, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও পরিবহণ ব্যবস্থায় একই সময় অনুসরণ করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন : Ananya Panday sleep 12 hours, benefits of sleep health | ১২ ঘণ্টা ঘুম না হলে চলেই না! অনন্যা পাণ্ডের দাবি ঘিরে চর্চা, অতিরিক্ত নিদ্রা শরীরে কী প্রভাব ফেলে

ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় প্রতিটি লেনদেনের সঙ্গে সময়ের একটি নির্দিষ্ট রেকর্ড বা টাইমস্ট্যাম্প যুক্ত থাকে। একই ভাবে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় টাকা স্থানান্তর, লেনদেন যাচাই, নিরাপত্তা পরীক্ষা ও সার্ভারের মধ্যে তথ্য আদানপ্রদানের ক্ষেত্রে সময়ের নির্ভুলতা গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন সিস্টেমে সময়ের সামান্য অমিল থাকলে কোনও লেনদেন কখন হয়েছে, কোন নির্দেশ আগে দেওয়া হয়েছিল বা কোন সার্ভারে আগে তথ্য পৌঁছেছিল তা নিয়ে সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই একক সময়ব্যবস্থা ডিজিটাল আর্থিক পরিকাঠামোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে কেন্দ্র।

শেয়ার বাজারের ক্ষেত্রেও সময়ের নির্ভুলতার গুরুত্ব রয়েছে। শেয়ার কেনাবেচার ক্ষেত্রে লেনদেনের মুহূর্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনও অর্ডার কখন দেওয়া হয়েছে, কখন তা কার্যকর হয়েছে ও কোনওক্রমে একাধিক নির্দেশ এসেছে, তার হিসাব রাখতে সুনির্দিষ্ট সময় দরকার। জাতীয় স্তরে একক সময় ব্যবহারের ফলে বিভিন্ন সংস্থার সময় নির্ধারণের পদ্ধতির মধ্যে সামঞ্জস্য বাড়তে পারে। টেলিকম ও ইন্টারনেট পরিষেবাতেও সময়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। মোবাইল নেটওয়ার্ক, ৫জি পরিষেবা, ডেটা সেন্টার আর বিভিন্ন সার্ভারের মধ্যে তথ্য আদানপ্রদানের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সূক্ষ্ম সময় সমন্বয় প্রয়োজন। নেটওয়ার্কের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ যদি আলাদা সময় অনুসরণ করে, তা হলে তথ্য বিনিময় এবং পরিষেবা পরিচালনার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হতে পারে। জাতীয় পর্যায়ে IST-কে নির্দিষ্ট সময় হিসেবে ব্যবহার করলে এই সমন্বয় আরও সহজ করার লক্ষ্য রয়েছে কেন্দ্রের।

আরও পড়ুন : Best Perfume Spots on Body | সারাদিন ঘ্রাণে মাত করবেন? শরীরের এই ৭ জায়গায় পারফিউম স্প্রে করলেই মিলবে ম্যাজিক!

Also Read : Kerala High Court POCSO Verdict, Child Sexual Abuse Case Kerala | শিশুর যৌনাঙ্গে চুম্বনও POCSO-তে পেনিট্রেটিভ অপরাধ! ৬১ বছরের ব্যক্তির ২০ বছরের সাজা বহাল কেরল হাইকোর্টে

রেল পরিষেবাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। ট্রেনের সময়সূচী, সিগন্যাল ব্যবস্থা, স্টেশন পরিচালনা আর বিভিন্ন রেলপথের মধ্যে সমন্বয়ের জন্য সময়ের নির্ভুলতা জরুরি। একইভাবে বিমান পরিষেবায় উড়ানের সময়, বিমানবন্দর পরিচালনা, যাত্রী ওঠানামা আর বিভিন্ন পরিষেবার মধ্যে সমন্বয় রাখতে নির্দিষ্ট সময়ের প্রয়োজন হয়। দেশে সর্বত্র একই জাতীয় সময় ব্যবহারের ফলে এই ব্যবস্থাগুলির মধ্যে সময়জনিত বিভ্রান্তি কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে। আবার, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাতেও নির্ভুল সময়ের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের বিভিন্ন অংশের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সরবরাহ এবং ব্যবহারের ভারসাম্য বজায় রাখতে নির্দিষ্ট সময়ের হিসাব গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে একাধিক রাজ্যের বিদ্যুৎ পরিকাঠামো যখন একই গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত, তখন সময়ের সমন্বয় বজায় রাখা প্রয়োজন। একই ভাবে ডেটা সেন্টার এবং বড় প্রযুক্তি সংস্থার পরিকাঠামোতেও সময়ের সামঞ্জস্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভারতের ভারতীয় মানক সময় বা আইএসটির মূল সময় নির্ধারণের দায়িত্ব রয়েছে কাউন্সিল অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চের অধীন ন্যাশনাল ফিজ়িক্যাল ল্যাবরেটরি বা সিএসআইআর-এনপিএলের (CSIR-NPL) হাতে। দেশের জাতীয় সময়ের প্রাথমিক মান বজায় রাখে এই প্রতিষ্ঠান। সেখান থেকে বিভিন্ন অনুমোদিত প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার মাধ্যমে সময়ের সংকেত দেশের নানা প্রান্তে পৌঁছে দেওয়া হয়।

