সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ তেহরান : ইরানের প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইকে (Ayatollah Ali Khamenei) শেষ বিদায় জানাতে গিয়ে আবেগে ভেসে গেল দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা একাধিক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যেই চোখের জল ফেলতে দেখা গেল। রাজধানী তেহরান (Tehran) জুড়ে তৈরি হয়েছে শোকের আবহ, যেখানে লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রিয় নেতাকে শেষবার দেখার জন্য ভিড় জমাচ্ছেন। শুক্রবার খামেনেইয়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি (Abbas Araghchi) ও পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাকের কালিবাফকে (Mohammad Bagher Ghalibaf) আবেগ সামলাতে না পেরে কাঁদতে দেখা যায়। তাঁদের পাশাপাশি আরও বহু নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিও শোক প্রকাশের সময় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। দীর্ঘদিন দেশের নেতৃত্বে থাকা এই ব্যক্তিত্বের বিদায় যে ইরানের রাজনীতি ও সমাজে গভীর প্রভাব ফেলেছে, সেই চিত্রই ধরা পড়েছে এই অনুষ্ঠানে।

মহলেও নজর পড়েছে তেহরানের দিকে। একাধিক দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত রয়েছেন। পাকিস্তানের (Pakistan) প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ (Shehbaz Sharif) ও সে দেশের সেনাপ্রধান তথা ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির (Asim Munir) উপস্থিত ছিলেন। ভারত (India) থেকেও প্রতিনিধিদল পাঠানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পবিত্র মার্গেরিটা (Pabitra Margherita) ও বিহারের রাজ্যপাল অবসরপ্রাপ্ত লেফ্টেন্যান্ট জেনারেল সৈয়দ আতা হাসনাইন (Syed Ata Hasnain) এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। ইরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের তরফেও সমাজমাধ্যমে খামেনেইয়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। সেই পোস্টে ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের মুহূর্ত তুলে ধরা হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরের পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি (Mehbooba Mufti) এবং কংগ্রেস নেতা সলমন খুরশিদ (Salman Khurshid)-এর উপস্থিতিও সেই ছবিতে দেখা গিয়েছে।
ইরানের সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ় (Fars News)-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, খামেনেইয়ের শেষযাত্রাকে ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তেহরানের গভর্নরের নির্দেশে শহর জুড়ে কঠোর নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। শনিবার সকাল ৬টা থেকে প্রার্থনাস্থলের দরজা সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। সেখানে গিয়ে তাঁরা প্রিয় নেতাকে শ্রদ্ধা জানাতে পারছেন। এই প্রক্রিয়া আগামী সোমবার পর্যন্ত চলবে বলে জানানো হয়েছে। শুধু তেহরানই নয়, গোটা ইরান জুড়েই শোকের আবহ বিরাজ করছে। রাজধানীতে দেড় থেকে দু’কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। সেই অনুযায়ী প্রশাসনের তরফে সমস্ত ব্যবস্থা করা হয়েছে। যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে নিরাপত্তা সব ক্ষেত্রেই কড়াকড়ি নজরে পড়ছে।
খামেনেইয়ের বিদায় অনুষ্ঠানে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও (Masoud Pezeshkian) উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি তুর্কমেনিস্তান (Turkmenistan), রাশিয়া (Russia), ইরাক (Iraq) এবং আর্মেনিয়ার (Armenia) প্রতিনিধিরা এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক স্তরে এই উপস্থিতি খামেনেইয়ের প্রভাবের পরিধিকে তুলে ধরেছে। এছাড়াও বাংলাদেশ (Bangladesh), ওমান (Oman), উজবেকিস্তান (Uzbekistan), আজারবাইজান (Azerbaijan), বেলারুস (Belarus) ও কিরঘিস্তান (Kyrgyzstan)-এর পার্লামেন্টের স্পিকাররা উপস্থিত রয়েছেন। নিকারাগুয়া (Nicaragua) ও কঙ্গোর (Congo) বিদেশমন্ত্রীরা এবং মিশরের (Egypt) সেনেটের প্রেসিডেন্টও এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। তুরস্ক (Turkey), সৌদি আরব (Saudi Arabia) সহ আরও বহু দেশ প্রতিনিধি পাঠিয়েছে।
কিন্তু, ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেসব দেশ আমেরিকা (United States) ও ইজ়রায়েল (Israel)-এর সঙ্গে থেকে ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, তাদের এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। খামেনেইয়ের শেষকৃত্যের পর তাঁকে মাশহাদ (Mashhad) শহরে সমাহিত করা হবে। আগামী ৯ জুলাই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা। সেখানে তাঁর সমাধিস্থলকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে আরও ভিড় জমতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে খামেনেই ইরানের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। ফলে তাঁর বিদায় শুধু একটি ব্যক্তির মৃত্যু নয়, বরং একটি যুগের অবসান হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
তেহরানের রাস্তায় সাধারণ মানুষের উপস্থিতি এবং তাঁদের আবেগের বহিঃপ্রকাশ এই ঘটনাকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। শোকস্তব্ধ পরিবেশে প্রিয় নেতাকে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে মানুষের ঢল প্রমাণ করছে, তাঁর প্রতি মানুষের আবেগ কতটা গভীর।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Strait of Hormuz India ships 2026, US Iran deal shipping impact | হরমুজে ধীরে ফিরছে গতি! আমেরিকা-ইরান সমঝোতার পর ভারতমুখী ১১ জাহাজ পার, অপেক্ষায় আরও ২৬টি



