সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : উৎসবের মরসুমে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জন্য বড়সড় সুখবর দিল নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) সরকার। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা এবার আরও তিন শতাংশ মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) বৃদ্ধির অনুমোদন দিল। বুধবার এই ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব (Ashwini Vaishnaw)। এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের প্রায় ১.২ কোটি সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগী সরাসরি সুবিধা পাবেন। চলতি বছরের শুরুতেই কেন্দ্র দুই শতাংশ ডিএ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যা মার্চ মাস থেকে কার্যকর হয়। তার পরেই ফের ডিএ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, জুলাই মাস থেকে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা হালনাগাদ হারে ডিএ পাবেন। ফলে তাঁদের মহার্ঘ ভাতা এখন ৫৫ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়াল ৫৮ শতাংশে।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বছরে দু’বার ডিএ বাড়ে, জানুয়ারি ও জুলাই মাসে। তাই জুলাই মাস থেকে কার্যকর হলেও, সরকারি কর্মীরা অক্টোবর মাসের বেতনের সঙ্গে একসঙ্গে গত তিন মাসের বকেয়া ডিএ পেয়ে যাবেন। একই সুবিধা পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। উল্লেখ্য, ডিএ বৃদ্ধির পদ্ধতি আসলে ভোক্তা মূল্য সূচক (Consumer Price Index – CPI) -এর উপর নির্ভর করে। দামের ওঠানামা ও মূল্যস্ফীতি বিবেচনা করে এই ভাতা নির্ধারণ করা হয়। সপ্তম বেতন কমিশনের (7th Pay Commission) আওতায় এই বৃদ্ধির অনুমোদন মিলেছে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরুতেই অষ্টম বেতন কমিশনের ঘোষণা করেছিল কেন্দ্র, তবে তা কার্যকর হয়নি। ডিসেম্বর মাসে সপ্তম বেতন কমিশনের মেয়াদ শেষ হবে। অর্থাৎ, এই ডিএ বৃদ্ধি সপ্তম বেতন কমিশনের অধীনে শেষ বৃদ্ধি হিসেবেই ধরা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজ্যের কর্মচারীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রীয় হারে ডিএ না পাওয়ার প্রতিবাদ চলছে। মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। মামলাকারীদের দাবি, তাঁরা কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের তুলনায় বঞ্চিত হচ্ছেন। তবে রাজ্য সরকারের যুক্তি, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩০৯ অনুযায়ী রাজ্যের কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নির্ধারণ করার অধিকার রয়েছে। সেই কারণে কেন্দ্রের ডিএ নীতি অনুসরণ করতে কোনও বাধ্যবাধকতা নেই।
তবুও কেন্দ্রীয় ও রাজ্যের ডিএ হারের পার্থক্য আবারও সামনে এল এই সিদ্ধান্তের ফলে। এ প্রসঙ্গে বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, “রাজ্য সরকারি কর্মীদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ডিএর ফারাক অনেকটাই ছিল। আজ কেন্দ্র তিন শতাংশ ডিএ ঘোষণা করায় সেই ফারাক আরও বেড়ে গেল। বর্তমান রাজ্য সরকার কি কর্মচারীদের প্রতি কোনও দয়া দেখাবে না? আমরা দাবি জানাই, অবিলম্বে বকেয়া ডিএ দেওয়ার ঘোষণা করা হোক।”
উৎসবের সময় এই বাড়তি ডিএ কেন্দ্রীয় কর্মীদের হাতে অতিরিক্ত আর্থিক স্বস্তি আনবে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে বাজার ও ভোগ খরচে। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগকে অর্থনৈতিকভাবে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মূল্যস্ফীতির ধাক্কা সামলাতে এই ডিএ বৃদ্ধি কর্মীদের হাতে বাস্তবিক অর্থে কিছুটা স্বস্তি এনে দেবে।
অন্যদিকে, রাজ্যের কর্মচারীরা আবারও একই প্রশ্ন তুলছেন, কেন তাঁরা কেন্দ্রীয় হারে ডিএ পাচ্ছেন না? যদিও রাজ্য সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তাদের সামর্থ্য অনুযায়ীই ডিএ দেওয়া হয়। কিন্তু কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দেওয়ার প্রশ্নে এখনও অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। ফলে উৎসবের মরসুমে কেন্দ্রীয় কর্মীরা যখন বেতনভোগে বাড়তি অর্থ পাচ্ছেন, রাজ্যের কর্মচারীরা তখনও অপেক্ষা করছেন তাঁদের দাবি বাস্তবায়নের। এভাবে কেন্দ্রের নতুন সিদ্ধান্ত একদিকে যেমন কোটি কর্মী ও পেনশনভোগীর মুখে হাসি ফোটাল, অন্যদিকে আবার রাজ্য বনাম কেন্দ্রীয় ডিএ নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিতর্ক আরও একবার চরমে পৌঁছল।
ছবি: প্রতীকী
আরও পড়ুন : PM Narendra Modi Birthday: ৭৫তম জন্মদিনে মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবার বড় ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর




