KMC notice Abhishek Banerjee house | অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি ঘিরে কেএমসি নোটিস, চুক্তিপত্র ও লেনদেনের নথি তলব

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: দক্ষিণ কলকাতার অভিজাত এলাকা হরিশ মুখার্জি রোডকে কেন্দ্র করে নতুন করে তীব্র রাজনৈতিক আলোড়ন তৈরি হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) -এর পারিবারিক বাসভবন সংক্রান্ত সম্পত্তির বিষয়ে কলকাতা পুরসভা (Kolkata Municipal Corporation) -এর একটি নোটিস প্রকাশ্যে আসতেই বিতর্কের পারদ চড়েছে। পুরসভার অ্যাসিসর-কালেক্টর (দক্ষিণ) দফতরের পক্ষ থেকে জারি হওয়া এই নোটিসে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির চুক্তিপত্র, লেনদেন সংক্রান্ত নথি এবং দখল সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে। পুর প্রশাসনের সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৮৮এ, হরিশ মুখার্জি রোডের ওই সম্পত্তিটি প্রথমে মেসার্স অনিমেষ ট্রেডলিঙ্ক প্রাইভেট লিমিটেড (Animesh TradeLink Private Limited)-এর নামে ক্রয় করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সংস্থাটির নাম পরিবর্তন হয়ে ‘লিপ্‌স অ্যান্ড বাউন্ডস্‌ ইনফ্রা কনসালটেন্টস প্রাইভেট লিমিটেড’ (Leaps and Bounds Infra Consultants Private Limited) হয়। সেই সংস্থার নামেই বর্তমানে সম্পত্তির কর নির্ধারণ করা হয়েছে বলে পুরসভার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

আরও পড়ুন : RG Kar case, Abhijit Gangopadhyay statement | আরজি কর তদন্তে নতুন বিতর্ক, সিবিআই অফিসার সীমাকে কাঠগড়ায় তুলতে চান অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়

কিন্তু বিতর্কের সূত্রপাত অন্য জায়গায়। পুরসভার প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, সংশ্লিষ্ট সংস্থা ওই সম্পত্তি ব্যবহার করছে না। বরং সেখানে বসবাস করছেন অন্য ব্যক্তিরা, যাঁদের মধ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারের সদস্যরাও রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে সম্পত্তির প্রকৃত ব্যবহার, মালিকানা এবং আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে নড়েচড়ে বসেছে পুর প্রশাসন। অ্যাসিসর-কালেক্টর (দক্ষিণ) অরূপ মণ্ডল (Arup Mondal) -এর স্বাক্ষরিত নোটিসে জানানো হয়েছে, ‘চিঠি জারির সাত দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সমস্ত নথি জমা দিতে হবে।’ নোটিসটি পাঠানো হয়েছে সংস্থার ডিরেক্টরের উদ্দেশে। সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সম্পত্তির পুনর্মূল্যায়নের জন্য চুক্তিপত্র, অর্থ লেনদেনের বিবরণ এবং কে বা কারা বর্তমানে ওই সম্পত্তিতে বসবাস করছেন, তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রয়োজন। প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, এই পদক্ষেপ আসলে বৃহত্তর একটি প্রক্রিয়ার অংশ। কলকাতা পুরসভা সম্প্রতি শহরের একাধিক সম্পত্তির কর নির্ধারণ, ব্যবহার এবং মালিকানার প্রকৃতি নিয়ে পর্যালোচনা শুরু করেছে। সেই পর্যালোচনার সময়েই এই নির্দিষ্ট সম্পত্তির ক্ষেত্রে কিছু অসঙ্গতি সামনে আসে বলে দাবি করা হচ্ছে। এক কর্তার কথায়, ‘নিয়ম অনুযায়ী সম্পত্তির ব্যবহার যদি মালিকের সঙ্গে না মেলে, তা হলে কর নির্ধারণে পরিবর্তন আনা হয়। সেই কারণেই বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে।’

ঘটনাচক্রে, এই ঠিকানাটিই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পারিবারিক বাসভবন হিসেবে পরিচিত। ফলে নোটিসটি সামনে আসার পর থেকেই রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। শাসকদলের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সম্পত্তির ব্যবহার এবং কর নির্ধারণের ক্ষেত্রে যে অসঙ্গতি ছিল, তা এবার সামনে এসেছে। তাঁদের বক্তব্য, ‘আইনের চোখে সবাই সমান। যে কোনও সম্পত্তির ক্ষেত্রেই নিয়ম মেনে কর নির্ধারণ হওয়া উচিত।’ অন্যদিকে বিরোধী শিবির এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে তৃণমূল কংগ্রেসকে (All India Trinamool Congress) আক্রমণ শানাতে শুরু করেছে। তাদের অভিযোগ, ক্ষমতার প্রভাবে এত দিন বিষয়টি চাপা ছিল। এখন প্রশাসনিক পদক্ষেপে তা প্রকাশ্যে এসেছে। যদিও তৃণমূলের তরফে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

আইনি দিক থেকেও এই নোটিসের তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাধারণত কোনও সম্পত্তি সংস্থার নামে থাকলে এবং তা অন্য ব্যক্তি ব্যবহার করলে, করের হার ও শ্রেণিবিভাগ বদলাতে পারে। ‘মালিক-অধিকৃত’ (owner-occupied) এবং ‘ভাড়া বা বাণিজ্যিক ব্যবহার’ এই দুইয়ের মধ্যে কর কাঠামোয় উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকে। সেই কারণেই প্রকৃত ব্যবহার নির্ধারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে পুর প্রশাসন। নোটিসে আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নথি জমা না দিলে পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। ফলে এখন নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিক্রিয়ার দিকে। তারা কী ধরনের নথি জমা দেয় এবং তাতে কী তথ্য উঠে আসে, তা ঘিরেই পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ভর করবে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘটনা রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। বিশেষ করে শহুরে সম্পত্তি, কর নির্ধারণ এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার প্রশ্নে এই ধরনের পদক্ষেপ ভবিষ্যতে আরও বড় বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। একই সঙ্গে এটি প্রশাসনিক ব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং নিরপেক্ষতার দিকেও নজর ঘোরাচ্ছে। কলকাতা পুরসভার এই পদক্ষেপ যে শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট সম্পত্তি ঘিরে সীমাবদ্ধ নয়, বরং বৃহত্তর প্রশাসনিক নজরদারির অংশ, তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের পর্যালোচনা চলতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে। এখন দেখার, এই নোটিস ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Abhishek Banerjee Property, KMC Notice Kolkata | অভিষেকের সম্পত্তি ঘিরে নড়েচড়ে বসল কলকাতা পুরসভা! নোটিসে চাওয়া প্ল্যান-নথি, রাজনীতিতে নতুন তরঙ্গ

Sasraya News
Author: Sasraya News