Nirmala Sitharaman, Indian economy outlook | বিশ্ব অর্থনীতির টানাপড়েনেও ভারতের গতি বাড়ছে, ২০২৬-২৭ সালে জিডিপি বৃদ্ধির হার আরও ঊর্ধ্বমুখী: নির্মলা সীতারামন

SHARE:

লোকসভায় অর্থনৈতিক সমীক্ষা পেশ করে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ জানালেন, আগামী অর্থবর্ষে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার ৬.৮-৭.২ শতাংশ হতে পারে।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : বিশ্ব রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অনিশ্চয়তার মধ্যেও ভারতের অর্থনীতি যে ধীরে ধীরে আরও শক্ত ভিতের উপর দাঁড়াচ্ছে, তারই ইঙ্গিত মিলল চলতি বছরের অর্থনৈতিক সমীক্ষায়। বৃহস্পতিবার লোকসভায় ‘অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫-২৬’ পেশ করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ (Nirmala Sitharaman)। সমীক্ষার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ভারতে জিডিপি বৃদ্ধির হার চলতি অর্থবর্ষের তুলনায় আরও বাড়তে পারে। কেন্দ্রের এই রিপোর্টে বলা হয়েছে, আগামী অর্থবর্ষে দেশের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের বৃদ্ধির হার ৬.৮ শতাংশ থেকে ৭.২ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে।

আরও পড়ুন : Narendra Modi statement, Nitin Naveen BJP chief | ‘আমি প্রধানমন্ত্রী হতে পারি, কিন্তু বিজেপিতে আমি একজন কার্যকর্তা, নিতিন নবীনই আমার বস’ : দলের সভাপতির শপথ মঞ্চে সংগঠনের দর্শন স্পষ্ট করলেন মোদী

অর্থনৈতিক সমীক্ষায় তুলে ধরা হয়েছে যে, গত বছরের তুলনায় ভারতের বৃদ্ধির গতি পরিষ্কারভাবেই উন্নত হচ্ছে। উল্লেখযোগ্য ভাবে, আগের অর্থনৈতিক সমীক্ষায় ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের জন্য জিডিপি বৃদ্ধির হার ৬.৩ শতাংশ থেকে ৬.৮ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। সেই তুলনায় নতুন সমীক্ষায় আরও আশাবাদী ছবি ধরা পড়েছে। সরকারের দাবি, বিশ্ববাজারে অস্থিরতা, ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে চাপ সত্ত্বেও ভারতের অর্থনীতি তুলনামূলক ভাবে স্থিতিশীল থাকতে পেরেছে। সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক স্তরে একাধিক নেতিবাচক ঘটনা বাণিজ্যের উপর প্রভাব ফেললেও ভারতের অভ্যন্তরীণ চাহিদা, পরিকাঠামো বিনিয়োগ এবং পরিষেবা ক্ষেত্রের বিস্তার অর্থনীতিকে সচল রেখেছে। তবে একই সঙ্গে সতর্কবার্তাও দিয়েছে কেন্দ্র। অর্থনৈতিক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে পারিপার্শ্বিক ঝুঁকি এড়াতে হলে গঠনমূলক সংস্কার অব্যাহত রাখা অত্যন্ত জরুরি। শ্রমবাজার, শিল্পনীতি এবং আর্থিক ক্ষেত্রের সংস্কার আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (Artificial Intelligence) প্রসঙ্গ। সমীক্ষার বক্তব্য, প্রযুক্তির দ্রুত প্রসার যেমন উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারে, তেমনই যদি প্রত্যাশামতো কর্মসংস্থান ও দক্ষতার উন্নয়ন না ঘটে, তা হলে ভবিষ্যতে অর্থনীতির উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, এআই ব্যবহারের ফলে কিছু ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান সংকোচনের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। সেই কারণেই মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এই অর্থনৈতিক সমীক্ষা এমন এক সময়ে প্রকাশিত হল, যখন আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের উপর বাণিজ্যিক চাপ বেড়েছে। সম্প্রতি রাশিয়া থেকে তেল আমদানি অব্যাহত রাখার কারণে ভারতের উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে আমেরিকা। এর ফলে ভারতীয় পণ্যের উপর মোট শুল্কের হার দাঁড়িয়েছে ৫০ শতাংশে। এই সিদ্ধান্তের পরই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সমীক্ষা সংস্থা আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল যে, ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির গতি ধীর হতে পারে। তবে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের সমীক্ষা সেই আশঙ্কা অনেকটাই খারিজ করেছে।

অর্থনৈতিক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, গঠনমূলক সংস্কার এবং শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ বাজারের কারণে ভারত এই ধরনের পারিপার্শ্বিক ঝুঁকি অনেকটাই সামলে নিতে পেরেছে। পরিষেবা ক্ষেত্রের রফতানি, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং পরিকাঠামো নির্মাণে সরকারি বিনিয়োগ অর্থনীতির চাকা ঘোরাতে সাহায্য করেছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।মুদ্রাস্ফীতি নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে এই সমীক্ষায়। রিপোর্ট অনুযায়ী, আগামী অর্থবর্ষে ভারতে মূল্যবৃদ্ধি ধাপে ধাপে বাড়তে পারে। তবে তা রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া -এর (Reserve Bank of India) নির্ধারিত সহনীয় সীমার মধ্যেই থাকবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। অর্থনৈতিক সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের তুলনায় টাকার মূল্য কিছুটা কমলেও, সরকার অশোধিত তেল এবং খাদ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম স্থিতিশীল থাকায় ভারতের আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। একই সঙ্গে খাদ্যশস্য উৎপাদন এবং সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতির ফলে খাদ্যপণ্যের দামও তুলনামূলক ভাবে নাগালে রাখা সম্ভব হয়েছে। এই দুই দিক মিলিয়েই মুদ্রাস্ফীতির চাপ সীমার মধ্যে রাখার ক্ষেত্রে সরকার কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে। উল্লেখ্য, লোকসভায় অর্থনৈতিক সমীক্ষা পেশ করার সময় নির্মলা সীতারমণ জানান, ‘বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তার মধ্যেও ভারতের প্রবৃদ্ধি একটি ইতিবাচক দিশা দেখাচ্ছে।’ যদিও তিনি স্বীকার করেছেন, আগামী দিনে চ্যালেঞ্জ থাকবে। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সংস্কার, বিনিয়োগ এবং নীতিগত স্থিরতা বজায় রাখাই সরকারের মূল লক্ষ্য। তবে, অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫-২৬ দেশের অর্থনীতির জন্য এক মিশ্র কিন্তু আশাবাদী ছবি তুলে ধরেছে। আন্তর্জাতিক চাপ, বাণিজ্যিক শুল্ক এবং প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের মতো ঝুঁকি থাকলেও, শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও সংস্কারের পথে এগিয়ে চলাই ভারতের অর্থনীতির মূল শক্তি বলে মনে করছে কেন্দ্র। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে জিডিপি বৃদ্ধির হার বাড়ার এই পূর্বাভাস তাই দেশের আর্থিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আশা দেখাচ্ছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Union Budget 2026-27, Nirmala Sitharaman Budget | রবিবারেই বাজেটের অঙ্ককষা: আড়াই দশক পর সংসদের ইতিহাসে ব্যতিক্রমী ১ ফেব্রুয়ারি

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন