Keir Starmer, India UK relations, Narendra Modi, মুম্বইয়ে ঐতিহাসিক সাক্ষাৎ: কিয়ার স্টারমার ও নরেন্দ্র মোদির আলোচনায় ভারত–ব্রিটেন সম্পর্কের নতুন অধ্যায়

SHARE:

প্রথম ভারত সফরে মুম্বইয়ের রাজভবনে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন নরেন্দ্র মোদি। বাণিজ্য, শিক্ষা, প্রতিরক্ষা ও সংস্কৃতিতে সহযোগিতা বৃদ্ধির আশ্বাস দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর। শুরু হল ভারত, ব্রিটেন বন্ধুত্বের নতুন অধ্যায়।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ মুম্বই, ৯ অক্টোবর ২০২৫: রাজভবনের (Raj Bhavan) ইতিহাসে আজকের দিনটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকল। প্রথমবারের মতো ভারতে পা রাখলেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার (Keir Starmer)। আর তাঁকে স্বাগত জানাতে নিজে উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। মুম্বইয়ের রাজভবনে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর এই সাক্ষাৎ শুধু সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, এটি দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের এক নতুন সূচনার প্রতীক বলেই মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।

প্রথম ভারত সফরে মুম্বইয়ের রাজভবনে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন নরেন্দ্র মোদি। বাণিজ্য, শিক্ষা, প্রতিরক্ষা ও সংস্কৃতিতে সহযোগিতা বৃদ্ধির আশ্বাস দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর। শুরু হল ভারত, ব্রিটেন বন্ধুত্বের নতুন অধ্যায়।
কিয়ার স্টারমার ভারত সফর। ছবি সংগৃহীত

মোদী বলেন, “আমার বন্ধু, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে রাজভবনে স্বাগত জানাতে পেরে আনন্দিত। এটি তাঁর প্রথম ভারত সফর, আর তাই এটি একটি বিশেষ উপলক্ষ। তাঁর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বৃহত্তম ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদলের আগমন আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সম্ভাবনাকে আরও দৃঢ় করছে।” রাজভবনের বাগানঘেরা পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই নেতাই ভারত, ব্রিটেন সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন, বিশেষ করে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য শক্তি, এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, “ভারত আমাদের জন্য শুধু একটি কৌশলগত অংশীদার নয়, এটি এমন এক দেশ যার সঙ্গে আমাদের ঐতিহাসিক বন্ধন রয়েছে। এই সফর সেই বন্ধনকে আরও গভীর করার সুযোগ।” দুই দেশের মধ্যে চলমান ভারত–যুক্তরাজ্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (India-UK Free Trade Agreement) সম্পর্কেও আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। এই চুক্তি কার্যকর হলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য আরও ২০ শতাংশ বাড়তে পারে বলে অনুমান করছেন অর্থনীতিবিদরা।

অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত

স্টারমারের সঙ্গে যে বিশাল ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল এসেছে, এটি ব্রিটেনের ইতিহাসে ভারত সফরের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ডেলিগেশন। এতে রয়েছেন ব্রিটেনের শীর্ষস্থানীয় ৫০টিরও বেশি সংস্থার কর্ণধার ও বিনিয়োগকারী, যারা ভারতের অবকাঠামো, আইটি, শিক্ষা ও গ্রিন এনার্জি সেক্টরে প্রায় ৭ বিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এক ব্রিটিশ প্রতিনিধি বলেন, “ভারত এখন বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতবর্ধনশীল অর্থনীতি। আমরা এই বৃদ্ধির অংশ হতে চাই।” অন্যদিকে, ভারতও ব্রিটেনে প্রযুক্তি ও স্টার্টআপ বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী। মোদি বলেন, “ভারতের টেক ইকোসিস্টেম ও যুক্তরাজ্যের উদ্ভাবন মনোভাব, দুই মিলে অসাধারণ এক সহযোগিতার গল্প লিখতে পারবে।”

শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিনিময়

দুই দেশের মধ্যে শিক্ষাক্ষেত্রে সম্পর্ক জোরদার করতে বিশেষ চুক্তির কথাও আলোচনা হয়। ভারতের শিক্ষা মন্ত্রকের সূত্রে জানা গিয়েছে, দিল্লি ও লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে যৌথ গবেষণা ও স্কলারশিপ প্রোগ্রাম চালু করার বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। স্টারমার বলেন, “ভারতের যুবসমাজের মেধা বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত। আমরা চাই, আরও বেশি ভারতীয় ছাত্রছাত্রী ব্রিটেনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পান।” একই সঙ্গে সাংস্কৃতিক বিনিময়ও এই সফরের অন্যতম অঙ্গ। রাজভবনের প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের সঙ্গে ব্রিটিশ ফিউশন ব্যান্ডের পরিবেশনা দুই দেশের বন্ধুত্বের এক সুন্দর প্রতীক হিসেবে ধরা পড়ে। সূত্রের খবর, বৈঠকে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উঠে এসেছে। ভারত ও ব্রিটেনের মধ্যে জয়েন্ট ডিফেন্স প্রোডাকশন এবং সাইবার সিকিউরিটি সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনায় আগ্রহ দেখিয়েছেন দুই নেতা। এক কূটনৈতিক সূত্র জানায়, “চীনের আঞ্চলিক প্রভাব এবং ইন্দো, প্যাসিফিক অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য ভারত ও ব্রিটেনের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানো জরুরি।” উল্লেখ্য, এই সফর কেবল রাজনৈতিক নয়, মানবিক সংযোগেরও বার্তা বহন করছে। স্টারমার তাঁর বক্তব্যে বলেন, “আমার শিকড় দক্ষিণ এশিয়ায়, এই অঞ্চলের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। ভারত আমার কাছে একটি অনুভব, যা সংস্কৃতি, মূল্যবোধ ও গণতন্ত্রের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।” মোদি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “ভারত ও ব্রিটেন দুই দেশের জনগণের মধ্যে হৃদয়ের সংযোগ বহু পুরনো। আজ সেই সম্পর্ক আরও দৃঢ় হচ্ছে।”

বিশ্লেষণ: নতুন যুগের সূচনা

রাজনৈতিক বিশ্লেষক অভিজিৎ মুখার্জি (Abhijit Mukherjee) বলেন, “এই সফর শুধু একটি কূটনৈতিক সফর নয়, এটি ভারত ও ব্রিটেন সম্পর্কের নতুন দিক উন্মোচন করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে আসার পর ব্রিটেন এখন বৈশ্বিক বাজারে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করতে চাইছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “বাণিজ্য, শিক্ষা ও প্রতিরক্ষার পাশাপাশি মানবিক বন্ধনও এই সম্পর্কের ভিত্তি হয়ে উঠছে। এটি ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত।”

কিয়ার স্টারমার-এর ভারত সফর। ছবি : সংগৃহীত

এই বৈঠকের পর আগামী কয়েক মাসের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে যৌথ কার্যপরিকল্পনা তৈরি হবে বলে জানা গেছে। এছাড়াও আগামী বছরে লন্ডনে অনুষ্ঠিত হতে চলা India-UK Business Summit 2026-এ দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী আবার মুখোমুখি হবেন বলে কূটনৈতিক মহল সূত্রে খবর। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক বলেন, “দুই দেশের অর্থনীতি ও কূটনীতিতে এই সফর একটি স্থায়ী প্রভাব ফেলবে। এটি কেবল রাজনৈতিক সফর নয়, এটি ইতিহাসের একটি অধ্যায়।”

প্রসঙ্গত, রাজভবনের ডাইনিং হলে নৈশভোজে যোগ দেন দুই নেতা। ভারতীয় খাবার ও ঐতিহ্যবাহী আতিথেয়তার প্রশংসা করে স্টারমার বলেন, “ভারতের উষ্ণ অভ্যর্থনা আমাকে মুগ্ধ করেছে। এটি শুধু দুই দেশের সম্পর্ক নয়, দুই জনগণের সম্পর্ক।”মোদী তাঁর ভাষণে বলেন, “আজকের এই সাক্ষাৎ ভবিষ্যতের দিকে এক দৃঢ় পদক্ষেপ। ভারত-ব্রিটেন সম্পর্কের সোনালি অধ্যায় এখনই শুরু হচ্ছে।”

ছবি : সংগৃহীত 

আরও পড়ুন : Britain’s Abortion Act : ভিক্টোরিয়ান আইন ভাঙছে ব্রিটেন, গর্ভপাত অপরাধ নয়, নারীর অধিকারে নয়া অধ্যায়

 

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন