সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের বিধায়করা এখন মাসে পাচ্ছেন প্রায় ১ লক্ষ ২১ হাজার টাকা। বেতন, যাতায়াত ভাতা, হাউস রেন্ট, টেলিফোন, এবং অন্যান্য সুবিধা মিলিয়ে এই পরিমাণ অর্থ রাজ্যের কোষাগার থেকে মাসে মাসে গিয়ে পড়ছে জনপ্রতিনিধিদের হাতে। রাজ্য সরকার বলছে, “অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গের বিধায়কদের বেতন অনেক কম ছিল, তাই এটি ন্যায্য বৃদ্ধি।” কিন্তু সাধারণ মানুষ বলছে, “আমাদের জন্য তো কেউ ন্যায্য বাড়তি কিছু ভাবল না!” আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীর কথায়, “একদিকে MLA-রা পাচ্ছেন এক লক্ষেরও বেশি বেতন, আর অন্যদিকে মানুষ ভাঙা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে হোঁচট খায়, হাসপাতালে লাইনে দাঁড়িয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করে। এই বৈষম্য একটা অন্ধকার বাস্তব।”
খাত আনুমানিক পরিমাণ
>মূল বেতন 40,000
>যাতায়াত ভাতা 30,000
>বাড়িভাড়া ভাতা 25,000
>ফোন ও অন্যান্য ভাতা 10,000
>কমিটি ও অফিস এলাউন্স 15,000
>মোট মাসিক আয় 1,20,000 – 1,21,820
বালিগঞ্জের এক গৃহবধূর ভাষায়, “MLA-রা মাসে এক লক্ষ পায়, আমরা পাই রেশন দোকানে অর্ধেক চাল! ভোট এলে সবাই দরজা ধাক্কায়, কিন্তু পরে কারও দেখা নেই।” মুর্শিদাবাদের এক তরুণ বলেন, “আমাদের চাকরি নেই, কৃষক ক্ষতিপূরণ পায় না, হাসপাতাল ভরা, অথচ ওরা নিজেদের বেতন বাড়াচ্ছে! এটা কি জনগণের টাকায় বিলাসিতা নয়?”
উল্লেখ্য যে, রাজ্যের অর্থনৈতিক অবস্থা এখনও সংকটে। কর্মসংস্থান কমছে, কৃষকের আয় স্থবির, সরকারি প্রকল্পে বিলম্ব, এমন সময়েই এই বেতনবৃদ্ধি নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সমালোচকদের মতে, এটি “নৈতিক প্রশ্ন” – “জনগণের কষ্টের সময়ে জনগণের প্রতিনিধি কি নিজেদের আয়ে এতটা বৃদ্ধি করতে পারেন?”
রাজনীতি বদলায়, সরকার বদলায়, কিন্তু সাধারণ মানুষের বাস্তবতা কি বদলায়? যেখানে একজন বিধায়ক মাসে পান এক লক্ষ টাকারও বেশি, সেখানে হাজার হাজার পরিবার আজও লড়ছে রোজকার ভাত-নুনের জন্য। এই ব্যবধানই হয়তো আমাদের গণতন্ত্রের সবচেয়ে কঠিন প্রশ্ন।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : PM Narendra Modi, Mann Ki Baat | ‘মন কি বাত’-এ বাঙালি অস্মিতা ও ‘বন্দেমাতরম’-এর ১৫০ বছর উদযাপনে আহ্বান মোদীর