ইসরোর (ISRO) নাভিক (NavIC) ব্যবস্থাও ভারতের নিজস্ব উপগ্রহভিত্তিক নেভিগেশন পরিকাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পাশাপাশি অনুমোদিত অন্যান্য উৎস ও আঞ্চলিক পরীক্ষাগারের মাধ্যমে জাতীয় সময়ের প্রসার ঘটানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো একই সময়ের সঙ্গে নিজেদের ব্যবস্থা মিলিয়ে নিতে পারবে। উল্লেখ্য যে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশি (Pralhad Joshi) এই উদ্যোগের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ডিজিটাল পেমেন্ট থেকে রেল পরিষেবা ইত্যাদি সমস্ত ক্ষেত্রেই নির্ভুল সময়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় হল, দেশের অর্থনীতি ও পরিষেবা ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে সময় এখন প্রযুক্তিগত পরিকাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই জাতীয় স্তরে একক সময় অনুসরণ করলে বিভিন্ন ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়তে পারে।

Also Read : Elon Musk children, Elon Musk family | ১৪ সন্তানের বিশাল পরিবার! প্রযুক্তি সাম্রাজ্যের মাঝেই ব্যতিক্রমী ব্যক্তিগত জীবন: ইলন মাস্কের সন্তান ও সম্পর্কের বিস্ময়কর গল্প

নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগে ১৮০ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলিকে। এই সময়ের মধ্যে সফটওয়্যার, সার্ভার, ঘড়ি, নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা ও সময় নির্ধারণের প্রযুক্তিকে আইএসটির সঙ্গে সামঞ্জস্য করার সুযোগ থাকবে। বড় সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলির পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল পরিকাঠামোর ক্ষেত্রেও এই পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। ‘এক দেশ, এক সময়’ নীতি বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও কিছু পরিবর্তন চোখে পড়তে পারে। সরকারি নথিতে সময়ের উল্লেখ, অনলাইন পরিষেবার সময়, আর্থিক লেনদেনের রেকর্ড কিংবা বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত সময় একই জাতীয় মান অনুসরণ করবে। ফলে দেশের এক প্রান্তের কোনও সংস্থা ও অন্য প্রান্তের সংস্থার সময়ের হিসাবের মধ্যে বিভ্রান্তির সুযোগ কমবে। প্রসঙ্গত যে, আন্তর্জাতিক কাজকর্মের ক্ষেত্রে বিদেশি সময় ব্যবহারের প্রয়োজন থাকতেই পারে। সেই কারণে নতুন নিয়মে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অন্য সময় অঞ্চল উল্লেখের সুযোগ রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, ভারতের জাতীয় সময়কে সাধারণ অফিসিয়াল কাজের প্রধান মান করা হলেও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, বৈজ্ঞানিক গবেষণা বা নেভিগেশনের মতো বিশেষ প্রয়োজনের ক্ষেত্রে আলাদা সময় ব্যবহারের রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ২০২৭ সালের মার্চ নাগাদ নতুন ব্যবস্থাটি কার্যকর হলে ভারতের সরকারি আর প্রযুক্তিগত পরিকাঠামোয় সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে একটি অভিন্ন কাঠামো তৈরি হবে। ১৮০ দিনের প্রস্তুতিপর্ব শেষ হওয়ার পরে আইএসটি ব্যবহার না করলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হতে পারে। ফলে আগামী কয়েক মাসে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা বদলের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে হবে। ভারতের মতো বিশাল দেশে বিভিন্ন অঞ্চলে সময়ের হিসাব একই রাখার বিষয়টি কিন্তু নতুন নয়। কিন্তু ডিজিটাল অর্থনীতি যত দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে, ততই নির্ভুল সময়ের গুরুত্ব বাড়ছে। সেই প্রয়োজন থেকেই কেন্দ্রীয় সরকারের এই উদ্যোগ। ২০২৭ সাল থেকে দেশের অধিকাংশ আইনি, প্রশাসনিক, বাণিজ্যিক এবং ডিজিটাল ব্যবস্থায় ভারতীয় মানক সময়কে বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে ‘এক দেশ, এক সময়’ নীতি বাস্তব ব্যবস্থায় নতুন একটি পর্ব তৈরি করতে পারে।

ছবি : প্রতীকী ও সংগৃহীত। 
আরও পড়ুন : Sexual wellness and relationships | শরীর যখন নিভে যায়! যৌনতায় ‘লোডশেডিং’ হলে কীভাবে সাড়া দেবে মন ও দেহ? কীভাবে আলো জ্বালবেন? জানালেন বিশেষজ্ঞরা

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন