সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কৃষ্ণনগর : কৃষ্ণনগর (Krishnagar) থেকে ফের এক মর্মান্তিক পথদুর্ঘটনার খবর সামনে এল। রবিবার দুপুরে কৃষ্ণনগর-করিমপুর (Krishnagar-Karimpur) রাজ্য সড়কে দুই যাত্রীবাহী বাসের রেষারেষিকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে এক মহিলার। গুরুতর ও সামান্য মিলিয়ে আহত হয়েছেন একাধিক যাত্রী। আহতদের মধ্যে এখনও অন্তত দশ জন করিমপুর হাসপাতালে (Karimpur Hospital) চিকিৎসাধীন, বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসার পর অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার দুপুরে করিমপুরের কাঠালিয়া মাঠ সংলগ্ন এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। কলকাতা থেকে জেলামুখী যাত্রীবাহী বাসের সংখ্যা দিনে দিনে বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে প্রতিযোগিতামূলক ও বেপরোয়া গতি। প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত যাত্রীদের অভিযোগ, কৃষ্ণনগর থেকে করিমপুরগামী দুটি বাস দীর্ঘক্ষণ ধরে একে অপরকে টেক্কা দিয়ে চলছিল। সামনের বাসটি কোনওভাবেই পিছনের বাসকে ওভারটেক করতে দিচ্ছিল না। রেষারেষির মাঝেই ঘটে যায় বিপত্তি।
যাত্রীদের একাংশ জানান, দুর্ঘটনার আগে সামনের বাসটির চালক এক হাতে স্টিয়ারিং ধরে রেখেছিলেন এবং অন্য হাতে মোবাইল ফোনে কথা বলছিলেন। চলন্ত অবস্থায় মোবাইল ব্যবহারের কারণেই আচমকা বাসটির উপর নিয়ন্ত্রণ হারান চালক। মুহূর্তের মধ্যে বাসটি উল্টে যায় এবং পিছনের বাসটির সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের শব্দে গোটা এলাকা কেঁপে ওঠে। রাস্তার পাশে থাকা স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে আসেন এবং উদ্ধারকাজে হাত লাগান। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় করিমপুর থানার (Karimpur Police Station) পুলিশ। পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় আহত যাত্রীদের বাস থেকে বের করে আনা হয়। গুরুতর আহতদের দ্রুত করিমপুর হাসপাতালে পাঠানো হয়। দুর্ঘটনার জেরে কিছুক্ষণের জন্য রাজ্য সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এই দুর্ঘটনায় যাঁর মৃত্যু হয়েছে, তিনি একজন মহিলা যাত্রী বলে বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে। তাঁর পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। আহতদের অনেকেরই মাথা, হাত ও পায়ে গুরুতর চোট লেগেছে। চিকিৎসকদের বক্তব্য, কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকায় তাঁদের বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, কৃষ্ণনগর-করিমপুর রাজ্য সড়কে প্রায়শই এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। রাস্তা তুলনামূলকভাবে ফাঁকা থাকায় অনেক চালক অতিরিক্ত গতিতে বাস চালান। নিয়ম ভেঙে ওভারটেকিং, মোবাইল ফোন ব্যবহার এবং যাত্রী তোলার প্রতিযোগিতা থেকেই বারবার দুর্ঘটনা ঘটছে। প্রশাসনের তরফে নজরদারি থাকলেও তা যথেষ্ট নয় বলেই দাবি স্থানীয়দের।
এই প্রসঙ্গে স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের একজন নেতা বলেন, ‘এই রাস্তাটি কৃষ্ণনগর থেকে করিমপুর যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। এখানে প্রায়ই দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়। আজকের ঘটনায় একজনের প্রাণ গেল, অনেকেই আহত। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিক। বাস চালকদের উপর কড়া নজরদারি হোক এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।’ পুলিশ সূত্রে খবর, দুর্ঘটনার পর দুই বাসের চালক ও কন্ডাক্টরদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে চালকের গাফিলতি ও বেপরোয়া গতির বিষয়টি সামনে এসেছে। মোবাইল ফোন ব্যবহারের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট বাস মালিকদের বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এই দুর্ঘটনা ফের একবার রাজ্যের সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল। প্রতিদিনই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বাস দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ট্রাফিক চেকিং, সিসিটিভি নজরদারি, চালকদের প্রশিক্ষণ এবং কড়া আইনি ব্যবস্থা ছাড়া এই প্রবণতা রোখা সম্ভব নয়।
বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে দুর্ঘটনার স্মৃতি এখনও তাজা স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীদের মনে। প্রশাসনের তরফে দ্রুত পদক্ষেপ না করা হলে ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ছবি: প্রতীকী
আরও পড়ুন : Asansol Train Accident | আসানসোল ডিভিশনে ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনা, রেলগেটে ট্রাককে সজোরে ধাক্কা গোন্ডা-আসানসোল এক্সপ্রেসের, অল্পের জন্য প্রাণরক্ষা বহু মানুষের




