Mamata Banerjee SIR speech | ‘গণতন্ত্রের পিলার মজবুত রাখতে হবে’ ভোটারদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তা, এসআইআর ইস্যুতে রাজনীতি গরম

SHARE:

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ সমীক্ষা (SIR) শুরু হওয়ার পরদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিলেন ঐক্য ও গণতন্ত্রের বার্তা। জানুন কী বললেন তিনি, কেন বাড়ছে রাজনৈতিক বিতর্ক।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : পোস্তা বাজারের জনসমুদ্রে বুধবার জগদ্ধাত্রী পুজোর উদ্বোধনে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) যে বার্তা দিলেন, তাতে একদিকে প্রতিধ্বনিত হল ঐক্যের ডাক, অন্যদিকে উঠে এল গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রশ্ন। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা (Special Intensive Revision – SIR) শুরু হওয়ার একদিনের মাথায় তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মমতার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে আসে মানুষের মধ্যে বিভেদ নয়, ঐক্য এবং সহমর্মিতার বার্তা। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা সকল উৎসবই পালন করি। ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। আমি আর কিছু চাই না, আমাদের দেশ ভাল থাক, বাংলা ভাল থাক, মানুষ ভাল থাক। আমি ডিভাইড অ্যান্ড রুল চাই না।” তাঁর এই মন্তব্যে ‘ডিভাইড অ্যান্ড রুল’-এর ঐতিহাসিক অর্থও যেন নতুন করে ফিরে এল রাজনীতির ময়দানে, যেখানে নাগরিক অধিকারের প্রশ্নকে কেন্দ্র করে উত্তাপ ছড়াচ্ছে রাজনৈতিক পরিবেশ। ভোটারদের অধিকারের প্রসঙ্গে মমতার সুর ছিল দৃঢ়। তিনি বলেন, “সব প্রকৃত ভোটার ভাল থাকুন। গণতন্ত্রের পিলারকে মজবুত রাখতে হবে। প্রত্যেকের গণতান্ত্রিক অধিকার যেন সুরক্ষিত থাকে। সকলে যেন নিজ নিজ অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।” স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতাদের স্মরণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “গান্ধীজি (Mahatma Gandhi), রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (Rabindranath Tagore), নজরুল ইসলাম (Kazi Nazrul Islam), সর্দার বল্লভভাই পটেল (Sardar Vallabhbhai Patel) এঁরাই আমাদের শিখিয়েছেন মানবিকতার শিক্ষা। মানবিকতা, মনুষ্যত্বই সবচেয়ে বড় ধর্ম।” তিনি আরও বলেন, “পাঁচটা আঙুল একসঙ্গে আছে বলেই আমাদের মুঠি শক্ত হয়। সাদা-কালো, ভাল-খারাপ, ছোট-বড় তো সর্বত্র থাকে। বজ্রমুষ্টি আলাদা করা চলবে না। রামকৃষ্ণ দেব (Sri Ramakrishna), স্বামী বিবেকানন্দ (Swami Vivekananda), স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ (Lord Krishna) এ কথাই বলেছেন।”

আরও পড়ুন : West Bengal Voting-politics: পশ্চিমবঙ্গের ভোট-রাজনীতি: এগিয়ে কে-বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম না কংগ্রেস (আজ আঠেরো-তম কিস্তি)

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে শুরু হয়েছে ভোটার তালিকা সংশোধনের এই বিশেষ প্রক্রিয়া। সোমবার নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India) এই এসআইআর প্রক্রিয়া ঘোষণা করার পর থেকেই রাজনৈতিক তরজার সূচনা হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ইতিমধ্যেই উদ্বেগের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে। পানিহাটিতে এক প্রৌঢ় আত্মহত্যা করেছেন বলে খবর মিলেছে, যিনি ‘সুইসাইড নোট’-এ লিখে গিয়েছেন এনআরসি (NRC) আতঙ্কে তিনি জীবন শেষ করছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) সরাসরি বিজেপি (BJP) এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগে বলেন, “মানুষকে ভয় দেখিয়ে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। এই রাজ্যে এনআরসি বা ডিটেনশন ক্যাম্প কোনোদিনই চলবে না।” একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে না। অন্যদিকে, বিজেপির দাবি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাদের বক্তব্য, এসআইআর-এর মাধ্যমে শুধুমাত্র অনুপ্রবেশকারীদের নাম বাদ যাবে, কোনও প্রকৃত ভোটারের নাম নয়। বিজেপি নেতারা পাল্টা অভিযোগ করেন, তৃণমূল সরকার ভোটের রাজনীতি করতে মানুষকে অকারণে আতঙ্কিত করছে। এক বিজেপি মুখপাত্র বলেন, “এসআইআর একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। পশ্চিমবঙ্গ সরকার চায় না যে ভুয়ো ভোটারদের নাম বাদ যাক, তাই তারা এই আতঙ্ক তৈরি করছে।”

আরও পড়ুন : Suvendu BLO warning, Bihar 52 BLOs | ‘বিহারের ৫২ BLO এখনও জামিন পায়নি’ বুথ অফিসারদের সরাসরি সতর্ক করলেন শুভেন্দু অধিকারী

এই রাজনৈতিক তর্ক-বিতর্কের মাঝেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বুধবারের বার্তা অন্য মাত্রা এনে দিয়েছে। যদিও তিনি সরাসরি এসআইআর-এর নাম উচ্চারণ করেননি, কিন্তু তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত স্পষ্ট, তিনি চান রাজ্যে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় থাকুক, ভোটারদের অধিকার অক্ষুণ্ণ থাকুক। রাজনৈতিক সমালোচকদের মতে, মমতার বক্তব্য শুধুমাত্র উৎসবের মঞ্চের সৌজন্যই নয়, এটি একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা, যেখানে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়াকে ঘিরে মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া ভয় ও বিভ্রান্তির বিপরীতে তিনি এক প্রকার আশ্বাস দিতে চেয়েছেন। আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে এমন বার্তা তৃণমূলের সংগঠনগত কৌশলের অংশ বলেই মনে করছেন তাঁরা।
পোস্তার সেই অনুষ্ঠানে মমতা আরও একবার মনে করিয়ে দিলেন, “বাংলা সব ধর্ম, সব সংস্কৃতির মিলনক্ষেত্র। এই ঐক্যের সুত্রটাই আমাদের শক্তি। বিভাজনের রাজনীতি বাংলায় সফল হবে না।”
উল্লেখ্য যে, রাজ্যের সাধারণ মানুষ এখন অপেক্ষায়, এসআইআর প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়, এবং মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া “গণতন্ত্র ও অধিকারের সুরক্ষা”-র প্রতিশ্রুতি বাস্তব রাজনীতিতে কতটা কার্যকর হয় তা দেখার।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Mamata Banerjee Kali Puja 2025 | ‘আমার মায়ের পায়ের জবা হয়ে ওঠনা ফুটে মন’ : মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির ৪৮তম কালীপুজোতে ভক্তির সুর

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment