সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : নিজের লোকসভা কেন্দ্রে গেলেই তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে (Mahua Moitra) ঘিরে বিক্ষোভের অভিযোগ উঠছে। সেই পরিস্থিতিতে সাংসদের নিরাপত্তা নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে দায়ের হওয়া মামলায় গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল আদালত। মঙ্গলবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য নির্দেশ দিয়েছেন, মহুয়া মৈত্র যখনই তাঁর কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রে যাবেন, তখন তাঁর সঙ্গে অন্তত দু’জন পুলিশকর্মীকে মোতায়েন রাখতে হবে। আপাতত ৩০ দিনের জন্য এই নিরাপত্তা বহাল থাকবে। আগামী ১ অক্টোবর মামলাটির পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা। আদালতের নির্দেশের দিনই অবশ্য নিজের কেন্দ্র নদিয়ার চাপড়ায় গিয়ে ফের বিক্ষোভের মুখে পড়লেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ। দলীয় কর্মসূচী শেষ করে বেরনোর সময় তাঁর গাড়িকে ঘিরে কালো পতাকা দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি তাঁকে লক্ষ্য করে ‘গো ব্যাক’ স্লোগানও দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগের আঙুল উঠেছে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের দিকে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে নামতে হয়।
মহুয়া মৈত্রের অভিযোগ, নিজের লোকসভা এলাকায় মানুষের সঙ্গে দেখা করতে গেলে বার বার তাঁকে বিক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত ভাবে তাঁর কর্মসূচিতে বাধা তৈরি করা হচ্ছে বলেও আদালতে দাবি করেছেন তিনি। সাংসদ হিসাবে নিজের এলাকার মানুষের কাছে পৌঁছনো এবং তাঁদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনা তাঁর দায়িত্ব। কিন্তু বিক্ষোভ ও গোলমালের আশঙ্কায় সেই কাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে তাঁর বক্তব্য। এই পরিস্থিতিতেই নিজের নিরাপত্তার জন্য কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন মহুয়া। মামলার শুনানিতে তাঁর আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee) আদালতের সামনে সাংসদের নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক অভিযোগ তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, নিজের নির্বাচনী এলাকায় গেলেই মহুয়াকে লক্ষ্য করে ডিম, আলু ও পাথর ছোড়ার মতো ঘটনা ঘটছে। একজন নির্বাচিত সাংসদের ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। আইনজীবীর আরও বক্তব্য ছিল, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে সাংসদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনও বৈষম্য থাকা উচিত নয়। সম্প্রতি রাজনৈতিক দল পরিবর্তন করা কয়েক জন সাংসদ নিরাপত্তা পাচ্ছেন বলেও আদালতে উল্লেখ করা হয়। সেই তুলনায় মহুয়া মৈত্রের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেই বলে দাবি করা হয়েছে।
মামলার শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানান, কোনও সাংসদের উপর হামলা বা তাঁকে ভয় দেখানোর পরিস্থিতি তৈরি হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি যাতে নিজের এলাকায় গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কাজ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে রাজ্যকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার কথাও আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে। এর পরেই মহুয়া মৈত্রের জন্য নির্দিষ্ট নিরাপত্তার নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালত জানিয়েছে, তিনি যখন তাঁর লোকসভা কেন্দ্রে যাবেন, তখন অন্তত দু’জন পুলিশকর্মী তাঁর সঙ্গে থাকবেন। তবে এই ব্যবস্থা সব সময়ের জন্য নয়। ৩০ দিনের জন্য এই নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। মহুয়া কোন কোন দিনে তাঁর নির্বাচনী এলাকায় যাবেন, সেই তথ্য আগে পুলিশকে জানাতে হবে। সেই অনুযায়ী পুলিশ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা করবে।
আদালতের এই নির্দেশের মধ্যেই চাপড়ার ঘটনা নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়েছে। মঙ্গলবার দলীয় কর্মী সম্মেলনে যোগ দিতে সেখানে গিয়েছিলেন মহুয়া। কর্মসূচি শেষ হওয়ার পরে তিনি যখন এলাকা ছাড়ছিলেন, তখন তাঁর গাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখানোর অভিযোগ ওঠে। কালো পতাকা দেখানোর পাশাপাশি ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনার জেরে মহুয়ার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশকর্মীরা তৎপর হয়ে ওঠেন। স্থানীয় পুলিশও ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয়। কিছু সময়ের জন্য এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হলেও পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
মহুয়া মৈত্রের সঙ্গে বিরোধী রাজনৈতিক দলের সংঘাত অবশ্য নতুন নয়। কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রে তাঁর রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘিরে এর আগেও নানা সময়ে উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে আদালতের নিরাপত্তা নির্দেশের দিনেই ফের বিক্ষোভের ঘটনা সামনে আসায় বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে। তৃণমূলের তরফে এই ধরনের বিক্ষোভকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ বলে অভিযোগ করা হতে পারে। অন্য দিকে বিজেপির স্থানীয় কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে তাঁদের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। কারণ, নির্বাচনী এলাকায় রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘাত বাড়লে তার প্রভাব স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতেও পড়তে পারে। আদালতের নির্দেশে অবশ্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমাও রাখা হয়েছে। আগামী ১ অক্টোবর মামলাটির পরবর্তী শুনানি। অর্থাৎ আগামী কয়েক সপ্তাহ মহুয়া মৈত্রের কৃষ্ণনগর সফরগুলিতে পুলিশি নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকবে। তিনি যে দিন এলাকায় যাবেন, আগে থেকে পুলিশকে তা জানাতে হবে। তার ভিত্তিতেই নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের মোতায়েন করা হবে।
এই নির্দেশের মাধ্যমে আদালত মূলত একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির নিজের এলাকায় নির্বিঘ্নে কাজ করার সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছে। কোনও সাংসদ রাজনৈতিক মতবিরোধের কারণে আক্রান্ত বা হয়রানির শিকার হলে তা নিয়ে প্রশাসনের দায়িত্ব রয়েছে বলেই আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। মহুয়া মৈত্রের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ কৃষ্ণনগর তাঁর নির্বাচনী এলাকা। সেখানে গিয়ে দলীয় কর্মসূচী করার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা তাঁর সাংসদ হিসাবে নিয়মিত কাজের অংশ। কিন্তু বিক্ষোভের অভিযোগ বার বার সামনে আসায় তাঁর সফর ঘিরে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল। মঙ্গলবারের চাপড়ার ঘটনাও সেই প্রশ্নকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আগামী ৩০ দিন মহুয়া মৈত্র যখনই কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রে যাবেন, তাঁর সঙ্গে দু’জন পুলিশকর্মী থাকার কথা। এর মধ্যে নতুন কোনও বিক্ষোভ বা গোলমালের ঘটনা ঘটে কি না, তা নজরে থাকবে প্রশাসনের।
এক দিকে আদালতে নিরাপত্তার আবেদন, অন্য দিকে নিজের কেন্দ্রেই রাজনৈতিক বিক্ষোভ, একই দিনে দুই ঘটনাকে ঘিরে মহুয়া মৈত্রকে নিয়ে নদিয়ার রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ তৈরি হয়েছে। এখন নজর থাকবে ১ অক্টোবরের শুনানিতে। তত দিন পর্যন্ত আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী মহুয়ার নির্বাচনী এলাকার সফরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখবে পুলিশ।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : PM Narendra Modi Pezeshkian Meeting | পেজেশকিয়ানের সঙ্গে মোদীর বৈঠক, হরমুজ নিয়ে দিল্লির উদ্বেগ প্রকাশ বিশকেকে




