Nirmala Sitharaman GST Speech | পুজোর আগে বাংলার জন্য জিএসটি সংস্কারের বড় ঘোষণা, নির্মলা সীতারমণ জানালেন লাভের খতিয়ান

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : কলকাতায় দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ (Nirmala Sitharaman) বৃহস্পতিবার জানালেন, স্বাধীন ভারতে এই প্রথমবার এমন একটি কর সংস্কার হতে চলেছে যা একযোগে ১৪০ কোটিরও বেশি ভারতবাসীকে স্পর্শ করবে। তাঁর দাবি, জিএসটি সংস্কার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) সরকারের একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ, যা কেবল ধনী বা কর্পোরেট শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, তা সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে এর সুবিধা দেবে।

জাতীয় গ্রন্থাগারের শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ভাষা ভবনে শিল্প ও বণিক মহলের সঙ্গে বৈঠকে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন বলেন, ‘‘পূর্ববর্তী কর কাঠামো কেবলমাত্র একটি সীমিত অংশকে সুবিধা দিত। আয়কর ছাড় শুধু সেই সব মানুষ পেতেন, যাঁরা করযোগ্য আয়ের মধ্যে আসতেন। কর্পোরেট কর বা মূলধনী লাভের করছাড়ও নির্দিষ্ট শ্রেণির জন্য ছিল। কিন্তু জিএসটি (GST) প্রত্যেক মানুষই দেন ধনী, গরিব, শহরের মানুষ কিংবা গ্রামবাসী। তাই এই সংস্কারের সুবিধা সর্বস্তরের কাছে পৌঁছবে।’’ উল্লেখ্য, অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে এ দিন বিশেষভাবে উঠে এসেছে বাংলার কথাও। মহালয়ার ঠিক পরের দিন, আগামী ২২ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হচ্ছে জিএসটি-র নতুন কাঠামো। সেই প্রসঙ্গে নির্মলা বলেন, ‘‘অনেকে বলছেন এটি দীপাবলির উপহার, কিন্তু আমি বলব এটি পুজোর কথাও মাথায় রেখে করা হয়েছে। আপনারা যখন উৎসব শুরু করবেন, তখনই চালু হচ্ছে জিএসটি ছাড়।’’

বাংলার শিল্প ও কৃষিজ পণ্যকে বিশেষভাবে উৎসাহিত করার বার্তাও দিয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। নতুন কর কাঠামোয় শান্তিনিকেতনের হস্তশিল্প, বাঁকুড়ার পাঁচমুড়া টেরাকোটা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরের মাদুর, বীরভূম ও মুর্শিদাবাদের নকশি কাঁথা, পুরুলিয়ার ছৌ মুখোশ, দক্ষিণ দিনাজপুরের কাঠের মুখোশ, শোলার হস্তশিল্প, মালদা ও মুর্শিদাবাদের আম, দার্জিলিঙের চা এবং হাওড়া-হুগলি-উত্তর ২৪ পরগনার পাটশিল্পের মতো পণ্যে জিএসটি ছাড়ের সুবিধা মিলবে। তাঁর দাবি, এর ফলে রাজ্যের স্থানীয় শিল্পীরা নতুন বাজার তৈরি করতে পারবেন এবং বাংলার অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

প্রসঙ্গত, চলতি মাসের গোড়াতেই জিএসটি পরিষদ সিদ্ধান্ত নেয় যে জিএসটি ২.০ সংস্কারে মূলত দুটি করের হার থাকবে ৫ শতাংশ এবং ১৮ শতাংশ। বর্তমানে প্রচলিত ১২ শতাংশ ও ২৮ শতাংশ হার তুলে দেওয়া হবে। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় বহু পণ্যের উপর থেকে করের চাপ অনেকটাই কমে আসবে। বহু ক্ষেত্রে করের হার ১২ বা ১৮ শতাংশ থেকে নেমে আসবে ৫ শতাংশে কিংবা শূন্যে। তবে সিগারেট, তামাকজাত দ্রব্য ও বিলাসবহুল পণ্যকে আলাদা করে ৪০ শতাংশ স্ল্যাবে রাখা হয়েছে। নির্মলার মতে, এই নতুন কাঠামো করদানের প্রক্রিয়াকে আরও সরল করবে ও সাধারণ মানুষের জন্য তা সহজবোধ্য হয়ে উঠবে। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইউপিএ (UPA) সরকারের তুলনায় মোদীর আমলে কর হস্তান্তর ও কেন্দ্রীয় অনুদানের ক্ষেত্রে বাংলা বহুগুণ বেশি অর্থ পাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘শুধু রাজনৈতিক কারণে নয়, অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্যও বাংলা অনেক বেশি সমর্থন পাচ্ছে কেন্দ্র থেকে। এই পরিসংখ্যানই তার প্রমাণ।’’ অর্থমন্ত্রী এদিন পরিসংখ্যান দেখিয়ে বোঝান, আগের তুলনায় রাজ্যে জিএসটির মাধ্যমে প্রাপ্ত রাজস্ব এবং কেন্দ্রীয় অনুদান উভয় ক্ষেত্রেই বৃদ্ধি ঘটেছে। তাঁর মতে, এই ধরনের সংস্কার কেবল অর্থনৈতিক কাঠামোকে শক্তিশালী করছে না, বরং আঞ্চলিক শিল্পকে বিশ্ববাজারে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই সংস্কারের ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমে গেলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ অনেকটাই কমবে। একইসঙ্গে বাংলার ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প ও কৃষিজ পণ্য করছাড়ের সুবিধা পেয়ে দেশ-বিদেশে আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারে। উৎসবের আগে এই ঘোষণাকে তাঁরা এক ধরনের ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন। অন্যদিকে, পুজোর আগেই কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্ত বাংলার বাজারে এক নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। শারদোৎসবের আমেজে বাংলার শিল্প, কৃষি ও বাজার চাঙ্গা হওয়ার ইঙ্গিত যেন স্পষ্ট করেই দিলেন নির্মলা সীতারমণ।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : GST 2.0, GST 3.0, Nirmala Sitharaman, GST Reform | জিএসটি ২.০ শুরু হতে না হতেই জিএসটি ৩.০-র প্রস্তুতি! কী বার্তা দিলেন নির্মলা সীতারামন?

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন