সাশ্রয় নিউজ ★ কলকাতা ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ : বসন্তের অকালবৃষ্টির পর অবশেষে স্বস্তির ইঙ্গিত। আজ থেকে আর বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই বলে আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস। ধীরে ধীরে মেঘ কেটে রোদ উঠবে, বিকেলের পর আকাশ পরিষ্কার হয়ে যাবে। কিন্তু স্বস্তি পুরোপুরি মিলবে না, কারণ বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ এখনও বেশি। ফলে আগামী কয়েক দিন ভ্যাপসা গরমে অস্বস্তি বাড়তে পারে। কলকাতা (Kolkata)-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় তাপমাত্রা ধীরে ধীরে ঊর্ধ্বমুখী হবে বলেই হাওয়া অফিস সূত্রে খবর। গত কয়েক দিনে মাঝারি বৃষ্টিপাতের জেরে শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস নেমে গিয়েছিল। যে তাপমাত্রা ৩১ ডিগ্রির ঘরে পৌঁছে গিয়েছিল, তা কমে ২৭ ডিগ্রির নিচে নেমে আসে। সর্বনিম্ন তাপমাত্রাও ছিল ১৯.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে। বর্তমানে রাতের তাপমাত্রা প্রায় ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে রাতের পারদ আরও ২ থেকে ৩ ডিগ্রি বাড়তে পারে। বুধবার থেকেই দিনের তাপমাত্রা বাড়ার প্রবণতা স্পষ্ট হবে।
কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে বৃষ্টি হয়েছিল মাঝারি মাত্রায়। যদিও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। প্রথম দিকে দমকা হাওয়া ও বজ্রপাতের সঙ্গে নামা বৃষ্টি ধীরে ধীরে কমে আসে এবং থেমে যায়। কোথাও কোথাও ঝোড়ো হাওয়ার দাপটও দেখা যায়। এই পরিবর্তিত আবহাওয়ার নেপথ্যে ছিল বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ অঞ্চল। সেই প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের আকাশে মেঘ জমে এবং বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হয়। এখন পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। নিম্নচাপের প্রভাব কেটে যাওয়ায় আকাশ পরিষ্কার হতে শুরু করেছে। দুপুরের পর রোদ্দুরের তেজ বাড়বে। তবে বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রা বেশি থাকায় ঘাম ও অস্বস্তি বাড়বে। আবহাওয়াবিদদের মতে, ‘বৃষ্টি থেমে গেলেও জলীয় বাষ্পের আধিক্য থাকায় গুমোট ভাব বজায় থাকবে।’ ফলে বাইরে বেরোলে ছাতা নয়, বরং হালকা পোশাক ও পর্যাপ্ত জল রাখাই বাঞ্ছনীয়। এই বৃষ্টি যেমন তাপমাত্রা কমিয়ে সাময়িক স্বস্তি দিয়েছিল, তেমনই কৃষিক্ষেত্রে কিছু এলাকায় ক্ষতির কারণ হয়েছে। হুগলি (Hooghly)-সহ একাধিক জেলায় আমচাষিরা বিপাকে পড়েছেন। ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির জেরে আমের মুকুল ঝরে পড়েছে ব্যাপক হারে। ফলনের উপর তার প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কৃষকেরা জানিয়েছেন, ‘ঠিক এই সময় মুকুল টিকে থাকাই সবচেয়ে জরুরি ছিল। ঝড়ে অনেকটাই নষ্ট হয়েছে।’
শুধু কৃষিক্ষেত্রই নয়, নদীবাঁধও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালি-১ ব্লকের বেড়মজুর-১ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় কলাগাছি নদীর বাঁধে ধস নেমেছে। প্রায় ৫০ ফুট অংশ তলিয়ে গিয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। প্রশাসনের তরফে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নদীর জলস্তর ও ভাঙনের ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কলকাতার নাগরিক জীবনেও বৃষ্টির প্রভাব ছিল। কোথাও জল জমে সাময়িক যানজট তৈরি হয়েছিল। বজ্রপাতের সময় কয়েক জায়গায় বিদ্যুৎ পরিষেবায় বিঘ্ন ঘটে। তবে বৃষ্টি দীর্ঘক্ষণ না থাকায় পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে যায়। এখন রোদ ফেরায় শহরবাসী আবার গরমের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
আবহাওয়া দফতরের মতে, আপাতত দক্ষিণবঙ্গে শুষ্ক আবহাওয়া বজায় থাকবে। দিনের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে স্বাভাবিকের উপরে উঠতে পারে। মার্চের শেষের দিকে গরম আরও বাড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে সকাল ও বিকেলে রোদ তীব্র হতে পারে। যারা দীর্ঘ সময় বাইরে কাজ করেন, তাঁদের সাবধান থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কলকাতার আবহাওয়া বদলের এই চক্রে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় প্রভাব পড়ছে। এক দিকে বৃষ্টির ঠাণ্ডা হাওয়া, অন্য দিকে ফের বাড়তে থাকা তাপমাত্রা, দু’য়ের টানাপোড়েনে শরীর খাপ খাওয়াতে সময় নেয়। চিকিৎসকদের মতে, হঠাৎ তাপমাত্রা পরিবর্তনে সর্দি-কাশি ও জ্বরের প্রবণতা বাড়তে পারে। তাই পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও জলপান জরুরি। উল্লেখ্য, বৃষ্টির অধ্যায় আপাতত শেষ। সামনে অপেক্ষা রোদ্দুর আর ভ্যাপসা গরমের। কলকাতা ও আশপাশের জেলাগুলিতে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আর্দ্রতার দাপট বাড়বে। তাই এখন থেকেই সতর্ক থাকা প্রয়োজন। বসন্তের ক্ষণিকের বৃষ্টি বিদায় নিয়েছে শহর প্রস্তুত হচ্ছে বসন্ত হাওয়া গায়ে মাখবার জন্য।
ছবি : প্রতীকী ও সংগৃহীত
আরও পড়ুন : PM Narendra Modi | বিধানসভা ভোটের আগে ‘আমার প্রিয় পশ্চিমবঙ্গবাসী’ খোলা চিঠিতে তোপ নরেন্দ্র মোদীর, ভুয়ো ভোটার-তোষণ-সিএএ ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর




