পারিজাত গঙ্গোপাধ্যায় ★ সাশ্রয় নিউজ : ওভালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট ম্যাচে ভারতের তরুণ ওপেনার যশস্বী জয়সওয়ালের (Yashasvi Jaiswal) ব্যর্থতা আবারও প্রশ্ন তুলে দিল তাঁর ধারাবাহিকতা নিয়ে। বৃহস্পতিবার মাত্র ২ রানে প্যাভিলিয়নে ফেরার পর ক্রিকেট মহলে শুরু হয়েছে আলোচনা, কী হচ্ছে যশস্বীর সঙ্গে? কোথায় সমস্যা? তাঁর এই হঠাৎ ছন্দ পতনের পেছনে কী কোনও কারিগরি ত্রুটি লুকিয়ে আছে? কিংবদন্তি ক্রিকেটার সুনীল গাওস্কর (Sunil Gavaskar) দিয়েছেন এক স্পষ্ট বিশ্লেষণ।

শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। হায়দরাবাদ টেস্টে ২০৯ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলে যশস্বী বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি টেস্টের মঞ্চেও নিজেকে প্রমাণ করতে প্রস্তুত। কিন্তু পরবর্তী ইনিংসগুলোয় তাঁর পারফরম্যান্স প্রশ্ন তুলেছে, তিনি কি আত্মবিশ্বাস হারাচ্ছেন?ওভালে মেঘলা আবহাওয়ায় বল সুইং করছিল বেশ ভাল মতোই। এমন পরিস্থিতিতে আত্মবিশ্বাসের অভাব যেন আরও প্রকট হয়ে উঠল যশস্বীর ব্যাটিংয়ে। মাত্র দু’টি রান করে গাস অ্যাটকিনসনের (Gus Atkinson) বলেই এলবিডব্লু (LBW) হয়ে ফিরলেন। সেখানেই তাঁর ব্যাটিংয়ের বেশ কিছু দুর্বলতা চোখে পড়েছে গাওস্করের। ‘পা এগোচ্ছে না, কাঁধ ঘুরছে ভুল দিকে’ স্পষ্ট ভাষায় বললেন গাওস্কর (Sunil Gavaskar)
এদিন একটি স্পোর্টস চ্যানেলে ধারাভাষ্য দেওয়ার সময় গাওস্কর স্পষ্ট বলেন, ‘যশস্বীর ফ্রন্ট ফুট ঠিক জায়গায় যাচ্ছে না। বাঁ দিকের কাঁধও ঘুরছে দ্বিতীয় স্লিপের দিকে, যা আদৌ ঠিক নয়। এতে ব্যাট সোজা নামানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে। ওর আত্মবিশ্বাস কিছুটা কমেছে বলেই মনে হচ্ছে। ও যতটা দক্ষ, ততটা আত্মবিশ্বাসে দেখা যাচ্ছে না। প্রথম টেস্টের শতরানের পর আর ওকে খুব স্বচ্ছন্দ মনে হয়নি।’ কেবল সমস্যা চিহ্নিত করেই থেমে থাকেননি গাওস্কর, দিয়েছেন সমাধানের পরামর্শও। তাঁর মতে, ‘ওর (যশস্বী) উচিত অনুশীলনের সময় অভিজ্ঞ কাউকে পাশে রেখে আলোচনা করা। কীভাবে পা এগোবে, কাঁধ কতটা ঘুরবে, এসব ছোট ছোট কারিগরি বিষয় বুঝে নিতে হবে। যদি বাঁ কাঁধটা উইকেটকিপার আর প্রথম স্লিপের মাঝখানে থাকে, তাহলে ব্যাট সোজা নামানো আরও সহজ হবে।’

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, যশস্বীর শেষ ক’য়েকটি ইনিংসের পরিসংখ্যানই বলছে, ফর্মে বড়সড় ওঠানামা চলছে। প্রথম টেস্টে ২০৯-এর পর দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৪। দ্বিতীয় টেস্টে আবার প্রথম ইনিংসে ৮৭ করলেও, পরের ইনিংসে মাত্র ২৮। তৃতীয় টেস্টে করেন ১৩ ও ০। চতুর্থ টেস্টের প্রথম ইনিংসে কিছুটা ফিরে এলেন ঠিকই (৫৮), কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে আবার শূন্য। সবশেষে ওভালে ২ রান। এই ফর্ম ওঠানামা যে তাঁর আত্মবিশ্বাসে প্রভাব ফেলছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, যশস্বীর ব্যাটিংয়ে যথেষ্ট প্রতিভা ও সাহস আছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাফল্যের জন্য দরকার মানসিক দৃঢ়তা ও ধারাবাহিক ফোকাস। সেই জায়গাতেই হয়তো আপাতত কিছুটা ঘাটতি দেখা দিচ্ছে তরুণ এই বাঁ-হাতির খেলায়। অন্যদিকে, আধুনিক ক্রিকেটে প্রতিপক্ষ বোলাররা প্রতিনিয়ত ব্যাটারের দুর্বলতা বিশ্লেষণ করে ফাঁদ পাতেন। একবার কোনও খেলোয়াড়ের ফর্মে ভাটা পড়লে, সেটাকে ধরে আরও চাপে ফেলা হয়। যশস্বীর ক্ষেত্রেও সেটাই ঘটছে। বিশেষ করে সুইং ও ইনসুইং বলের সামনে তাঁর অনিশ্চয়তা বোলারদের হাতে বাড়তি অস্ত্র তুলে দিচ্ছে। গাওস্করের মতো অভিজ্ঞরা যেমন এই ছোট ছোট টেকনিক্যাল বিষয়ে আলোকপাত করছেন, তেমনই মানসিক প্রস্তুতির দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন অনেকেই। চাপ ও প্রত্যাশার ভারে তরুণ ক্রিকেটাররা প্রায়শই নিজেদের সেরা খেলাটা দিতে পারেন না। যশস্বী সেই পর্যায়ে পৌঁছনোর মুখে দাঁড়িয়ে, যেখানে তাঁকে নিজের ভুল খুঁজে বের করে শুধরে নেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

এখনও পর্যন্ত যশস্বীর ব্যাটিংয়ের মধ্যে যে আগ্রাসী ভঙ্গিমা ও ইতিবাচক মানসিকতা দেখা গিয়েছে, তাতে কেউই সন্দেহ করেন না যে তিনি ভবিষ্যতে দলের অন্যতম স্তম্ভ হয়ে উঠবেন। কিন্তু সেই রাস্তায় পৌঁছনোর জন্য দরকার সময় ও উপযুক্ত গাইডেন্স। যেমনটি বলছেন গাওস্কর, তেমন কোনও অভিজ্ঞ কোচ বা মেন্টরের সাহায্যে যশস্বী যদি এই মুহূর্তের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তার সমাধান করতে পারেন, তবে খুব তাড়াতাড়ি ফিরতে পারবেন পুরনো ছন্দে।সবচেয়ে বড় কথা, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ওঠানামা হতেই পারে। একাধিক বিশ্বখ্যাত ব্যাটারকেও কেরিয়ারের প্রথম দিকে এমন পর্বের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, তারা সেখান থেকে কীভাবে ফিরেছেন? যশস্বীর কাছেও সেই সুযোগ রয়েছে। এখন দেখার, তরুণ এই প্রতিভা গাওস্করের পরামর্শ কতটা কাজে লাগাতে পারেন।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Supaul Crime, Woman Forced Marriage | স্ত্রীর সঙ্গে ভাইপোর বিয়ে! কাকার অবিশ্বাসের জেরে বিহারে রাস্তায় তাণ্ডব




