সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতিতে ভোটের আগের চাপানউতোর একবারেই নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ) নেতা নওশাদ সিদ্দিকী (Naushad Siddiqui) সম্প্রতি বামফ্রন্টের সঙ্গে সম্ভাব্য জোট নিয়ে খোলসা করেছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন, আসন বণ্টন এবং জোটগঠনকে কেন্দ্র করে আইএসএফ এবার কোন কোন জায়গায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে তা বুথ স্তরে সংগঠন অনুযায়ী ঠিক করা হবে। নওশাদ বলেন, “ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়ার হাওয়ায় আসন ডিমান্ড করা যাবে না। আমরা যেখানে বুথ স্তরে শক্ত সংগঠন তৈরি করতে পেরেছি, সেখানেই আমাদের লড়াই হবে। মুর্শিদাবাদ, মালদহ, দিনাজপুরে আমাদের সংগঠন সম্প্রতি ব্যাপক হারে তৈরি হচ্ছে, আর হাওড়া তো আছেই। কলকাতায় এক থেকে দু’টি জায়গায় আমরা বুথ স্তরে সংগঠন তৈরি করতে পেরেছি।”
নওশাদ আরও উল্লেখ করেন, আইএসএফের লক্ষ্য স্পষ্ট। তিনি বলেন, “আমরা চাই বিজেপি-তৃণমূলের বাইরে যত সেক্যুলার দল আছে তারা সকলে একসাথে আসুক। একজোট হয়ে আমরা রাজ্যে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারি এবং এই দুই দলের বিরুদ্ধ লড়াইকে সমর্থন দিতে পারি।”
শুধু তা-ই নয়, নওশাদের মন্তব্যে কটাক্ষও দেখা গিয়েছে। তিনি বলেন, “গতবার কংগ্রেস আমাদের অচ্ছুৎ মনে করেছিল, আশা করি এবার এমন কিছু হবে না। যারা ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতি প্র্যাকটিস করে, আমরা তাদের সবাইকে স্বাগত জানাই, কংগ্রেসও এর বাইরে নয়।” এদিকে, তিনি রাহুল গান্ধীকেও (Rahul Gandhi) রাজ্য সমীকরণে দায়িত্ব মনে করিয়ে দিয়েছেন। “রাহুল গান্ধী রাজ্যে এসে তৃণমূলের আমলে যে ভোট চুরির ঘটনা ঘটছে, তা এক্সপোজ করুন। কেন্দ্রের ভোট চোর, রাজ্যের ভোট চোর, এই বিষয়গুলো উন্মোচন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ,” নওশাদ বলেন।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, বামফ্রন্টের শিবিরে অবশ্য এখনও আসন বণ্টন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। সিপিএমের (CPM) সূত্রের খবর, তারা নিজেদের শরিকদের সঙ্গে সমঝোতা করতে ব্যস্ত। এই পরিস্থিতিতে নওশাদ স্পষ্ট করে দিয়েছেন, আইএসএফ কেবল কার্যকরী মাঠ সংগঠন অনুযায়ী ভোট লড়বে, যেখানে তারা বাস্তব সক্ষমতা দেখাতে পারবে। রাজনীতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, “আইএসএফের এই পদক্ষেপ রাজ্যের নির্বাচনী মানচিত্রে নতুন চাঞ্চল্য সৃষ্টি করতে পারে। বুথ স্তরে সংগঠন তৈরি করে আসন চাওয়ার রীতিকে তারা অত্যন্ত কার্যকর বলে মনে করছে। এই দিক থেকে তারা এবার কংগ্রেস ও অন্যান্য ধর্মনিরপেক্ষ দলের সঙ্গে সমঝোতার পথ খুঁজছে।”
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, লোকসভা নির্বাচনের পর বামফ্রন্ট, কংগ্রেস ও আইএসএফ-এর মধ্যে সম্পর্ক যথেষ্ট জটিল হয়ে উঠেছে। নওশাদ নিজেও স্বীকার করেছেন, “লোকসভা নির্বাচনে আমাদের বনিবনা হয়নি। কংগ্রেস আমাদের সঙ্গে আসতে চায়নি। কিন্তু সময় বদলেছে। এখন যারা সেক্যুলার রাজনীতি মানে, তাদের সবাইকে আমরা স্বাগত জানাই।” প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আইএসএফের নেতা নওশাদ এই জোট কৌশলের মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছেন যে, তারা কোনো নির্বাচনী লড়াই হাওয়ায় বা সোশ্যাল মিডিয়ায় নয়, বাস্তব রাজনৈতিক ময়দানে সংগঠন ও ক্ষমতা দেখাতে বিশ্বাসী। কলকাতার এক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মন্তব্য করেছেন, “নওশাদের এই কৌশল বুথ ভিত্তিক রাজনীতিকে শক্তিশালী করতে পারে। মুর্শিদাবাদ, মালদহ, দিনাজপুর এবং হাওড়া এই জায়গায় আইএসএফের প্রভাব বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”
রাজ্য রাজনীতির পর্যালোচনায় দেখা যায়, আইএসএফ-এর এই নতুন কৌশল শুধু আসন চাওয়ার ব্যাপার নয়, তা ভোট ব্যবস্থাপনায় আরও স্বচ্ছতা আনার প্রচেষ্টা। বুথ স্তরে সংগঠন তৈরির মাধ্যমে দলটি নিশ্চিত করতে চাচ্ছে যে, ভোটের দিন তারা কার্যকরভাবে নিজেদের শক্তি প্রয়োগ করতে পারবে। রাজ্য রাজনৈতিক মহলে এই নতুন পরিস্থিতি নিয়ে বেশ উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে। ভোটের আগের এই চাপানউতোর ও আসন বিতরণকে ঘিরে ভবিষ্যতে আরও কৌশলগত রাজনৈতিক আলোচনা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ছবি : সংগৃহীত



