অ্যাম্বুল্যান্স দৌরাত্ম : মায়ের মরদেহ নিয়ে ছেলে বয়ে নিয়ে গেলেন
সাশ্রয় নিউজ ★ ক্রান্তি : বেনজির করুণ দৃশ্যের সাক্ষী থাকল বাঙলা। জয়কৃষ্ণ দেওয়ানের স্ত্রী লক্ষ্মী রানী শ্বাস কষ্ট জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে প্রয়াত হন। হাসপাতালে ছিলেন তাঁর ছেলে ও স্বামী। তাঁরা দেহ গ্রামে নিয়ে যাওয়া জন্য অ্যাম্বুলেন্সের খোঁজ করেন। হাসপাতালে চত্বরের বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালকরা, জলপাইগুড়ি থেকে ক্রান্তি প্রায় ৪০ কিমি পথ পর্যন্ত দেহ পৌঁছে দেওয়ার জন্য ৩ হাজার টাকা চান। তাঁরা ১৫০০/- টাকা দিতে চাইলে, হাসপাতাল চত্বরের কোনও অ্যাম্বুলেন্স চালকই দেহ পৌছে দিতে রাজি হননি। জয়কৃষ্ণ বাবুর কথায়, বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে তিনি জানান। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে জানান, হাসপাতাল থেকে
অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা দেওয়ার কোনও ব্যবস্থা নেই। সকলকে অনেক অনুরোধ করেও কেউ সাড়া দেননি। অগত্যা লক্ষ্মীরানীর ছেলে মায়ের মৃতদেহ কাঁধে নিয়ে বাড়ির উদ্দশ্যে রওনা দেন। এক কিমি পথ পেরিয়ে যাওয়ার পর ‘জলপাইগুড়ি গ্রীন’ নামের এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার একটি অ্যাম্বুলেন্স দেহটি গ্রামে পৌঁছে দেয় বলে উল্লেখ।
জলপাইগুড়ি গ্রীন-এর সাধারণ সম্পাদক অঙ্কুর দাস জানান, “সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে অ্যাম্বুল্যান্স অ্যাসোসিয়েশন বাইরের অ্যাম্বুল্যান্স চালকদের হাসপাতালের ভিতরে ঢুকতে দেয় না। প্রশাসনের নাকের ডগায় ওখানে ওরা দাদাগিরি করছে। চাহিদা মতো টাকা না দিলে ওরা এদের মত সাধারণ মানুষদের পরিষেবা দেওয়ার পরিবর্তে চরম হয়রানি করছে।”
জলপাইগুড়ি শহরবাসীর অভিযোগ, “জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের বাইরে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালকদের দৌরাত্ম বাড়ছে।” নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ীর কথায়, “এতটা অমানবিক হতে পারে মানুষ তা ভাবনার বাইরে! ওঁরা ওঁৎ পেতে থাকে কখন সুযোগ বুঝে কোপ মারবে!”




