সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ মুর্শিদাবাদ: মোবাইলে অনলাইন গেম খেলতে গিয়ে পরিচয়। সেই পরিচয় থেকে ঘনিষ্ঠতা, তার পর প্রেমের সম্পর্কের অভিযোগ। কিন্তু ঘটনা যে এত দূর গড়াবে, তা সম্ভবত ভাবেননি নদিয়ার চাপড়ার একটি পরিবারের সদস্যেরা। একই পরিবারের তিন মহিলাকে আলাদা আলাদা ভাবে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বাড়ি থেকে বার করে আনার অভিযোগ উঠল তিন যুবকের বিরুদ্ধে। সঙ্গে ছিলেন ওই মহিলাদের নাবালক সন্তানরাও। দক্ষিণ ভারতে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেই ছক সফল হয়নি। মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) লালবাগ এলাকা থেকে তিন মহিলা ও তাঁদের সন্তানদের উদ্ধার করেছে পুলিশ। মূল অভিযুক্ত হিসেবে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি দুই যুবকের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার সূত্রপাত নদীয়ার চাপড়ার দুর্গাপুর এলাকায়। সেখানকার ১৯ বছরের একজন যুবকের সঙ্গে মোবাইলে অনলাইন গেম খেলার মাধ্যমে পরিচয় হয় একই এলাকার এক বিবাহিত মহিলার। নিয়মিত গেম খেলার সূত্রে দু’জনের মধ্যে কথাবার্তা বাড়তে থাকে। পরে সেই সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয় বলে অভিযোগ। পরিবারের দাবি, এক সময় ওই যুবকের সঙ্গে মহিলার প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। এরপরই ঘটনার পরিধি বাড়তে শুরু করে।
আরও পড়ুন : Love Affairs : বিয়ের তিন দিনের মাথায় স্বামীকে ছেড়ে প্রেমিকের হাত ধরল নতুন বউ
অভিযোগ, ওই যুবক শুধু ওই মহিলার সঙ্গেই সম্পর্ক তৈরি করেননি। তাঁর দুই বন্ধুও একই পরিবারের আরও দুই মহিলার সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করে তাঁদের প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে ফেলেন বলে অভিযোগ। তিন যুবকের সঙ্গে তিন মহিলার যোগাযোগ তৈরি হওয়ার পরে তাঁদের বাড়ি থেকে বের করে আনার পরিকল্পনা করা হয়। দক্ষিণ ভারতে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলা হয়েছিল। সেই পরিকল্পনাতেই কয়েক দিন আগে তিন মহিলা তাঁদের নাবালক সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে বাড়ি ছাড়েন। পরিবারের সদস্যেরা জানিয়েছেন, বাড়ি থেকে বেরনোর আগে ওই তিন মহিলাকে বলা হয়েছিল, হাওড়া স্টেশনে তাঁদের সঙ্গে দুই যুবকের দেখা হবে। সেখান থেকে ট্রেনে দক্ষিণ ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। সেই মতো তাঁরা সন্তানদের নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন। কিন্তু হাওড়া পৌঁছনোর আগেই পরিকল্পনায় বড়সড় পরিবর্তন ঘটে।
পুলিশ সূত্র মারফৎ খবর, শেষ মুহূর্তে ওই দুই যুবক পরিকল্পনা থেকে সরে যান। ফলে তিন মহিলাকে নিয়ে বিপাকে পড়ে যান ১৯ বছরের মূল অভিযুক্ত যুবক। দক্ষিণ ভারতে যাওয়া তো দূরের কথা, তাঁদের নিয়ে কোথায় যাবেন, তা নিয়েও তিনি সমস্যায় পড়েন। শেষ পর্যন্ত হাওড়ার সাঁতরাগাছি এলাকা থেকে তিন মহিলাকে নিয়ে মুর্শিদাবাদের দিকে ফিরে আসেন ওই যুবক। পরে লালবাগ এলাকায় একটি বাড়িতে তিন মহিলা ও তাঁদের সন্তানদের নিয়ে থাকার ব্যবস্থা করা হয় বলে অভিযোগ। এদিকে তিন মহিলার বাড়ি থেকে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। তাঁদের খোঁজ না মেলায় বিষয়টি নিয়ে চাপড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। পরিবারের তরফে অপহরণের অভিযোগও আনা হয়। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে নামে চাপড়া থানার পুলিশ। মোবাইল ফোনের সূত্র, যোগাযোগের তথ্য ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা মুর্শিদাবাদে পৌঁছন।
তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ লালবাগ এলাকায় তিন মহিলার অবস্থানের কথা জানতে পারে। এরপর সেখানে অভিযান চালিয়ে তাঁদের উদ্ধার করা হয়। তাঁদের সঙ্গে থাকা সন্তানদেরও নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। ঘটনাস্থল থেকে মূল অভিযুক্ত যুবককেও আটক করা হয়। পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বর্তমানে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার আরও তথ্য জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। পুলিশের কাছে এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল, তিন মহিলাকে বাড়ি থেকে বার করার পরিকল্পনা ঠিক কী ভাবে তৈরি হয়েছিল এবং এই পরিকল্পনায় তিন যুবকের ভূমিকা কতটা ছিল। একই পরিবারের তিন মহিলার সঙ্গে তিন যুবকের আলাদা আলাদা ভাবে যোগাযোগ তৈরি হওয়া এবং পরে তাঁদের একসঙ্গে বাড়ি থেকে বার করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তদন্তকারীরা বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছেন। তিন মহিলার সঙ্গে তাঁদের সন্তানরাও বাড়ি ছেড়েছিলেন। ফলে বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হলেও পুলিশ এখন উদ্ধার হওয়া মহিলাদের বক্তব্যও জানার চেষ্টা করছে। তাঁরা স্বেচ্ছায় বাড়ি ছেড়েছিলেন কি না, তাঁদের কোথায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছিল, দক্ষিণ ভারতে যাওয়ার পরিকল্পনার পিছনে কারা ছিলেন আর শেষ পর্যন্ত কী ভাবে তাঁরা মুর্শিদাবাদে পৌঁছলেন, এমন একাধিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ।
অনলাইন গেমকে কেন্দ্র করে অপরিচিত মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি হওয়ার ঘটনা এখন নতুন নয়। গেম খেলার সময় চ্যাট বা ফোনে কথাবার্তার মাধ্যমে অনেকের মধ্যে পরিচয় তৈরি হয়। সেই পরিচয় কখনও বন্ধুত্ব, কখনও ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে পরিণত হয়। চাপড়ার এই ঘটনায় সেই অনলাইন পরিচয় কী ভাবে বাস্তব জীবনের একটি জটিল পরিস্থিতির দিকে গড়াল, তা নিয়েই এখন তদন্ত চলছে। এই ঘটনায় তিন যুবকের ভূমিকা নিয়ে পুলিশের হাতে এখনও সব তথ্য আসেনি বলে উল্লেখ। মূল অভিযুক্ত যুবক গ্রেফতার হলেও তাঁর দুই বন্ধুর এখনও সন্ধান মেলেনি। তাঁদের খোঁজে নদীয়া আর মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তদন্তকারীরা তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগের সূত্র খতিয়ে দেখছেন। মোবাইল ফোনের কল এবং অনলাইন যোগাযোগের তথ্যও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
ঘটনার পর চাপড়ার ওই পরিবারে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। একই পরিবারের তিন মহিলার একসঙ্গে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া এবং পরে তাঁদের মুর্শিদাবাদ থেকে উদ্ধার করার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও নানা প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে সন্তানদের নিয়ে তাঁরা কী ভাবে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলেন, তাঁদের সঙ্গে কারা যোগাযোগ করছিলেন এবং কোথায় যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল, তা নিয়ে তদন্তের পাশাপাশি স্থানীয় স্তরেও আলোচনা চলছে। পুলিশের তরফে উদ্ধার হওয়া তিন মহিলার সঙ্গে কথা বলে তাঁদের বক্তব্য নথিবদ্ধ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তাঁদের সন্তানদেরও পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। একই সঙ্গে গ্রেফতার হওয়া যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করে দক্ষিণ ভারতে যাওয়ার পরিকল্পনার বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা চলছে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পুলিশের হাতে একজন গ্রেফতার হলেও তদন্ত শেষ হয়নি। তিন মহিলাকে বাড়ি থেকে বের করে আনার পিছনে তিন যুবকের সম্মিলিত পরিকল্পনা ছিল কি না, তাঁদের গন্তব্য কোথায় ছিল, দক্ষিণ ভারতে তাঁদের কারও সঙ্গে যোগাযোগ ছিল কি না এবং সাঁতরাগাছি থেকে কেন মুর্শিদাবাদে ফিরে আসতে হল, এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ। বাকি দুই যুবক গ্রেফতার হলে ঘটনার আরও তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
অনলাইন গেমের পরিচয় থেকে শুরু হওয়া এই ঘটনা শেষ পর্যন্ত অপহরণের অভিযোগ ও পুলিশি অভিযানে এসে দাঁড়িয়েছে। তিন মহিলা ও তাঁদের সন্তানদের উদ্ধার করা গেলেও তাঁদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পুরো ঘটনাটি ঘিরে এখনও রয়েছে একাধিক প্রশ্ন। সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে চাপড়া থানার পুলিশ।
ছবি : সংগৃহীত ও প্রতীকী
আরও পড়ুন : online content blocking, Ministry of Home Affairs India | সহযোগ পোর্টালের দৌলতে অনলাইন কনটেন্টে কড়া নজর, এক বছরে ২,৩১২টি ব্লক আদেশ, সবচেয়ে বেশি নির্দেশ মেটা-কে




